সঙ্গীত জগতে উদ্বেগের খবর। আচমকাই অসুস্থ হয়ে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি ৯২ বছর বয়সি কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী। ১১ এপ্রিল, শনিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাঁকে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই উদ্বিগ্ন ভক্তরা। এই মুহূর্তে ইর্মাজেন্সি কেয়ার ইউনিটে রেখে চিকিৎসকরা কড়া পর্যবেক্ষণে রেখেছেন আশাকে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, তাঁর শারীরিক অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক। আশা ভোঁসলের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছে তাঁর অগণিত অনুগামীরা। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, চিকিৎসক প্রতীত সমদানির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন আশা ভোঁসলে।
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাঁকে। বাড়িতে হঠাৎ মাথা ঘোরা ও শারীরিক অস্বস্তির কথা জানানোর পরই সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দ্রুত তাঁকে আইসিইউ-তে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। শিল্পীর বাড়ির গৃহকর্মীকে শরীরের অস্বস্তি ও মাথা যন্ত্রণার কথা বলার সময়ই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। জানা গিয়েছে, খুব শীঘ্র হাসপাতাল থেকে মেডিক্যাল বুলেটিন প্রকাশ করে গায়িকার শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত জানানো হতে পারে।
ইর্মাজেন্সি কেয়ার ইউনিটে রেখে চিকিৎসকরা কড়া পর্যবেক্ষণে রেখেছেন আশাকে। বলিউড সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, তাঁর শারীরিক অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক।
প্রথমে যখন আশা ভোঁসলের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর সামনে আসে, তখন জানা গিয়েছিল যে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণেই তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু তাঁর নাতনি জানাই ভোঁসলে সোশাল মিডিয়ায় একটি আপডেট দিয়েছেন। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, 'ক্লান্তি এবং বুকে সংক্রমণের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আমার ঠাকুমা আশা ভোঁসলে। আমরা অনুরোধ, আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান করুন। চিকিৎসা চলছে তাঁর। আশা করি সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। আগামী দিনে যা ঘটবে, আমরা আপনাদের জানাব।' উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগেও মুম্বইয়ে একটি অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছিল আশাকে।
হৃদরোগে আক্রান্ত আশা ভোঁসলে
আশা ভোঁসলে হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের এক কিংবদন্তি গায়িকা। ১৯৪৩ সাল থেকে প্রায় আট দশকব্যাপী তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি হিন্দি-সহ বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় গান গেয়েছেন। অসংখ্য ছায়াছবির গান ও অ্যালবাম রেকর্ড করেছেন, যা তাঁকে এনে দিয়েছে জনপ্রিয়তা ও স্বীকৃতি। ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত তিনি মোট সাতবার ফিলমফেয়ার সম্মানে ভূষিত হন। তবে তিনি জানান, তাঁর নাম যাতে আর এই বিভাগে বিবেচনা না করা হয়। ২০০১ সালে 'ফিলমফেয়ার আজীবন সম্মাননা পুরস্কার' পান তিনি।
সঙ্গীতজগতে তাঁর অসাধারণ অবদানের জন্য ২০০০ সালে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে ভূষিত হন। এছাড়াও, ২০০৮ সালে তিনি পান দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মভূষণ। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছেন। ১৯৯৭ সালে তিনি গ্র্যামি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। সঙ্গীতজীবনে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১১ সালে আশা ভোঁসলের নাম গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত হয়। বিশ্বের ইতিহাসে সর্বাধিক (১৯টি বা তার বেশি ভাষায় ১১ হাজারের বেশি গান) স্টুডিও রেকর্ডিং করা শিল্পী হিসাবে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। ২০২৩ সালে নিজের ৯০তম জন্মদিন উপলক্ষে দুবাইয়ে পারফর্ম করে ভক্তদের মুগ্ধ করেছিলেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।
