shono
Advertisement
Prosenjit Chatterjee

'না জানিয়ে কারও উদ্দেশ্যে পোস্ট করা উচিত নয়', 'ব্যান' প্রসঙ্গে দেবকে খোঁচা প্রসেনজিতের

১২ এপ্রিল রবিবার ফের রাহুল ও সুরক্ষাবিধি সংক্রান্ত বিষয়ে ফোরামের অবস্থান পুনরায় পর্যালোচনার জন্য আরও একটি জরুরি সভার ডাক দেওয়া হয়েছিল। বৈঠক শেষে কী জানালেন প্রসেনজিৎ?
Published By: Kasturi KunduPosted: 05:06 PM Apr 12, 2026Updated: 05:08 PM Apr 12, 2026

৭ এপ্রিল মঙ্গলবার অভিনেতা, থিয়েটার শিল্পী, লেখক-বক্তা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে আর্টিস্ট ফোরামের তরফে একটি জরুরি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। ১২ এপ্রিল রবিবার ফের রাহুল ও সুরক্ষাবিধি সংক্রান্ত বিষয়ে ফোরামের অবস্থান পুনরায় পর্যালোচনার জন্য আরও একটি জরুরি সভার ডাক দেওয়া হয়েছিল। বৈঠক শেষে সংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আর্টিস্ট ফোরামের সভাপতি শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় বলেন, "সম্প্রতি যে ঘটনাটা ঘটেছে সেটা নিয়ে আমারা প্রত্যেকে খুব ভীত হয়ে পড়েছি। আমাদের যে কোনও সদস্য যে কোনও সময় বিপদের মুখে পড়তে পারে, এমনকী জীবনহানি পর্যন্ত ঘটতে পারে। তাই আমরা জানিয়েছি কাজ করতে ভয় পাচ্ছি। এই ভয়টা দূর করে সুস্থ পরিবেশে কাজ করার জন্যই আলোচনা করা হচ্ছে।"

Advertisement

সহ সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "৭ এপ্রিলের মিটিংয়ে আমরা প্রত্যেকে সামিল হয়েছিলাম একটাই উদ্দেশে, রাহুলের মৃত্যুর সঠিক বিচার আর প্রত্যেক শিল্পী, টেকনিশিয়ান সহ যাঁরা এই পেশায় নিযুক্ত তাঁদের যথাযথ সুরক্ষা প্রদান। আমি যদি ফোরামের সঙ্গে যুক্ত নাও থাকতাম তাহলেও রাহুলের এই ঘটনায় আমি একা ওঁর পাশে দাঁড়াতাম। কিন্তু, সংগঠন দিনরাত এই পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করছে।"

তাঁর মতে,  "রাহুলের মৃত্যুর ১৪ দিন পরও জানতে পারলাম না আমাদের পরিবারের সদস্য কীভাবে শুটিং করতে গিয়ে আর ঘরে ফিরল না। সেই উত্তরের জন্য অনেকগুলো ধাপ পেরিয়েছি। টেলিভিশন-সিনেমার প্রযোজকদের সঙ্গে আলোচনা করে যে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে সেগুলো আগামী সাত থেকে দশদিনের মধ্যে কার্যকরী হয়ে যাবে। এছাড়াও আরও একটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এই মুহূর্তে দুটি ধারাবাহিক বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর ফলে যাঁরা কর্মহীন তাঁদের মধ্যে যদি কয়েকজনকেও কোনও না কাজে ফেরানো যায় তা নিয়ে প্রযোজকদের সঙ্গে কথা বলছি।"

প্রসেনজিৎ বলেন, "৭ এপ্রিলের মিটিংয়ে আমি দাদা হিসেবে দেবকে বলেছিলাম এখন সকলে রাহুলকে নিয়ে আবেগপ্রবণ, এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে কথাটা না বলে কয়েকদিন বাদে বলতে। কোনও ঘণ্টার চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ক্ষমতা বা যোগ্যতা আমার আছে বলে মনে করি না।"

অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা ভাগ করে বলেন, "আড়াই বছর আগের ঘটনা। প্রতি পুজোয় একটা করে আমার ছবি মুক্তি পায়। ৯৯ শতাংশ ছবি দর্শক পছন্দ করে। অটোগ্রাফের পর দর্শকের ভালোবাসা বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। দীর্ঘ ৪৫ বছর ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি, সাড়ে চারশোর বেশি ছবিতে কাজ করেছি। এই টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে সকালে মেকআপ ভ্যানে এসেছি তারপর আমার ছবিটাকে হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হল। কারণটা হয়তো অন্য ছিল।"

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "আমি যদি ফোরামের সঙ্গে যুক্ত নাও থাকতাম তাহলেও রাহুলের এই ঘটনায় আমি একা ওঁর পাশে দাঁড়াতাম। কিন্তু, সংগঠন দিনরাত এই পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করছে।"

অভিনেতার সংযোজন, "আমার ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায় দু'হাজার সদস্য আছে, আমার শিল্পীরা আছেন কিন্তু, কেউ আমাকে প্রশ্ন করেননি বুম্বাদা তোমার মনের অবস্থাটা কী? আমি যখন কোনও চরিত্র করতে আসি তখন তিনমাস ধরে সেই চরিত্রটাকে যাপন করি। চার-পাঁচদিন অপেক্ষা করে কলকাতার বাইরে চলে গিয়ে নিজের সঙ্গে নিজে লড়াই করেছি। আজ রাহুল আমাদের একটা জিনিস বুঝিয়ে দিল পরবর্তী প্রজন্ম যাঁরা আগামী দিনে যাঁরা কাজ করবেন তাঁদের কাছে আবেগ একটা বিরাট জায়গা দখল করে থাকবে।"

রবিবাসরীয় বৈঠকে উঠে এসেছে দেবের ৭২ ঘণ্টা প্রসঙ্গ উত্থাপন করে প্রসেনজিৎ বলেন,  "৭ এপ্রিলের মিটিংয়ে আমরা প্রত্যেকে সামিল হয়েছিলাম একটাই উদ্দেশে, রাহুলের মৃত্যুর সঠিক বিচার আর প্রত্যেক শিল্পী, টেকনিশিয়ান সহ যাঁরা এই পেশায় নিযুক্ত তাঁদের যথাযথ সুরক্ষা প্রদান। সেদিন প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল তখন বিষয়টা উত্থাপন করা হয়। আমি দাদা হিসেবে বলেছিলাম এখন সকলে রাহুলকে নিয়ে আবেগপ্রবণ, এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে কথাটা না বলে কয়েকদিন বাদে বলতে। কোনও ঘণ্টার চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ক্ষমতা বা যোগ্যতা আমার আছে বলে মনে করি না।"

রবিবাসরীয় বৈঠকে উঠে এল কী কী প্রসঙ্গ?

অনির্বাণের জন্য দেব যে পদক্ষেপটা দেব নিয়েছেন সেক্ষেত্রে রিদ্ধি প্রসঙ্গও তুলেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর মতে, "বিষয়গুলো প্রায় দেড় থেকে দুবছর ধরে চলছে। জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। আমাদের ফোরাম এবং আমি, রঞ্জিতদা তখনও ছিলাম। একটা জেনারেল মিটিং করে সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজতে পারতাম। হয় আন্দোলনের মাধ্যমে না হলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করা যেত। সোশাল মিডিয়ায় যাঁর উদ্দেশ্যে কিছু পোস্ট করা হচ্ছে আমার মনে হয় তাঁকে একবার জানানো উচিত। এটা ব্যক্তিগতভাবে আমার খারাপ লেগেছে। সবচেয়ে বড় কথা এই বিষয়টা ফেডারেশনের কাছে উত্থাপন করা উচিত ছিল। পাবলিক ফোরামে এই ধরনের ৭২ ঘণ্টার চ্যালেঞ্জ কতটা যুক্তিসঙ্গত আমি জানি না।" 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement