আমির খানের তৃতীয় বিয়ে নিয়ে উত্তাল আসমুদ্রহিমাচল! সম্প্রতি পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধবদের সাক্ষী রেখে 'স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট'-এ গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে আইনি বিয়ে সেরেছেন ষাটোর্ধ্ব সুপারস্টার। মায়ানগরীর সেলেবপাড়া থেকে অনুরাগীমহলে যখন সেই বিয়ে নিয়ে চর্চার অন্ত নেই, তখন এমন আবহে সরগরম রাজনৈতিকমহল। কেন বারবার হিন্দু নারীর সঙ্গেই বৈবাহিক সম্পর্ক? প্রশ্ন তুলে বলিউড অভিনেতার বিরুদ্ধে 'লাভ জেহাদ'-এর অভিযোগ এনেছে বজরং দল। আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপি, শিব সেনার নেতারাও। শরিয়াত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মুসলিম পার্সোনাল দারুল ইফতার ফতোয়ার মুখেও পড়তে হয়েছে আমির খানকে। এবার বলিউডের ষাটোর্ধ্ব সুপারস্টারের মাথার দাম ঘোষণা করলেন অযোধ্যার ধর্মগুরু।
মন্ত্রী নীতেশ রানের মন্তব্যকে সমর্থন করে আমির খানকে 'লাভ জেহাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর' বলে কটাক্ষ করলেন অযোধ্যার আধ্যাত্মগুরু জগৎগুরু পরমহংস আচার্য। 'তপস্বী ছাওনি'র পীঠাধীশ্বরের মন্তব্য, "লাভ জেহাদের বিস্তার ঘটাতেই বারবার হিন্দু নারীকে বিয়ে করেন আমির।..."
লাগাতার কটাক্ষ, সমালোচনার ঝড়ের মাঝে যদিও বুধবার আমির জানিয়েছেন যে, তাঁর আগের দুই স্ত্রী হিন্দু ধর্মাবলম্বী হলেও তৃতীয় স্ত্রী গৌরী আদতে খ্রিস্টান, তবে তাতেও বিতর্ক থামার নাম নেই। 'মিস্টার পারফেকশনিস্ট'-এর বিরুদ্ধে ওঠা লাভ জেহাদ ইস্যু ক্রমাগত দাবানলের আকার ধারণ করছে। এমন আবহেই মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নীতেশ রানের মন্তব্যকে সমর্থন করে আমির খানকে 'লাভ জেহাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর' বলে কটাক্ষ করলেন অযোধ্যার আধ্যাত্মগুরু জগৎগুরু পরমহংস আচার্য। 'তপস্বী ছাওনি'র পীঠাধীশ্বরের মন্তব্য, "লাভ জেহাদের বিস্তার ঘটাতেই বারবার হিন্দু নারীকে বিয়ে করেন আমির। তিনটি বিয়ে, তিনজনই হিন্দু নারী, তাই নীতেশ রানে ভুল কিছু বলেননি। বরং বাস্তবটাই তুলে ধরেছেন। এই ধরণের মানুষদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। লাভ জেহাদের প্রচার করে এরা আদতে সমাজের ক্ষতি করছে।" এরপরই বলিউডের ষাটোর্ধ্ব সুপারস্টারকে খুনের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেন তিনি।
আমির-গৌরীর বিয়ে নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে।
"'লাভ জেহাদ'-এর প্রচার করা ১০০-২০০ জনকে নিকেশ করতে পারলেই সমূলে এর বীজ উৎপাটিত হবে।"
সংবাদসংস্থা আইএএনএস-এর মুখোমুখি হয়ে জগৎগুরু পরমহংস আচার্য বলেন, "আমি, জগৎগুরু পরমহংস আচার্য রামলালার পবিত্র জন্মভূমি অযোধ্যা ধাম থেকে 'তপস্বী ছাওনি'র পীঠাধীশ্বর হিসেবে ঘোষণা করছি, যে আমির খানকে খুন করতে পারবে, তাকে ৫ কোটি টাকা পুরস্কার দেব। পাশাপাশি ওই ব্যক্তির আইনি লড়াইয়ের যাবতীয় দায়ভারও বহন করব। আমার ধারণা, 'লাভ জেহাদ'-এর প্রচার করা ১০০-২০০ জনকে নিকেশ করতে পারলেই সমূলে এর বীজ উৎপাটিত হবে।"
'মিস্টার পারফেকশনিস্ট'-এর তৃতীয় বিয়ের পর বিহারের ফোরবেসগঞ্জ এলাকায় প্রথম বিক্ষোভ প্রদর্শন করে বজরং দল। সেখানেই 'লাভ জেহাদ'-এর অভিযোগ তুলে অভিনেতার কুশপুতুল জ্বালায় বিক্ষোভকারীরা। বজরং দলের সদস্যদের মুখে 'আমির খান মুর্দাবাদ', 'জেহাদি, আমির খান ভারত ছাড়ো'র মতো স্লোগানও শোনা যায়। বজরং দলের হুমকি, "এই ধরনের অপকর্ম যদি শীঘ্রই বন্ধ না করেন, তবে ওঁকে উচিত শিক্ষা দেওয়া হবে।" উল্লেখ্য, আমির খান ১৯৮৬ সালে প্রথম রীনা দত্তকে বিয়ে করেন। ২০০২ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর ২০০৫ সালে পরিচালক কিরণ রাওকে বিয়ে করেন অভিনেতা। তবে ২০২১ সালে তাঁরাও অজ্ঞাতকারণে ডিভোর্সের পথে হাঁটেন। এবার ছাব্বিশ সালের জুলাইয়ে নিজের মুম্বইয়ের বাসভবনে গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে আইনি বিয়ে সারেন অভিনেতা। দুই প্রাক্তন এবং আমিরের বর্তমান স্ত্রী সকলেই হিন্দু। আর সেই প্রেক্ষিতেই বিপাকে পড়েছেন 'মিস্টার পারফেকশনিস্ট'।
