আমেরিকায় বসেছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) আসর। যে মহাযজ্ঞের আঁচ ভারতীয় ফুটবলের মক্কা কলকাতাতেও। প্রিয় দলের জার্সি গায়ে রাত জেগে গলা ফাটাচ্ছেন টলিপাড়ার তারকারাও। তার মাঝেই ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ নিয়ে নিজেদের অনুভূতির কথা জানালেন সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে। আজ কলম ধরলেন ঈশান মজুমদার।
ছোটবেলা থেকেই আমাদের বাড়িতে ফুটবলের একটা পরিবেশ রয়েছে। আমার বাবা যাদবপুরে এক্স ফুটবলার অ্যাসোসিয়েশন তৈরিতে বিরাট ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি এই অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বলাই যায়। তাছাড়া বাবা নিজে একজন ফুটবলার। বহুবার আমাদের পাড়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বাইরে বিভিন্ন জায়গায় খেলতেও যেতেন। তবে এখন আর সেভাবে খেলতে পারেন না।
ঈশান মজুমদার
আমার এক কাকা টাটা স্টিলের হয়ে ফুটবল খেলতেন। তাই আমাদের বাড়িতে ফুটবলের একটা আলাদা মহিমা রয়েছে। পরিবারের এক পক্ষ আর্জেন্টিনা অপর পক্ষ ব্রাজিলের সমর্থক। ছোটবেলা থেকেই খেলা দেখার অভ্যেস, এখনও সেটা বদলায়নি। আমাদের স্কুলেও ফুটবল নিয়ে একটা ব্যাপক উত্তেজনা ছিল। কে কোন দলের সমর্থক সবসময়ই আমরা একে অপরকে জিজ্ঞাসা করতাম। প্রতিটি দলের খেলা নিয়ে আমাদের মধ্যে চর্চাও হত।
ঈশানের নজরে সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়
আমি বরাবরই আর্জেন্টিনার সমর্থক। আমার অন্যতম প্রিয় খেলোয়াড় মারাদোনা। উনি ছিলেন, আছেন আর থাকবেন। রাত জেগে ফুটবল দেখা এটা আমাদের রক্তে। তবে বাবারা যখন আগে রাত জেগে খেলা দেখতেন তার আগে বাড়িতে একটা সাজ সাজ রব। সেসময় আমি অবশ্য অনেকটাই ছোট। কিন্তু, যখন দেখতাম দুপুর, সন্ধ্যা আর রাতে রান্নাবান্না, খাওয়াদাওয়ার আয়োজন হচ্ছে তখনই বুঝে যেতাম আজ রাত জেগে খেলা দেখার পরিকল্পনা রয়েছে।
মারাদোনা ম্যাজিক
আর সেটা যদি ব্রাজিল ভার্সেস আর্জেন্টিনার ম্যাচ হত তাহলে তো সকলের মধ্যে একটা চাপা উন্মাদনা কাজ করত। অনেক সময় সেটা ইংল্যান্ড, মেক্সিকো বা অন্য কোনও হাইভোল্টেজ ম্যাচের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য ছিল। ফুটবলপ্রেমীদের ভিড়ে বড় হওয়া। ফুটবল ঘিরে আনন্দ-আয়োজন দেখেই কৈশোর থেকে যৌবন পেরিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গেলাম। এখনও একইরকম ভাবে রাত জেগেই খেলা দেখি। যদিও শুটিংয়ের জন্য সব খেলা দেখা হয় না। তবে আজ রাতে আর্জেন্টিনার ম্যাচ তো দেখবই। মেসির জন্য গলা ফাটাব। আর আর্জেন্টিনার ফ্যান হিসেবে চাইব এবারও তারাই ফাইনালে পৌঁছে চ্যাম্পিয়ন হোক।
ফুটবলপ্রেমী ঈশান
