২০১৯ সালে জিতেছিলেন 'মিস ইন্ডিয়া আর্থ'র সেরার শিরোপা। জীবনটা হতেই পারত অন্যরকম। কিন্তু তা হয়নি। কেরিয়ারের বদলে ভালোবাসাকে বেছে নিয়েই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সায়েলী সুর্বে। হিন্দু পরিবারের মেয়েটির প্রেমিক ছিল মুসলিম। পরিবারের শত আপত্তি সত্ত্বেও ভালোবাসার টানে প্রেমিকের সঙ্গে ঘর ছেড়েছিলেন সায়েলী। চোখে ছিল হাজারটা স্বপ্ন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই স্বপ্নপূরণ তো হয়নি বরং ঘটে ছন্দপতন। সত্যিটা সামনে আসে ধীরে ধীরে। এককথায় লাভ জেহাদের শিকার হন একসময়ে সেরা সুন্দরীর খেতাব জেতা সায়েলী। দীর্ঘদিন এই গুরুতর সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে সহ্যের বাধ ভেঙেছে তাঁর। এই নিয়ে সংবাদমাধ্যমে মুখও খুলেছেন তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলন করে সকলের সঙ্গে এই ঘটনা ভাগ করে নিয়েছেন সায়েলী। তিনি বলেন, "২০১৭ সালে আতিফ তাসের সঙ্গে এক বন্ধু মারফত আলাপের পর প্রেমের সম্পর্কের সূত্রপাত। বিয়ের পর আমার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় আতেজা তাসে। আমার পরিবার এই সম্পর্ক কখনওই মেনে নেয়নি। আমি তাঁদের বিরুদ্ধে গিয়ে আতিফকে বিয়ে করি। বিয়ের আগে আমার ধর্ম পরিবর্তন করানো হয়। কারণ নিকাহ করতে গেলে ধর্মান্তরিত হওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। এরপর যখন ২৪ ঘণ্টা একটা মানুষের সঙ্গে থাকা শুরু করি তখন তাঁর সম্পর্কে অনেকটা জানতে শুরু করি। যেটা খুব স্বাভাবিক। বুঝতে পারি ধীরে ধীরে, ওর পরিবার সম্পর্কেও ধারণা পরিষ্কার হতে শুরু করে। একটা ভুল বিয়ে আমার জীবন ধ্বংস করে দেয়। সারাদিন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হত আমাকে। এমনকী মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারের শিকারও হয়েছি আমি। ভেবেছিলয়াম সময়ের সঙ্গে কিছু হয়তো পালটাবে। আমার বাচ্চাদের কথা ভেবেই এই বিয়ে থেকে বেরিয়ে আসতে চাইনি। কিন্তু দেখলাম আমাকে লাগাতার এই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে এবং আমার বাচ্চাদের জন্য তা একেবারেই ভালো হচ্ছে না। যে পরিবেশে ওরা বড় হচ্ছে তা ওদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই সব ছেড়ে চার সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে আমি সংসার ত্যাগ করি।"
সায়েলী বলেন, " বিয়ের পর আমার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় আতেজা তাসে। আমার পরিবার এই সম্পর্ক কখনওই মেনে নেয়নি। আমি তাঁদের বিরুদ্ধে গিয়ে আতিফকে বিয়ে করি। বিয়ের আগে আমার ধর্ম পরিবর্তন করানো হয়। কারণ নিকাহ করতে গেলে ধর্মান্তরিত হওয়া বাধ্যতামূলক ছিল।"
সায়েলী আরও বলেন, "সবাই আমাকে বলেন, আমি নিজে আমার এই জীবন বেছে নিয়েছি। তাহলে এখন এত অভিযোগ কেন? আমি একটাই কথা বলতে চাই, আমি যখন এমনটা করেছিলাম তখন আমার এতটা ভাবনাচিন্তা করার মতো বুদ্ধি ছিল না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবটা বুঝতে পেরেছি। আমি এই বিয়েটা থেকে আমার সন্তানদের নিয়ে বেরিয়ে আসার পর ফের হিন্দুধর্মে দীক্ষিত হয়েছি। নিজের মতো করেই বড় করে তুলবো এবার আমার সন্তানদের।" হিন্ধু ধর্মে ফেরার পর সায়েলীর নতুন নামকরণ হয়। নাম হয় আদ্যা। উল্লেখ্য, সায়েলীর এই ঘটনা যেন বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে সাম্প্রতিককালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'দ্য কেরালা স্টোরি ২'র কথা। এই ছবিতেও একইভাবে তুলে ধরা হয়েছে লাভ জেহাদের ঘটনা। যা ঘিরে দ্বিধাবিভক্ত হয়েছেন দেশের জনগণ ও সিনেপ্রেমীরাও। তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক। আর এবার রিল নয় রিয়েলেই উঠে এল দৃষ্টান্তমূলক ঘটনা।
