আইন ভেঙে শুটিং করায় তোপের মুখে 'ধুরন্ধর' (Dhurandhar) পরিচালক আদিত্য ধর। মঙ্গলবারই বলিউডের ব্লকবাস্টার পরিচালকের সংস্থার বিরুদ্ধে ডেপুটি মিউনিসিপ্যাল কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন বিএমসি আধিকারিকরা। বিএমসির পর এবার আদিত্য ধরের সংস্থার বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়াকার্স অ্যাসোসিয়েশন! একাধিকবার সংগঠনের তরফে সতর্ক করা সত্ত্বেও কেন আইন লঙ্ঘন করে শুটিং হল? 'ধুরন্ধর' পরিচালকের কাছে জবাব চাইল AICWA।
"বহু বছর ধরে আমাদের সংগঠন সতর্ক করে আসছে যে, শুটিং সেটে যেন কলাকুশলী, শিল্পীদের সুরক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়। কিন্তু অনেক প্রযোজনা সংস্থাই সেসব আইনি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে চলেছে। এই ধরনের চরম অবহেলার জন্য প্রতি বছর ক'জন কলাকুশলীরা প্রাণ হারান। আবার অনেকে অগ্নিকাণ্ড কিংবা সেট ভেঙে পড়ার কারণে গুরুতর আহত হন।"
আগামী ১৯ মার্চ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আলো দেখতে চলেছে আদিত্য ধর পরিচালিত তথা রণবীর সিং অভিনীত ব্লকবাস্টার সিনেমা 'ধুরন্ধর'-এর দ্বিতীয়ভাগ। তবে পয়লা ঝলকে উন্মাদনার পারদ চড়ালেও এবার বড়সড় আইনি জটিলতার সম্মুখীন আদিত্য ধরের প্রযোজনা সংস্থা। সিনেমা রিলিজের প্রাক্কালে আদিত্যর প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে একযোগে অভিযোগ তুলল বৃহন্মুম্বই পুরসভা এবং অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়াকার্স সংগঠন। খবর, ‘ধুরন্ধর ২’-এর শুটিং চলাকালীন একাধিকবার আইন লঙ্ঘন করেছে আদিত্য ধরের টিম। আর সেই প্রেক্ষিতেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে মুম্বই পুরসভা। ঠিক কী কী অভিযোগ উঠেছে? গত ৩০ জানুয়ারি থেকে দক্ষিণ মুম্বইয়ের ব্যস্ত ফোর্ট এলাকায় ‘ধুরন্ধর’-এর দ্বিতীয়ভাগের শুটিং চলছিল জোরকদমে। পাকিস্তানের লিয়ারি শহরের অনুকরণে সেট সাজানো হয়েছে সেই চত্বরে। আর সেই কর্মযজ্ঞ চলাকালীনই পরিচালক আদিত্যর টিমের বিরুদ্ধে বিনা অনুমতিতে ড্রোন চালিয়ে শুটিং করার অভিযোগ তুলেছিল মুম্বই পুলিশ। যার জেরে লোকেশন ম্যানেজারের বিরুদ্ধে সম্প্রতি এমআরএ মার্গ থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। এদিকে মঙ্গলবার বৃহন্মুম্বই পুরসভার আধিকারিকদের অভিযোগ, "পুরসভাকে না জানিয়ে বারবার শুটিংয়ের স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। রান্নার জন্য সেটে গ্যাস সিলিন্ডারও ব্যবহার করা হয়েছে। ফলত যে কোনও সময়ে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।" সেই প্রেক্ষিতেই এবার ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সরব বলিউড সংগঠন AICWA।
'ধুরন্ধর' ছবিতে রণবীর সিং, ছবি - সোশাল মিডিয়া
অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়াকার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফে আদিত্য ধরের সংস্থাকে তীব্র ভর্ৎসনা করে বলা হয়েছে, "যে কোনরকম পরিস্থিতিতে শিল্পী, টেকনিশিয়ানদের জীবন এবং নিরাপত্তার সাথে আপোস করা যাবে না। বহু বছর ধরে আমাদের সংগঠন সতর্ক করে আসছে যে, শুটিং সেটে যেন কলাকুশলী, শিল্পীদের সুরক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়। কিন্তু অনেক প্রযোজনা সংস্থাই সেসব আইনি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে চলেছে। এই ধরনের চরম অবহেলার জন্য প্রতি বছর ক'জন কলাকুশলীরা প্রাণ হারান। আবার অনেকে অগ্নিকাণ্ড কিংবা বৈদ্যুতিক শকে বা সেট ভেঙে পড়ার কারণে গুরুতর আহত হন। গোরেগাঁও ফিল্মসিটি এবং অন্যান্য স্টুডিওগুলিও এহেন বহু মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী।" এরপরই সংগঠনের তরফে জানানো হয়, "আদিত্য় ধরের B62 স্টুডিওর বিরুদ্ধে বৃহন্মুম্বই পুরসভা যে পদক্ষেপ করেছে, আমরা দৃঢ়ভাবে তার সমর্থন জানাচ্ছি। এই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কারণ কোনও প্রযোজনা সংস্থাই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।" অতঃপর 'ধুরন্ধর ২' রিলিজের প্রাক্কালেই যে মহাবিপাকে পড়েছেন আদিত্য ধর, তা বলাই বাহুল্য।
