সায়ক চক্রবর্তীর গোমাংস কাণ্ড এখনও ছাইচাপা আগুনের মতো শহরের বুকে ধিকিধিকি জ্বলছে! রেস্তরাঁর কর্মী জামিনে মুক্তি পেলেও শহর ভুলে যায়নি ধর্মের দোহাই দিয়ে বিভেদ সৃষ্টিকারীদের। অতঃপর সায়কের পাশাপাশি গোমাংসকাণ্ডের দোসর হিসেবে কটাক্ষ, সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে সুকান্ত কুণ্ডু এবং অনন্যা গুহকেও। এবার সোশাল মিডিয়ায় ভিডিও করা নিয়ে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে জোর বাকবিতণ্ডায় জড়ালেন অনন্যা গুহ। ঢিল মারতেই উড়ে এল পালটা পাটকেল! যার জেরে আবারও সরগরম সোশাল পাড়া।
ঠিক কী ঘটেছে? সম্প্রতি এক গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন অভিনেতা রাহুল (Rahul Arunoday Banerjee)। যিনি গোমাংস কাণ্ডের সময় প্রতিবাদী আওয়াজ তুলে সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের কন্টেন্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাবধানী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এবার সেই অভিনেতার ফেসবুকে গাড়ির সমস্যার ভিডিও দেখে পালটা তোপ দাগেন অনন্যা গুহও (Ananya Guha)। ইনফ্লুয়েন্সার লেখেন, "ফেসবুকে ভিডিও করা নিয়ে তো খুব সমস্যা ছিল বলেছিলেন। সঠিক জায়গায় কমপ্লেন করুন। তা বলছি, গাড়ি খারাপ হলে কি ফেসবুকটাকে সার্ভিস সেন্টার ভেবে ফেলেছেন?" যদিও রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামোল্লেখ করেননি তিনি পোস্টে। তবে এই 'ঢিল' যে অভিনেতার উদ্দেশেই সেটা বুঝতে বাকি থাকেনি কারও। সেই পোস্টের মন্তব্য বাক্সে আবার অনন্যার দিদি অলোকানন্দার মন্তব্য, "এত বড় মাপের অভিনেতা হয়েও ভিডিও করে জানাতে হচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রির এত খারাপ অবস্থা! আমাদের নামে মিথ্যে দুটো গল্প বানিয়ে নিজে ভিডিও করে টাকা কামালো। নিজেই একটা দলের হয়ে কথা বলে গেল আমাদের রাঙাতে গিয়ে। ওর গাড়ির না মাথার মেকানিক দরকার আর চরিত্রেরও।" দেদার গতিতে ভাইরাল হওয়া পোস্ট রাহুলেরও নজর এড়ায়নি। পালটা ছেড়ে কথা বললেন না অভিনেতাও।
"কোটি টাকার কোম্পানি। কোনও গরিবকে ধর্ম জিজ্ঞেস করে শুয়োর খাওয়াতে চাইনি। আমি নব্বইটা ছবি করেছি ডার্লিং, খাটে বসে বিরিয়ানি খাওয়ার ভিডিও বানাইনি। কাজেই,তফাৎ ছিল আছে থাকবে।"
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, "অনন্যা এত ভীতু কেন তুমি? পোস্ট করার সাহস থাকলে নাম নিয়ে করো। আমি যখন বলছি গাড়ি ৬ মাসে ৪বার খারাপ হয়েছে, গাড়ি অবশ্যই সার্ভিস সেন্টারে গেছে। কিন্তু নতুন গাড়ি এতবার সার্ভিস সেন্টার যাবে কেন আর মানুষ ঠেলবেই বা কেন? আসলে কি জানো অনন্যা আমি কোম্পানির নামে ভিডিও করেছি। কোটি টাকার কোম্পানি। কোনও গরিবকে ধর্ম জিজ্ঞেস করে শুয়োর খাওয়াতে চাইনি। আমি নব্বইটা ছবি করেছি ডার্লিং, খাটে বসে বিরিয়ানি খাওয়ার ভিডিও বানাইনি। কাজেই,তফাৎ ছিল আছে থাকবে।" বলাই বাহুল্য কটাক্ষের জবাবে রাহুল আবারও গোমাংস কাণ্ডের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। যা কিনা দাবানল গতিতে ভাইরাল সোশাল মিডিয়ায়।
