সোমবার দলবিরোধী কাজের অভিযোগে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহিষ্কার করল তৃণমূল। অভিযোগ, দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দেননি তিনি। এমনকী দলবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। একসময়ে ছিলেন বামপন্থী, পরবর্তীতে তৃণমূলে যোগ দিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ পদপ্রাপ্তির পর ভোটে জিতে বিধায়কও হন তিনি। তবে গত দিন কয়েক ধরেই ঋতব্রতকে নিয়ে সরগরম রাজ্য-রাজনীতি। এবার তৃণমূল থেকে 'বহিষ্কৃত' ঋতব্রতকে নিয়ে বিস্ফোরক জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, ফাইল ছবি।
দলের তরফে বহিষ্কার করার পরই ঋতব্রতর বিধায়ক পদ খারিজ হওয়া নিয়ে বিস্তর জল্পনা শুরু হয়েছে। এদিকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরই তৃণমূলের বিরুদ্ধ কার্যত বোমা ফাটিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "আমি যা যা জানি... বলতে পারি। সরকারকে দুর্নীতির বিষয়ে চিঠি লিখে জানাব। তদন্ত চাইব। উলুবেড়িয়া পুরসভায় ১০ হাজার ঘর চুরি হয়েছে। টেন্ডার ডাকা হয়নি।" বিধায়কের এহেন মন্তব্য নিয়ে যখন রাজনৈতিকমহলের অন্দরে শোরগোল, তখন এমন আবহে তাঁকে খোঁচা দিয়ে অভিনেতা জয়জিৎ যা বললেন, তাতে সোশাল পাড়ায় রীতিমতো ঝড়! অতীতে ঋতব্রতর দলবদলের প্রসঙ্গ টেনে অভিনেতার টিপ্পনি, "ছেলেটা কি ঘাড় ধাক্কাই না খাচ্ছে। বাম থেকে বহিষ্কৃত হয়ে ডানে গিয়ে ওখান থেকেও বহিষ্কৃত। দেখা যাক আগামী দিনে কী হয় তার ব্রত?" যদিও পোস্টের কোথাও ঋতব্রতর নামোল্লেখ করেননি, তবে জয়জিতের এহেন পোস্ট যে তাঁকে বিঁধেই, সেটা 'ব্রত' শব্দেই স্পষ্ট।
জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এহেন রসিক খোঁচায় হাসির রোল পড়েছে নেটভুবনেও। কারও মন্তব্য, 'ওর নাম ঋতব্রত না হয়ে ঋতুপরিবর্তন রাখা উচিত', তো কেউও বা বামনেতা শতরূপ ঘোষের মন্তব্য হাতিয়ার করে কটাক্ষ করেছেন, 'ও তো যমেরও অরুচি!'
জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এহেন রসিক খোঁচায় হাসির রোল পড়েছে নেটভুবনেও। কারও মন্তব্য, 'ওর নাম ঋতব্রত না হয়ে ঋতুপরিবর্তন রাখা উচিত', তো কেউও বা বামনেতা শতরূপ ঘোষের মন্তব্য হাতিয়ার করে কটাক্ষ করেছেন, 'ও তো যমেরও অরুচি!' অভিনেতার পোস্টের মন্তব্যবাক্সে এহেন নানা কটাক্ষবাণ ধেয়ে এসেছে। আসলে জয়জিৎ নিজেও বামমতাদর্শে বিশ্বাসী। সেকারণেই একদা বাম সমর্থক নেতার দলবদলে তৃণমূলে যাওয়া এবং সেই দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া নিয়ে কটাক্ষ করার সুযোগ হাতছাড়া করেননি। যদিও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দল বহিষ্কার করলেও উলুবেড়িয়ার মানুষের স্বার্থে কাজ করে যাবেন তিনি। বিধায়ক পদও ছাড়ছেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
