পঁচিশ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে সলমন খানের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে গিয়েছেন 'দাবাং চুলবুল পাণ্ডে'র ব্লকবাস্টার সিনেমার পরিচালক অভিনব কাশ্যপ। সম্পর্কে তিনি অনুরাগ কাশ্যপের ভাই। তবে দাদার মতো বলিউডের জমিতে পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে পারেননি অভিনব। কেন পারলেন না, যেখানে তাঁর ফিল্মি কেরিয়ারে 'দাবাং'-এর মতো হিট সিনেমা রয়েছে? ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে একাধিকবার সলমন খান ও তাঁর পরিবারকে দুষেছেন অভিনব কাশ্যপ। এবার 'দাবাং' পরিচালককে বিষোদগারে লাগাম টানার নির্দেশ আদালতের। পাশাপাশি খান পরিবারের মানহানির জন্য মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কোর্টের তরফে।
সলমন ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে 'পেটে লাথি মারা'র অভিযোগ এনেছিলেন অভিনব কাশ্যপ। অনুরাগ কাশ্যপের ভাইয়ের দাবি, ষড়যন্ত্র করে 'দাবাং ২'-এর পরিচালকের আসন থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অভিনব বলেন, "খান পরিবার আমার কেরিয়ার ধ্বংস করে দিয়েছে। সলমনের গোটা পরিবার প্রতিহিংসাপরায়ণ। আমি ওঁদের কথা না শুনলে আমাকে ওঁরা টিকতে দেবেন না। 'দাবাং' করার আগে বুঝিনি যে, সলমন এতটা নোংরা মানুষ।" শুধু তাই নয়। বলিউডের ভাইজানকে কখনও 'ছেঁচড়া' আবার কখনও বা 'লুম্পেন, ক্রিমিনাল' বলেও কটাক্ষ করেছেন। অভিনব কাশ্যপ বিস্ফোরক সংযোজন, "সলমন তাঁর কোনও সিনেমার কাজে যুক্ত থাকেন না। অভিনয়েও গত ২৫ বছর ধরে মন নেই তাঁর। তুলনায় বলিউডে অনেক বেশি ক্ষমতাশীল সলমন। আর সেটারই প্রভাব খাটান। সলমন একজন গুন্ডা। বলিউডের স্টার-তন্ত্রের বাবা ও। কারণ বলিউডের সঙ্গে যুক্ত ৫০ বছরের ফিল্মি পরিবারের সন্তান ও। সলমনের পরিবার সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে।" একাধিকবার একাধিক সাক্ষাৎকারে এহেন বিষোদগার করেছেন গোটা পঁচিশ সালজুড়ে। এবার সেই প্রেক্ষিতেই অভিনব কাশ্যপকে এহেন মানহানিমূলক মন্তব্য না করার নির্দেশ আদালতের।
বলিউড মাধ্যম সূত্রে খবর, সম্প্রতি অভিনব কাশ্যপ, কোমল মেহেরু, খুশনু হাজারে, জন ডো এবং বিভিন্ন সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছিলেন সলমন খান। সেই প্রেক্ষিতেই আদালতের নির্দেশ, বাকস্বাধীনতার নামে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে আপত্তিকর বা হুমকিমূলক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি ভাইজানের আইনজীবী প্রদীপ গান্ধী, কাশ্যপের ওই বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারগুলিও তুলে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে ৯ কোটি টাকা মানহানি মামলা দায়ের করেছিলেন। আদালতের তরফে সেই ক্ষতিপূরণ মেটানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
