পয়লা সপ্তাহ থেকেই বক্স অফিসে বিজয়রথ ছুটিয়েছে 'ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ'। পঁচিশ সালের ডিসেম্বর মাসে মুক্তিপ্রাপ্ত 'ধুরন্ধর'-এর প্রথমভাগের পারফরম্যান্স পরখ করে সিনেবাণিজ্য বিশ্লেষকরা আগেই জানিয়েছিলেন যে, সিক্যুয়েলও দৌড়বে। ১৯ মার্চ, মুক্তির মাত্র ২ সপ্তাহের ব্যবধানে সেই ভবিষ্যদ্বাণীই যেন অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেল। বিশ্বজুড়ে ১৫০০ কোটির ব্যবসা করে ধুরন্ধর সিক্যুয়েল এখন 'বক্স অফিসের বাপ'! আর 'ধুরন্ধর ২'-এর এহেন মারকাটারি সাফল্যের মাঝেই বিস্ফোরক সন্তোষ কুমার। পরিচালকের দাবি, তাঁর সিনেমার চিত্রনাট্য চুরি করেই 'ধুরন্ধর' বানিয়েছেন আদিত্য ধর! এহেন অভিযোগের পালটা ছেড়ে কথা বলেননি ব্লকবাস্টার পরিচালকও।
"আমি আদিত্য ধরের সঙ্গে কোনওভাবেই যোগাযোগ করতে পারিনি। ফলত, প্রযোজনা সংস্থা 'জিও স্টুডিওস'-এর সঙ্গে কথা বলি। কিন্তু ওরা আমাকে জানায়- 'আমরা কেবল প্রযোজক, এবিষয়ে আপনাকে 'B62 স্টুডিওস'-এর সাথেই কথা বলতে হবে।' এই ঘটনার পর থেকেই প্রযোজকরা আমাকে নানাভাবে হেনস্তা করছেন।..."
'ধুরন্ধর ২'-এর দৃশ্যে রণবীর সিং, ছবি- ইনস্টাগ্রাম
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পরিচালক সন্তোষ বলেন, "আমার 'ডি-সাহেব' সিনেমার চিত্রনাট্য থেকে হুবহু টোকা হয়েছে 'ধুরন্ধর' ফ্র্যাঞ্চাইজির গল্প।" কীরকম? সন্তোষ কুমারের সংযোজন, "এক তরুণের পরিবারের উপর সন্ত্রাস হামলা হয় এবং কীভাবে সেই ছেলেটি এই ঘটনার প্রতিশোধ নেয়, সেটাই আমার সিনেমার প্রেক্ষাপট। গল্পে দেখা যায়, একজন প্রাক্তন সেনাপ্রধানের ছেলে হিসেবে আমার ছবির নায়ক দশজনকে হত্যা করে গ্রেপ্তার হয়। কিন্তু তার সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা তাকে 'র'-এর এজেন্ট হিসেবে পাকিস্তানে পাঠায়। যাতে সে সন্ত্রাসজগতের মূলোৎপাটন করতে পারে। গল্পে রাজনৈতিক ছোঁয়াও রয়েছে।" উল্লেখ্য, আদিত্য ধরের 'ধুরন্ধর' ফ্র্যাঞ্চাইজির গল্পও যে এপথেই এগিয়েছে, সেটা যাঁরা দেখেছেন, তাঁদের ভালোই জানা। তবে সন্তোষের অভিযোগ এখানেই শেষ হয়নি! পরিচালকের দাবি, "আমি আদিত্য ধরের সঙ্গে কোনওভাবেই যোগাযোগ করতে পারিনি। ফলত, প্রযোজনা সংস্থা 'জিও স্টুডিওস'-এর সঙ্গে কথা বলি। কিন্তু ওরা আমাকে জানায়- 'আমরা কেবল প্রযোজক, এবিষয়ে আপনাকে 'B62 স্টুডিওস'-এর সাথেই কথা বলতে হবে।' এই ঘটনার পর থেকেই প্রযোজকরা আমাকে নানাভাবে হেনস্তা করছেন। আমাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে—‘কেন বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলছি? কেন এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়াচ্ছি?’ আমি তাঁদের সাফ জানিয়েছি যে, এবার আমি মামলা দায়ের করেছি। এবং যা বলার তাঁরা যেন আদালতে এসে বলেন।"
সন্তোষ কুমারকে পালটা আদিত্য ধরের। ছবি- সংগৃহীত
'ধুরন্ধর' সম্পূর্ণভাবে আদিত্যর মৌলিক গল্প। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে স্ক্রিন রাইটার অ্যাসোসিয়েশনের কাছে এই সিনেমার চিত্রনাট্য রেজিস্টার করিয়েছিলেন আদিত্য ধর। অথচ সন্তোষ কুমার নিজেই বলছেন যে, 'ডি-সাহেব' চিত্রনাট্যটি তেইশ সালের নভেম্বর মাসে রেজিস্টার করা।
খবর, এমন অভিযোগের পরই নাকি রণমূর্তি হয়ে আইনি পদক্ষেপ করেছেন আদিত্য ধর। বলিউড মাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই সন্তোষ কুমারকে আইনি নোটিস ধরিয়েছেন 'ধুরন্ধর' পরিচালক। এদিকে ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, 'ধুরন্ধর' সম্পূর্ণভাবে আদিত্যর মৌলিক গল্প। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে স্ক্রিন রাইটার অ্যাসোসিয়েশনের কাছে এই সিনেমার চিত্রনাট্য রেজিস্টার করিয়েছিলেন আদিত্য ধর। অথচ সন্তোষ কুমার নিজেই বলছেন যে, 'ডি-সাহেব' চিত্রনাট্যটি তেইশ সালের নভেম্বর মাসে রেজিস্টার করা। এহেন মিথ্যে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই পরিচালকের বিরুদ্ধে এবার আইনি পথে হাঁটলেন আদিত্য ধর। ভবিষ্যতে এই মামলা কোনদিকে গড়ায়? নজর থাকবে সেদিকে।
