টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়ায় একের পর এক অঘটন! রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুর পরই অকালে প্রাণ হারিয়েছেন টেলিপর্দার তরুণ অভিনেতা প্রণব চট্টোপাধ্যায়। এর মাঝেই গত বৃহস্পতিবার মাতৃহারা হন সুদীপ্তা-বিদীপ্তা চক্রবর্তী। শুক্রবার সকালে ফের আরেক দুঃসংবাদে ঘুম ভাঙে সেলেব পাড়ার! নিখোঁজ উৎসব মুখোপাধ্যায় (Utsav Mukherjee Missing)। গত আটচল্লিশ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নিরুদ্দেশ তিনি। মাতৃবিয়োগের শোকের মাঝে এবার সেই পরিচালক-চিত্রনাট্যকারকে নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করলেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী।
ঘটনার দিন দুয়েক পার হলেও উৎসব এখনও নিরুদ্দেশ। এহেন দুঃসময়ে সিনেইন্ডাস্ট্রির অনেকেই উদ্বেগ, আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সুদীপ্তা চক্রবর্তী নিজেও উৎসবের লেখা এবং পরিচালনায় দুটো সিনেমায় অভিনয় করেছেন। অভিনেত্রীর মা ও পরিবারের সঙ্গেও পরিচালকের সুসম্পর্ক।
বৃহস্পতিবারই মা দীপালি চক্রবর্তীকে হারিয়েছেন অভিনেত্রী। মাতৃবিয়োগের যন্ত্রণার মাঝেই এবার উৎসব মুখোপাধ্যায়ের অন্তর্ধান রহস্যের কিনারার দাবিতে সোচ্চার হলেন সুদীপ্তা। খবর, বৃহস্পতিবার সকালে ব্যক্তিগত কাজে ব্যাঙ্কে যাওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেননি পরিচালক-চিত্রনাট্যকার। সেই রাতেই আনন্দপুর থানায় মিসিং ডায়েরি করেন স্ত্রী মৌপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ঘটনার দিন দুয়েক পার হলেও উৎসব এখনও নিরুদ্দেশ। এহেন দুঃসময়ে সিনেইন্ডাস্ট্রির অনেকেই উদ্বেগ, আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সুদীপ্তা চক্রবর্তী নিজেও উৎসবের লেখা এবং পরিচালনায় দুটো সিনেমায় অভিনয় করেছেন। অভিনেত্রীর মা ও পরিবারের সঙ্গেও পরিচালকের সুসম্পর্ক। সেই প্রেক্ষিতেই একরাশ উৎকণ্ঠা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন অভিনেত্রী। সুদীপ্তার প্রশ্ন, "উৎসব মুখোপাধ্যায়ের কি কোনও খোঁজ পাওয়া গেল? পুলিশ কী করছে? কেউ বলতে পারেন? লেখক বা পরিচালকদের সংগঠনের কি সদস্য ছিল উৎসব? যদি হয়েই থাকেন, তাহলে তাঁরা কি উদ্যোগ নিতে পারেন এই বিষয়ে?"
দিনেদুপুরে নিরুদ্দেশ পরিচালক-চিত্রনাট্যকার উৎসব
"উৎসবের লেখা এবং পরিচালনায় দুটো সিনেমায় অভিনয় করেছি আমি- 'হাফ সিরিয়াস' এবং 'ভীতু'। বহুদিনের সম্পর্ক। পারিবারিক বন্ধুত্ব। আমাদের পরিবারের সব ক'টা বাচ্চার সঙ্গে দারুণ ভাব ছিল ওঁর। মায়ের সঙ্গেও আড্ডা দিত। যদিও ইদানিং বিশেষ যোগাযোগ রাখত না। নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিল, কেন জানি না!..."
পরিচালকের স্ত্রী মৌপিয়ার কথা ভেবেও উদ্বিগ্ন সুদীপ্তা চক্রবর্তী (Sudipta Chakraborty)। অভিনেত্রী বলছেন, "কেমন যেন মনে হচ্ছে, ওর সদ্য বিবাহিত স্ত্রী একা পড়ে গিয়েছেন। আমার সঙ্গে তাঁর আলাপ নেই, তবু মনে হচ্ছে এই সময়ে আমাদের তাঁর পাশে থাকা দরকার। উৎসবের লেখা এবং পরিচালনায় দুটো সিনেমায় অভিনয় করেছি আমি- 'হাফ সিরিয়াস' এবং 'ভীতু'। বহুদিনের সম্পর্ক। পারিবারিক বন্ধুত্ব। আমাদের পরিবারের সব ক'টা বাচ্চার সঙ্গে দারুণ ভাব ছিল ওঁর। মায়ের সঙ্গেও আড্ডা দিত। যদিও ইদানিং বিশেষ যোগাযোগ রাখত না। নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিল, কেন জানি না! কী হল ওর? কোথায় গেল? উৎসবের অন্তর্ধানের কিনারা হোক তাড়াতাড়ি। আর পারা যাচ্ছে না! শোক আর শক্ নেওয়ারও একটা সীমা থাকে!" জানা গিয়েছে, মিসিং ডায়েরির পরই নিরুদ্দেশ পরিচালকের খোঁজে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এমতাবস্থায় সাংসারিক অশান্তির জেরে পরিচালক বাড়ি ছেড়েছেন কিনা? তদন্তে নেমে এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।
সস্ত্রীক উৎসব মুখোপাধ্যায়। ছবি- ফেসবুক
শুক্রবার সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালের তরফে যোগাযোগ করা হলে উৎসবপত্নী মৌপিয়া জানান, “কাল সকালে ব্যাঙ্কের একটা কাজ ছিল। ওঁর ফোনে একটা ওটিপি আসার ব্যাপার ছিল। ব্যাঙ্কে নেটওয়ার্ক ঠিকঠাক পাওয়া যায় না বলে ওঁর ফোনটা আমার কাছে দিয়ে গিয়েছিল আর বাবার ফোনটা সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল। আমি চার্জারটা নিয়ে যেতে বলেছিলাম। আসলে উনি তো স্মার্ট ফোন ব্যবহার করতেন না। আগেকার মানুষ যেমন ছোট ফোন ব্যবহার করতেন ওঁর সেই ফোন। ব্যাঙ্কে যাওয়ার পর দু-একবার কথাও হয়েছে। আমাকে বলল যে কাজ প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে টাকাটা তুলেই ফিরব। এরপর যখন দুপুর দুটো বেজে ২২ মিনিট তখন ফোন করে দেখলাম সুইচ অফ। চার্জ শেষ হয়ে গিয়েছে সেটা বুঝতেই পেরেছিলাম। এক প্রযোজকের সঙ্গেও দেখা করার কথা ছিল। তাই আমি আবার সেই প্রযোজককে ফোন করে বলি উৎসব এলে যেন আমাকে একটু জানিয়ে দেয়। কিন্তু, আটটা পর্যন্ত কোনও খবর পাইনি। আমি আর অপেক্ষা না করে আনন্দপুর থানায় একটা মিসিং ডায়েরি করি। ওঁর ফোনের শেষ ট্র্যাকিং লোকেশন দেখাচ্ছিল বিধাননগর। আসেপাশের সমস্ত পুলিশ স্টেশনে খবর দেওয়া হয়েছে। কিছু জানলেই আমাকে জানানো হবে। কিন্তু, এখনও কোনও খবর পাচ্ছি না।”
