কালিয়াচকের মোথাবাড়ির ঘটনাকে 'দাঙ্গা' বলার প্রতিবাদে সরব আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। বিডিও অফিসের মধ্যে কোনও মানুষ ঢুকে সমস্যা তৈরি করে থাকলে সেই ফুটেজ প্রকাশ্যে আনার দাবি জানান তিনি। তাঁর মতে, কয়েকজন মানুষ কোনও দাবি নিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করলে তাঁকে দাঙ্গা বলা যায় না।
শনিবার দুপুরে ভাঙড় থেকে বারুইপুর পর্যন্ত দীর্ঘ শোভাযাত্রা করে বারুইপুরের এসডিও অফিসে মনোনয়নপত্র জমা দেন ভাঙড়ের আইএসএফ প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকি। তাঁর দাবি, কালিয়াচকের ঘটনাকে 'দাঙ্গা' বলে উল্লেখ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মন্তব্য নিয়ে সরব হয়েছেন নওশাদ। তিনি জানিয়েছেন, কালিয়াচকে কোনও দাঙ্গা হয়নি। সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হচ্ছে। নওশাদ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “যদি সত্যিই কোথাও দাঙ্গা হয়ে থাকে, তাহলে তার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করা হোক। কোথায়, কখন, কীভাবে ঘটনা ঘটেছে—মানুষকে দেখানো হোক। আমার যতটুকু জানা, এমন কোনও ভিডিও নেই। বরং একটি শান্তিপূর্ণ অবস্থানকে অন্যভাবে দেখানোর চেষ্টা চলছে।” তিনি আরও জানান, সুজাপুরের ঘটনা এবং মোথাবাড়ির ঘটনা এক নয়। সুজাপুরে বিডিও অফিস ঘেরাও বা দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখার মতো ঘটনা ঘটেনি। এই দুই ঘটনাকে এক করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন নওশাদ। তিনি জানান, মমতাকে হয়তো কালিয়াচক নিয়ে ভুল রিপোর্ট পাঠানো হয়েছিল। ওই রিপোর্ট দেখেই ভুল তথ্য দিয়েছেন তিনি। ভুল রিপোর্ট কে তাঁকে পাঠালো তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নওশাদ।
একইসঙ্গে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আইএসএফের বিদায়ী বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, একটি শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে দীর্ঘক্ষণ ধরে সাধারণ মানুষ তাঁদের দাবি জানালেও সমস্যার সমাধান হয়নি। বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনও সমাধান হয়নি। এরপর হঠাৎ লাঠিচার্জ করা হয়। এর জেরে সাধারণ মানুষ ও মহিলা পুলিশ আহত হন। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তোলেন আইএসএফ প্রার্থী। পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০২১ সালের নির্বাচন ছিল অত্যন্ত কঠিন লড়াই। কিন্তু ২০২৬ সালের নির্বাচনে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। কারণ বিরোধীরা এখন বিভক্ত।
