রাজ্যে পালাবদল হতেই আর্টিস্ট ফোরামের সহকারী কোষাধ্যক্ষ পদ ছেড়েছেন অভিনেতা দিগন্ত বাগচী। ফোরামের তরফে ইতিমধ্যেই তা গৃহীত হয়েছে। এরপরই নানামহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। চাপে পড়ে ইস্তফা কি না, তা নিয়ে চর্চা চলছে। এসবের মাঝেই অবস্থান স্পষ্ট করলেন দিগন্ত। বললেন, "কোনও রাজনৈতিক দলও আমায় পদত্যাগ করতে বাধ্য করেনি। নিজের বিবেকের কাছে পরিষ্কার থাকতেই আমার পদত্যাগ।"
গত ৮ ফেব্রুয়ারি আর্টিস্ট ফোরামের নির্বাচন হয়েছিল। সেখানেই সহকারী কোষাধ্যক্ষের পদ পান অভিনেতা দিগন্ত বাগচী। তারপর পেরিয়েছে বেশ কয়েকমাস। রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে। তৃণমূলের হাত থেকে রাজ্যের শাসনভার গিয়েছে বিজেপির হাতে। শনিবার শপথ নিয়েছেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন রাতেই মেলে ইস্তফাপত্র পাঠান দিগন্ত। প্রতিমাসের দ্বিতীয় রবিরার সংগঠনের সাধারণ বৈঠক হয়। আজ টেকনিশিয়ান স্টুডিওর বৈঠকে ছিলেন সভাপতি রঞ্জিত মল্লিক, কার্যকরী সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সহ-সভাপতি চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী, ভরত কল, সম্পাদক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, যুগ্ম-সম্পাদক চন্দন সেন, রানা মিত্র, সহ-সম্পাদক দেবদূত ঘোষ, আবীর চট্টোপাধ্যায়, কোষাধ্যক্ষ বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়-সহ সদস্যরা। বৈঠকে সেই ইস্তফাপত্র গৃহীত হওয়ার বিষয়টা জানানো হয়।
দিগন্ত বাগচী তৃণমূল সরকারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সরকারের একাধিক অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখা গিয়েছে। ফলে সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ইস্তফা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নেপথ্যে রাজনৈতিক চাপ কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। এরই মাঝে অবস্থান স্পষ্ট করলেন দিগন্ত। জানান, আগেও তিনি ইস্তফা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেবার রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় নতুন কমিটি গঠনের পরেই ইস্তফা দিতে বারণ করেন। তাঁদের কথা মেনে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। এবার ইস্তফা প্রসঙ্গে দিগন্ত বললেন, "আমি কাউকে হুমকি দিইনি। কোনও রাজনৈতিক দলও আমায় পদত্যাগ করতে বাধ্য করেনি। নিজের বিবেকের কাছে পরিষ্কার থাকতেই আমার পদত্যাগ। আগামী দিনে শুধুমাত্র সদস্য হিসাবে আমি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকব।"
