অমিতাভের পা ছুঁয়ে প্রণাম করায় খলিস্তানপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠী 'শিখস ফর জাস্টিস'-এর তরফে হুমকি পেয়েছিলেন। 'পাঞ্জাবি পপস্টারে'র অস্ট্রেলিয়ার কনসার্ট বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল সংশ্লিষ্ট সংগঠন। এবার সম্প্রতি কানাডায় কনসার্ট করতে গিয়ে খলিস্তানপন্থীদের তাণ্ডবের শিকার হন দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ! কনসার্টে খলিস্তানি পতাকা উড়তেই মাঝপথে গান থামিয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন। আর সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসায় কম বিতর্কের শিকার হতে হয়নি দিলজিৎকে। কিন্তু 'পাঞ্জাব দি পুত্তর' বরাবরই 'সিংহম' মেজাজে বিরোধীপক্ষকে পরাস্ত করেছেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না।
"বাইরে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করুন, অসুবিধে নেই। কিন্তু আপনারা যদি ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন এবং আমার অনুরাগীদের হেনস্তা করেন, তবে সেটা কোনওভাবেই সহ্য করব না। আমার শোয়ে কেউ পতাকা নিয়ে এলে...।"
দিন কয়েক আগে কানাডার ক্যালগারিতে কনসার্ট ছিল দিলজিতের। সেখানে শ্রোতা-দর্শকমহলের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। দিলজিতের সুরে সুর মিলিয়ে তারাও অডিটোরিয়ামে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু শোয়ের মাঝপথেই ছন্দপতন!কারণ দর্শকাসনের একাংশ থেকে আচমকাই খলিস্তানি স্লোগান তুলে তাদের পতাকা ওড়ানো হয়। যে খালিস্তানপন্থী সংগঠনের সমর্থনে পতাকা ওড়ানো হয়, তারা ভারতে নিষিদ্ধ। আর বিষয়টি চোখে পড়তেই মেজাজ হারিয়ে গান থামিয়ে দেন দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ। অগ্নিশর্মা 'পাঞ্জাব দি পুত্তর'কে বলতে শোনা যায়, "যত পারো পতাকা দেখাও!" এমনকী যাঁরা অনুষ্ঠানে বিঘ্ন ঘটাচ্ছিলেন, নিরাপত্তা কর্মী ও আয়োজকদের তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি। যদিও সেসময়ে এই বিষয়ে আর কোনও 'টুঁ' শব্দটি করেননি গায়ক, তবে এবার কনসার্টে খলিস্তানিদের উৎপাত নিয়ে মুখ খুললেন দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ।
দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ!
কোনওরকম রেয়াত না করেই পাঞ্জাবি পপস্টার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। দিলজিৎ বললেন, "বাইরে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করুন, অসুবিধে নেই। কিন্তু আপনারা যদি ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন এবং আমার অনুরাগীদের হেনস্তা করেন, তবে সেটা কোনওভাবেই সহ্য করব না। আমার শোয়ে কেউ পতাকা নিয়ে এলে সাধারণত সেটা আমাকে সমর্থন করার জন্যেই নিয়ে আসে। কিন্তু কেউ যদি ব্যানার হাতে আমার ভক্তদের গালিগালাজ করেন এবং কনসার্টের ভিতরে ঢুকেও সেই একই কাজ করার চেষ্টা করেন, তবে তা একদম বরদাস্ত করা হবে না।" গায়কের সংযোজন, "না, আমার পতাকায় কোনও সমস্যা নেই। তাই এটা নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করবেন না। পতাকা দেখানোর নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য ছিল, সেটাই আসল বিষয়। আমি শুরুতেই উদ্যোক্তাদের বলে রেখেছিলাম কেউ যদি অযথা বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করে, তাহলে তাদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাইরে বের করে দেবেন। গতবছর থেকেই আমি এই বিষয়টি এড়িয়ে চলছিলাম, কিন্তু আর না। ভালোবাসা থাকুন, শান্তিতে থাকুন। ধন্যবাদ।"
