দিন কয়েক আগে খেলোয়ারদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার সময়ে রূঢ় আচরণের জেরে বিতর্কের শিরোনামে নাম লিখিয়েছিলেন হেমা মালিনী (Hema Malini)। শুনতে হয়েছিল 'গোমড়ামুখী' কটাক্ষও। এমন আবহেই বৃহস্পতিবার সকালে বৃহন্মুম্বই পুরসভার ভোট দিতে গিয়ে ফের আমজনতার রোষানলে পড়তে হল মথুরার তারকা সাংসদকে। কেন?
ভোটকেন্দ্র থেকে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, হেমা ভোট দিয়ে বেরনোর পরই একদল প্রবীণ নাগরিক তাঁকে ছেঁকে ধরেন। তাঁদের অভিযোগ, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও তাঁরা ভোট দিতে পারেননি। কিন্তু তারকা-রাজনীতিক বলে হেমা মালিনীই বা বিশেষ সুবিধে পাবেন কেন? আমজনতা বলেই কি ফি বছর বুথে ভোট দিতে এসে বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হবে তাঁদের? এহেন অভিযোগ তুলে জনা কয়েক প্রৌঢ় হেমাকে ঘিরে ধরতেই তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। শেষমেশ পুলিশি সহায়তায় নিজের সহকারীকে এগিয়ে দিয়ে কোনওমতে সেখান থেকে বেরোন। তবে এহেন রোষের মুখেও কিন্তু দমে যাননি তিনি। বরং সেখান থেকেই বেরিয়েই দিন কয়েক আগের মথুরার খেলা প্রতিযোগীতার বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন হেমা। ড্যামেজ কন্ট্রোলের জন্য ছবিশিকারীদের ক্যামেরার সামনে হেমা যা করলেন, সেটা নিয়ে তুমুল চর্চা!
ঠিক কী কারণে বিতর্কে জড়ান প্রবীণ তারকা সাংসদ? সম্প্রতি আমন্ত্রণ পেয়ে মথুরার এক খেলা প্রতিযোগিতায় বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন হেমা মালিনী। অনুষ্ঠানের শেষে বিজয়ীদের মেডেল পরানোর সময়ে তাদের সঙ্গে করমর্দন করে অভিনন্দন জানানো তো দূরঅস্ত, হেমার মুখে হাসিটুকু ছিল না পর্যন্ত। এমনকী, খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার পর হাত মুছতেও দেখা যায় তাঁকে। যা দেখে অনেকেই বলেছিলেন, মনে হচ্ছে যেন স্রেফ কর্তব্য পালনের জন্যেই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন হেমা মালিনী! আর এহেন রূঢ় অভিব্যক্তির জেরেই মারাত্মক সমালোচনার শিকার হতে হয় হেমা মালিনীকে। তবে বৃহস্পতিবার মুম্বই পুরসভার ভোট দিতে গিয়ে নিজের আচরণ এবং অভিব্যক্তিতে পাপারাজ্জিদের হতবাক করে দেন তিনি। শুধু তাই নয়, পাশাপাশি নিন্দুকদের উদ্দেশেও কড়া বার্তা দিতে দেখা যায় হেমাকে।
ছবিশিকারীদের দেখে প্রথমটায় হতচকিত হয়ে যান হেমা মালিনী। পরমুহূর্তেই তড়িৎগতিতে নিজেকে সামলে নিয়ে বলেন, "এই দেখো, আমি কিন্তু হাসছি, ঠিক আছে? এবার আর অভিযোগ কোরো না যে হেমা মালিনী হাসে না!" পাশাপাশি তর্জনীতে ভোটের চিহ্নও দেখান তিনি।
আসলে ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণের পর থেকেই শোকে ডুবে রয়েছেন হেমা মালিনী। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারেও সেকথা করে তিনি জানিয়েছিলেন যে, “৫৭ বছর ধরে একটা মানুষের সঙ্গে কাটানোর পর তাঁকে ছাড়া একমুহূর্ত ভাবতে পারছি না! এখনও শোক কাটিয়ে উঠতে পারিনি। চেষ্টা করছি স্বাভাবিক হওয়ার।” উপরন্তু ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর পর থেকে নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁকে। কখনও হেমার পৃথক স্মরণসভা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তো কখনও বা আবার দেওলদের পারিবারিক ফাটল নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েছেন মথুরার তারকা সাংসদ। এমন আবহেই রূঢ় আচরণের জন্য নিন্দে-সমালোচনার শিকার হন। তবে ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণের পর দীর্ঘদিন বাদে এবার হেমা মালিনীর মুখে হাসি দেখে খুশি মুম্বইয়ের পাপারাজ্জিরাও।
