প্রথম স্ত্রী'র সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ না করেই দ্বিতীয়বার ছাঁদনাতলায় বসায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে। জড়াতে হয়েছে আইনি বিতর্কেও। বিয়ে বিতর্কের আবহে চিলেন চেন্নাইতে। তবে সপ্তাহখানেক আগেই সেখান থেকে ফিরে আগাম জামিন চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন খড়্গপুরের বিজেপি বিধায়ক। এবার অবশেষে অজ্ঞাতবাস কাটিয়ে বিধানসভায় 'অ্যাটেনডেন্স' দিলেন নেতা-অভিনেতা।
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বাজেট পেশ হয়। এদিন সেখানেই উপস্থিত ছিলেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। দ্বিতীয় বিয়ে বিতর্কের আবহেই বিধানসভার অধিবেশনে তাঁকে দেখা গেল। যেহেতু বিষয়টি নিয়ে মামলা চলছে। সেই প্রেক্ষিতেই তাঁর বক্তব্য, "বিচারাধীন বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না।" যদিও বিধায়ক-অভিনেতার ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলা এড়াতে তিনি অন্য রণকৌশল নিয়েছেন। শুধু তাই নয়! তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি ঠিক নয় বলে তিনি বলেছেন, এতদিন চেন্নাইয়ে ছিলেন। এমনটাই শোনা যাচ্ছে ঘনিষ্ঠ মহল মারফৎ। শুধু তাই নয়, তাঁর সোশাল মিডিয়ায় ঋতিকা গিরির সঙ্গে বিয়ের যে ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, সেই পোস্টও নাকি হিরণ নিজে করেননি বলেই দাবি করেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে। হিরণকে নিয়ে কৌতূহল ছিল বিজেপি পরিষদীয় দলে তাঁর সতীর্থ বিধায়কদের মধ্যেও। এদিন বিধানসভায় কয়েকজন তাঁকে শুভেচ্ছা জানান বলে খবর। যদিও যা নিয়ে বিতর্ক চলছে সংবাদ মাধ্যমে তা একেবারেই যেহেতু ব্যক্তিগত বিষয়, তাই অনেক বিধায়কই বিষয়টি নিয়ে হিরণকে কোনও প্রশ্ন করেননি। কিন্তু গত জানুয়ারি মাসে তাঁর 'বিবাহ অভিযান' বিতর্কে গোটা রাজ্য-রাজনীতি থেকে বিনোদুনিয়া তোলপাড় হয়ে গেলেও এবার কাজে ফিরে কি বিধানসভায় কোনও মতামত পেশ করলেন তিনি? কৌতূহল অস্বাভাবিক নয়!
হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় বিয়ে
জানা গেল, অ্যাটেনডেন্স' দিলেও কোনও বিষয়ে মন্তব্য করেননি হিরণ চট্টোপাধ্যায়। বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন হিরণ। ঋতিকা গিরির সঙ্গে তাঁর বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসার পরে বিতর্কের ঝড় ওঠে। তার পরেই অভিনেতা তথা বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলেছেন তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। আনন্দপুর থানায় মেয়ে নিয়াসা চট্টোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে অভিযোগও করেছেন। প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তাঁদের আইনি বিচ্ছেদ হয়নি। পালটা মুখ খুলেছিলেন 'দ্বিতীয় স্ত্রী' ঋতিকা গিরিও। তাতে বিতর্ক আরও বেড়েছে। বর্তমানে বিষয়টি হাই কোর্টে বিচারাধীন। আনন্দপুর থানায় দায়ের হওয়া ওই মামলার প্রেক্ষিতে হাই কোর্টে আগাম জামিনও চেয়েছেন তিনি। তবে হিরণ বিতর্কিত বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের কথায়, স্ত্রী ও মেয়ের প্রতি দায়িত্বে তিনি অবিচলই রয়েছেন।
