দীর্ঘদিন বাদে 'খতরনাক' অবতারে ধরা দিয়েছিলেন। আর তাতেই উসকেছে বিতর্ক! কুখ্যাত গ্যাংস্টারের ভূমিকায় অভিনয় করে আইনি ঝঞ্ঝাটে জড়ালেন শাহিদ কাপুর। 'ও রোমিও'র পয়লা ঝলকে উন্মাদনার পারদ চড়ার পরই মুম্বইয়ের একসময়কার কুখ্যাত গ্যাংস্টার হুসেন উস্তারার কন্যা শানোবার শেখ আপত্তি তুলে মানহানি মামলা দায়ের করে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়েছিলেন। এবার আদালতের দ্বারস্থ হয়ে 'ও রোমিও'র মুক্তিতে অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা জারি করার আবেদন জানালেন শানোবার।
আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি 'ও রোমিও' মুক্তি পাওয়ার কথা। তার প্রাক্কালে কেন গ্যাংস্টার কন্যা শাহিদের সিনেমার রিলিজ আটকাতে উঠেপড়ে লেগেছেন? কিংবা কোন নিষিদ্ধ গল্প রয়েছে এই ছবিতে? এমন কৌতূহল অস্বাভাবিক নয়! বলিউডে কানাঘুষো, 'ও রোমিও' ছবিতে নয়ের দশকের অন্ধকার জগতের অন্যতম গ্যাংস্টার হুসেন উস্তারার জীবনকাহিনির আঁধারে শাহিদের চরিত্র সাজিয়েছেন পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজ। যার সঙ্গে দাউদ ইব্রাহিমের একেবারে সাপে-নেউলে সম্পর্ক ছিল বলে শোনা যায়। মুম্বইয়ের আস্তাকুঁড়ে থেকে কীভাবে অন্ধকার সম্রাজ্যের দাপুটে ডন হয়ে ওঠে এই উস্তারা? শাহিদের চরিত্রের মাধ্যমে সেই নৈরাজ্যের কাহিনিই ফুটিয়ে তুলেছেন ভরদ্বাজ। পয়লা ঝলক প্রকাশ্যে আসার পর ওয়াকিবহালমহলের অনুমান, 'ও রোমিও' সিনেমাটি আদতে 'স্বপ্নাদিদি, দাউদ এবং হুসেন উস্তারা'র ত্রিকোণ প্রেমের কাহিনি নিয়ে তৈরি। আর এমন গুঞ্জন চাউড় হতেই নির্মাতাদের বিরুদ্ধে 'আইনি চড়' কষান উস্তারাকন্যা শানোবার শেখ। তাঁর অভিযোগ, "বাবার ভাবমূর্তিতে কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে। এবং বাস্তবে এরকম কোনও প্রেমের সম্পর্ক ছিল না।"
'ও রোমিও'র দৃশ্যে শাহিদ কাপুর, ছবি- সংগৃহীত
সাংবাদিক-লেখক হুসেন জাইদির লেখা 'মাফিয়া কুইন্স অফ মুম্বই' বইটির উপর ভিত্তি করেই এই সিনেমা তৈরি করেছেন বিশাল ভরদ্বাজ। বলিউড মাধ্যম সূত্রে খবর, আইনজীবী ডিভি সরোজের মাধ্যমে ‘ও রোমিও’ নির্মাতাদের সকলকে আইনি নোটিস ধরিয়েছেন নয়ের দশকে মুম্বই কাঁপানো ওই কুখ্যাত গ্যাংস্টার কন্যা। জানা গিয়েছে, পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজ, চিত্রনাট্যকার রোহান নরুলা, প্রযোজনা সংস্থা নাদিয়াদওয়ালা গ্র্যান্ডসন এন্টারটেইনমেন্টের পাশাপাশি হুসেন জাইদির বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের হয়েছে। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি মামলার শুনানি।
হুসেন উস্তারার কন্যা শানোবারের আইনজীবী আদালতকে জানিয়েছেন, “প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে প্রকাশ্যেই বলা হচ্ছে ‘ও রোমিও’ ছবিটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি। এবং এও উল্লেখ করা হয়েছে যে, উস্তারার জীবনকাহিনির আঁধারে সাজানো হয়েছে শাহিদ কাপুরের চরিত্রটি। কিন্তু এই সিনেমা তৈরিকালীন এবং তার প্রাক্কালে উস্তারার পরিবারের তরফে অনুমতি নেওয়া তো দূরঅস্ত, শানোবারের সঙ্গে কোনওরকম যোগাযোগও করেননি নির্মাতারা। উপরন্তু কাল্পনিকভাবে অতিরঞ্জিত করে নানা অপরাধমূলক ঘটনা দেখানো হয়েছে। যার জেরে উস্তারাকন্যার মানহানি হয়েছে।” যদিও শানোবারের আনা অভিযোগের পালটায় ‘ও রোমিও’ নির্মাতারা এর আগে জানিয়েছিলেন, “ছবির শেষে আস্ত একটা ডিসক্লেইমার রয়েছে, যেখানে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে- বাস্তব কোনও ব্যক্তির সঙ্গে কোনও সাদৃশ্য থাকলে সেটা সম্পূর্ণ কাকতালীয় এবং অনিচ্ছাকৃত।” এবার দেখার আদৌ গ্যাংস্টারকন্যার যুক্তি আদালতে ধোপে টেকে কিনা?
