গত সপ্তাহেই বান্ধবীকে শারীরিক নির্যাতন এবং যৌন হেনস্তার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন ইনফ্লুয়েন্সার শমীক অধিকারী (Shamik Adhikary)। যার জেরে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। সোমবার সংশ্লিষ্ট মামলা আলিপুর আদালতে উঠতেই ফের ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হল সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারকে।
আদালত সূত্রে খবর, বাজেয়াপ্ত হওয়া শমীকের ফোনে বেশ কিছু প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। আর সেই প্রেক্ষিতেই ইনফ্লুয়েন্সার 'ননসেন' (Nonsane)কে আরও ১৪ দিনের জন্য বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল আদালত। আগামী ২ মার্চ ফের শমীক অধিকারীকে আদালতে পেশ করা হবে। অতঃপর মার্চের আগে ইনফ্লুয়েন্সারের জেলমুক্তি ঘটছে না! আগেই জানা গিয়েছিল যে, পুলিশি জেরার মুখে তরুণীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন শমীক। সেই প্রেক্ষিতেই ননসেন-এর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা রুজু করা হয়। পাশাপাশি বলপ্রয়োগ, জোর করে আটকে রাখা, শারীরিক নিগ্রহের ধারাও যোগ করেছিল বেহালা থানার পুলিশ। এবার শমীকের বাজেয়াপ্ত হওয়া ফোনে বেশ কিছু প্রমাণ পাওয়ায় আরও চোদ্দো দিনের জেল হেফাজত দেওয়া হল তাঁকে।
শমীক অধিকারী, ছবি- সোশাল মিডিয়া
অশান্তি চলাকালীন যে প্রেমিকাকে শারীরিক আঘাত করেছিলেন ইনফ্লুয়েন্সার শমীক, মা-বাবা দু’জনেই একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছিলেন সেকথা। দিন কয়েক আগে বয়ানে নির্যাতিতা সাফ জানিয়েছিলেন যে, মারধর করে তাকে অজ্ঞান করে দেন শমীক। এমনকী অভিভাবকের উপস্থিতিতেই যে ফ্ল্যাটে এমন ‘পাশবিক’ কাণ্ড ঘটিয়েছেন অভিযুক্ত ইনফ্লুয়েন্সার, সেকথাও স্পষ্ট জানান ওই তরুণী। নির্যাতিতার সাফ মন্তব্য ছিল, “মারের চোটে আমার এক চোখ ফুলে যায়। আমার চোখের নিচে এখনও কালশিটে পড়া। এরমাঝে আমার চিৎকার শুনে ওর মা-বাবা আসে। তখন ও নিজে সুইসাইডের হুমকি দেয়। ওর বাবা-মা তাতেই ভয় পায়। কিন্তু আমাকে মারছে দেখেও ওরা আমাকে একা ফেলে চলে যায়। আমি ওর মাকে ইশারা করে বলতে থাকি ‘আন্টি, কাউকে একটা ফোন করো।’ কারণ আমার ফোন আমার কাছে ছিল না। কিন্তু ওর মা আমার কথা না শুনেই আমাকে ওখানে ছেড়ে চলে যায়। কারণ ওরা নিজেই ভয় পাচ্ছিল শমীকের এহেন রূপ দেখে।”
এহেন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইনফ্লুয়েন্সারের মা-বাবা জানান, "আমরা ভেবেছি ওদের ব্যক্তিগত বিষয়, তাই আমরা মাঝখানে যাইনি। আমাদের ঘর শিফট হচ্ছে বলে আমরাও নানান কাজে ব্যস্ত। এবার পরিস্থিতি এত জটিল হয় যে ওকে একটা চড় মারে শমীক। ওদের চেঁচামেচি শুনে আমরা তখন দৌড়ে যাই। হয়তো হাত ধরে টানাটানিতেই কালশিটে পড়ে যায়।" অর্থাৎ শমীকের মা-বাবা দু’জনেই একবাক্যে স্বীকার করে নেন যে তাঁদের ছেলে চড় মেরেছে। সংশ্লিষ্ট মামলা কোনদিকে গড়ায়? নজর থাকবে সেদিকে।
