গত রবিবার তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে সমুদ্রে তলিয়ে যান রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিনেতার মৃত্যু এবং তার পরবর্তী ঘটনাক্রম অজস্র প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে তালসারির মতো বিপজ্জনক সমুদ্র সৈকতে শুটিং হল কীভাবে? ইউনিটের সদস্যদের বয়ানেও বিস্তর অসঙ্গতি। জলে নেমে শুটিংয়ের দৃশ্য নাকি চিত্রনাট্যে ছিলই না। তাহলে সেই সিদ্ধান্ত কে নিলেন? যদি সমুদ্রে নেমে শুটিংয়ের পরিকল্পনা ছিলই, তাহলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি? যদি থাকে, তাহলে রাহুলকে উদ্ধার করতে পারল না কেন? রাহুলের মৃত্যুর ঘটনা যেন জটিল ধাঁধা! কাঠগড়ায় উঠেছে, টলিপাড়ার শুটিংয়ের নিয়মবিধিও। এমন আবহেই বিস্ফোরক জীতু কামাল।
"গত ১৫ মার্চ সন্ধেবেলা সাড়ে ছ'টা-সাতটার সময় তুমুল ঝড়বৃষ্টি ওঠে। চন্দননগরের গঙ্গার ধারে কিন্তু সেই প্রোডাকশন হাউজ আমাকে গঙ্গার মধ্যে নৌকায় শুটিং করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। আমি জানাই, এভাবে শুটিং করব না। তার জন্যে পরেরদিন তারা গালিগালাজ করে। গায়ে হাত পর্যন্ত তুলতে আসে।..."
রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর ফেসবুক লাইভে অভিনেতা, কলাকুশলীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন জীতু কামাল। এবার আরও বিস্ফোরক মন্তব্য অভিনেতার। জীতু বলছেন, "আউটডোরে শুটিং করতে গিয়ে তিনি মরতে মরতে বেঁচে গিয়েছেন।" তবে আর্টিস্ট ফোরামকে জানিয়েও লাভ হয়নি। অভিনেতার দাবি, তাঁর মৃত্যু হয়নি বলেই সংগঠনের তরফে তাঁর অভিযোগকে আমল দেওয়া হয়নি। অভিনেতার একাধিক পোস্টের নিশানায় আর্টিস্ট ফোরাম। এবার আরও হাড়হিম করা অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন জীতু কামাল। শুক্রবার রাতে টেকনিশিয়ান স্টুডিওর মিটিং থেকে বেরিয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "যে চলে গেছে তাকে তো আর ফেরানো যাবে না...।" সেকথা ধার করেই জীতু কামালের মন্তব্য, "বুম্বাদার এই কথাটা যতটা সত্যি, আবার যে বা যারা চলে যেতে পারত তার বা তাদের জন্য আপনাদের যে উদাসীনতা ,অবহেলা গুরুত্বহীনতা ,অনীহা, সেটাও ততটাই সত্যি। সেক্রেটারি উপস্থিত ছিলেন সেই শুটিংয়ে যেখানে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি অপরিণত, অপেশাদার প্রোডাকশনের কার্যকলাপে। সেক্রেটারি চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেক্রেটারি সেখানেও উপস্থিত ছিলেন যেখানে হাসপাতাল থেকে ফিরে আবারও একই পরিবেশে, মানে আরও দ্বিগুণ খারাপ পরিবেশে আমাকে কাজ করানো হয়। যা আমার শ্বাসনালীকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করে।" এরপরই আরও বিস্ফোরক অভিযোগ অভিনেতার!
জীতু কামাল, ছবি: সোশাল মিডিয়া
জীতুর সংযোজন, "গত ১৫ মার্চ সন্ধেবেলা সাড়ে ছ'টা-সাতটার সময় তুমুল ঝড়বৃষ্টি ওঠে। চন্দননগরের গঙ্গার ধারে কিন্তু সেই প্রোডাকশন হাউজ আমাকে গঙ্গার মধ্যে নৌকায় শুটিং করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। আমি জানাই, এভাবে শুটিং করব না। তার জন্যে পরেরদিন তারা গালিগালাজ করে। গায়ে হাত পর্যন্ত তুলতে আসে। এবং সেটা শুটিংয়ের শেষ দিন পর্যন্ত চলে। ১৬ তারিখের সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে আমি আর্টিস্ট ফোরামে সঙ্গে সঙ্গেই মেল করি। তবে সেই মেলের পরিপ্রেক্ষিতে কোনও ফোন পর্যন্ত আসেনি আমার কাছে। কে বলতে পারে, আমার অভিযোগটা যদি সেই দিন একটু গুরুত্ব নিয়ে দেখতেন, ন্যূনতম কথা বলতেন, আমি তো আপনাদের ফোরামেরই সদস্য ছিলাম, তাহলে, হয়তো রাহুলদার সাথে এই ভয়ানক ঘটনাটাই ঘটত না।" এবার প্রশ্ন, কাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন জীতু? উল্লেখ্য, গত মাসেই 'এরাও মানুষ: দ্য সার্চ উইদিন' ছবির সেটে দুর্ব্যবহার, গালিগালাজের অভিযোগ তোলেন অভিনেতা। জলে ডুবে রাহুলের মৃত্যুর পর সেই সিনেমার নির্মাতাদের বিরুদ্ধেই এবার আরও বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন জীতু কামাল।
