দীর্ঘ আঠারো বছর পর বড় পর্দায় ফিরছে ২৬/১১-এর মুম্বই হামলার সেই ভয়াবহতা। সৌজন্যে ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’। এই ছবিতে অভিনয় করেছেন মাণ্ডির সাংসদ ও অভিনেত্রী ‘ক্যুইন’ কঙ্গনা (Kangana Ranaut)। ২৮ মে বৃহস্পতিবার মুক্তি পেয়েছে সিনেমার পোস্টার যেখানে নার্সের ভূমিকায় দেখা যাবে অভিনেত্রীকে। আগামী ১২ জুন বড় পর্দায় মুক্তি পাবে কঙ্গনা অভিনীত এই ছবি। তার আগে সহ অভিনেত্রী স্মিতা তাম্বে ও গিরিজা ওকের সঙ্গে এক প্রচারমূলক আলাপচারিতায় অংশ নিয়েছিলেন অভিনেত্রী। সিনেমার কথা তো অবশ্যই হয়েছে, তবে সেই কথোপকথনে একটি বিষয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছেন কঙ্গনা। যে কোনও বিষয়েই বক্তব্য রাখতে দু'বার ভাবেন না। মনের কথা অকপটে বলে দেন অভিনেত্রী। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। তাহলে জেনে নেওয়া যাক কোন প্রসঙ্গে নিজের মতামত পেশ করেছেন অভিনেত্রী?
এবারে কঙ্গনার নজরে শুটিং সেটে সন্তানদের জন্য বিশেষ কক্ষের দাবি জানান কঙ্গনা। তাঁর মতে, শুটিং সেটে যখন মায়েরা কাজ করেন অনেক সময় সন্তানরা দেখা করেত আসে। তাদের জন্য একটা ঘর থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে মনে করেন কঙ্গনা। মায়েরা সংসার আর কর্মক্ষেত্রের প্রতি দায়বদ্ধতার ভারসাম্য বজায় রাখেন। এটা মোটেই সহজ নয়। কর্মজীবী মায়েদের নানান চ্যালেঞ্জ নিয়ে এবার মুখ খুললেন কঙ্গনা রানাউত। তাঁর এই ভাবনার উৎস কী?
কঙ্গনার নজরে শুটিং সেটের কোন খামতি ধরা পড়ল?
আসলে ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ছবির সহ অভিনেত্রী স্মিতা তাম্বের দুই মেয়ে প্রায়ই সেটে আসত। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর উপলব্ধি কর্মজীবী মায়েদের কথা মাথায় রেখে এখনও কর্মক্ষেত্রগুলো যথাযথভাবে গড়ে তোলা হয়নি। খানিকটা আবেগপ্রবণ হয়েই কঙ্গনা বলেন, "স্মিতাজির মেয়েরা সেটে আসত। অক্ষতের সন্তানও সেখানে ছিল। একসঙ্গে খেলাধুলা করত। তখনই আমার মনে প্রশ্ন জেগেছিল আমরা কর্মক্ষেত্রে প্রার্থনার ঘরসহ নানা সুবিধার কথা বলে থাকি কিন্তু শিশুদের জন্য আলাদা একটা ঘর কেন থাকবে না?"
কঙ্গনার বক্তব্য, মহিলাদের কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে বা টিকে থাকতে উৎসাহিত করলেই হবে না এমন ব্যবস্থাও করতে হবে যাতে মায়েরা বিনা সংকোচে তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে কাজে আসতে পারেন। বর্তমানে অনেক মহিলাকেই কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং পেশায় এগিয়ে আসছেন। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাবে প্রায়ই পরিবার এবং স্বপ্নের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে বাধ্য হন। যা মোটেই কাম্য নয়।
এই মর্মে কঙ্গনা বলেন, "সরকারের একটি দৃঢ় পরিকল্পনা আছে। নারীরা আরও বেশি করে কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করুক সেটাই সরকারের লক্ষ্য। যদি সত্যিই মহিলাদের আরও সক্রিয়ভাবে কর্মক্ষেত্রে নিয়ে আসতে হয় তাহলে তাঁদের সুবিধা অসুবিধাগুলো গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে।"
