লক্ষ্মীবারে কলকাতার এক পাঁচতারা হোটেলে 'আখরি সওয়াল' ছবির প্রচারানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। যে ছবিতে অভিনয় করেছেন মিঠুনপুত্র নমাশি চক্রবর্তী। আর সেই সিনেমার প্রচারেই যোগ দিয়েই টলিউডের নিষিদ্ধ সংস্কৃতি থেকে মহিলাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নিয়ে সরব লকেট চট্টোপাধ্যায় (Locket Chatterjee)। উল্লেখ্য, বাংলার মসনদে বিজেপি আসার পর সিনেদুনিয়ার প্রথম কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ। মিঠুনপুত্রের সিনেমার প্রচারে এসে বাংলা সিনেইন্ডাস্ট্রির কাজের সংস্কৃতি নিয়ে কী বললেন?
শেষবার লকেটকে দেখা গিয়েছিল কুড়ি সালে 'সন্ন্যাসী দেশনায়ক' ছবিতে। তারপর থেকে রাজনীতির ময়দানেই বেশি সক্রিয় দেখা গিয়েছে তাঁকে। তবে ছাব্বিশের নির্বাচনে বাংলার রাজনীতিতে পালাবদলের পর এবার এই প্রথম কোনও সিনে-অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েই 'নস্ট্যালজিক' হয়ে পড়লেন লকেট চট্টোপাধ্যায়।
'আখরি সওয়াল' ছবির প্রচারানুষ্ঠানে লকেট চট্টোপাধ্যায়।
২০১৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন লকেট। তার প্রাক্কালে তৃণমূলের হাত ধরেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি করেছিলেন। কিন্তু বছর খানেক ঘুরতেই গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন। তারপর থেকে টলিউডি লাইমলাইটে সেভাবে দেখা যায়নি অভিনেত্রীকে। বিজেপিতে যোগদানের জন্যেই কি ইন্ডাস্ট্রিতে কোণঠাসা হয়েছিলেন? এহেন প্রশ্ন বারবার ঘুরেফিরে এসেছে। শেষবার লকেটকে দেখা গিয়েছিল কুড়ি সালে 'সন্ন্যাসী দেশনায়ক' ছবিতে। তারপর থেকে রাজনীতির ময়দানেই বেশি সক্রিয় দেখা গিয়েছে তাঁকে। তবে ছাব্বিশের নির্বাচনে বাংলার রাজনীতিতে পালাবদলের পর এবার এই প্রথম কোনও সিনে-অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েই 'নস্ট্যালজিক' হয়ে পড়লেন লকেট চট্টোপাধ্যায়।
"আমি যখন বিজেপিতে যোগ দিই তখন অনেক প্রযোজককে বলে দেওয়া হয়েছিল, আমায় যেন কাজ না দেওয়া হয়। চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরও তাঁরা আমায় জানিয়েছিলেন,..."
'আখরি সওয়াল' ছবির প্রচারানুষ্ঠানে যোগ দিয়ে টলিউডের ব্যান কালচার থেকে নারী নিরাপত্তা নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। লকেট চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য, "বাংলার মেয়েরা নিজের ইচ্ছেতে চলবে। রাত আটটার পর বেরতে পারবে না, এইসব আর কেউ বলবে না। তারা যখন খুশি বেরতে পারবে। তারা যা খুশি পরতে পারবে। তাদের পোশাকের ব্যপারে কেউ কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। মেয়েরা নিরাপদ।" এরপর অতীতের স্মৃতি হাতড়ে লকেটের সংযোজন, "২০১৪ সালে আমি যখন বিজেপিতে যোগ দিই তখন অনেক প্রযোজককে বলে দেওয়া হয়েছিল, আমায় যেন কাজ না দেওয়া হয়। চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরও তাঁরা আমায় জানিয়েছিলেন, উপর থেকে নির্দেশ আছে, আপনার নাম বাদ দিতে হবে। আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। কিন্তু সেসময়ে কোনও শিল্পীকে আমি পাশে পাইনি। তাই এই নিষিদ্ধ সংস্কৃতি যেন টলিউডে পুনরায় ফিরে না আসে, এটাই চাইব। টলিউডে ব্যান কালচার থাকবে না। আমরা কারোর পেটে লাথি পড়তে দেব না। সবাই কাজ করবে।"
