আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর থেকে অগ্নিগর্ভ ইরান। যদিও সংশ্লিষ্ট দেশের সুপ্রিম লিডারের হত্যায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে। এমনকী পালটা হামলাও শুরু করেছে ইরান। এমন যুদ্ধজর্জর পরিস্থিতিতেই ভারত তথা বলিউডের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে স্বভূমে ফিরতে মরিয়া ইরানি কন্যা মন্দানা করিমি।
"গত দু' মাসে মুম্বইতে যতটা একাকীত্ব বোধ করেছি, আগে কখনও সেরকম মনে হয়নি। এখানে আমার অনেক বন্ধু আছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ইরান সম্পর্কে এত খোলামেলাভাবে বিক্ষোভ দেখিয়ে অনেক 'তথাকথিত' বন্ধু হারালাম। আমার মনে হয় ভারত আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।"
দেশের জ্বলন্ত পরিস্থিতি নিয়ে পঁচিশ সালেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন মন্দানা। গতবছর ইরানের তিন পরমাণু কেন্দ্রে যখন আমেরিকা হামলা চালায় সেসময়ে মায়ানগরীর সেলেব পাড়ায় বসে বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছেন অভিনেত্রী। তবে গত শনিবার ইরানে খামেনেই দূর্গ পতনের পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে 'মুক্তিদাতা' আখ্যা দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন মন্দানা করিমি। তাঁর মতে, একমাত্র ট্রাম্পই পারেন এই অন্ধকার থেকে ইরানকে আলোর পথে নিয়ে আসতে। ইরানি মডেল-নায়িকা অবশ্য বরাবরই খামেনেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। হিজাব বিরোধী আন্দোলনের সময়ও সরব হয়েছিলেন। এবার খামেনেই পতনের পরও স্পষ্টভাষায় মন্দানা বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি মুক্ত ইরানকে দেখতে চান এবং সেপথ প্রশস্ত করার একমাত্র কাণ্ডারি হিসেবে ট্রাম্পকেই দেখতে পাচ্ছেন। কিন্তু এবার এক সাক্ষাৎকারে ভারত এবং বলিউডের বিরুদ্ধে ক্ষোভপ্রকাশ করে মন্দানা করিমি যা বললেন তাতে চমকে উঠতে হয়!
বদলের জন্মভূমিতে ফিরতে মরিয়া অভিনেত্রীর মন্তব্য, "এক স্বাধীন ইরানকে দেখতে পাচ্ছি। যে দেশে নারীরা নিজেদের ইচ্ছেমতো চলতে পারবেন, যা খুশি পরতে পারবেন। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে চান, সেখানেই পড়তে পারবেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গেও ইরানের দুর্দান্ত সম্পর্ক দেখতে পাচ্ছি। যেখানে আর কেউ ইরানকে হুমকি বলে মনে করবে না। আমরা ইরানের মানুষেরাই মজবুত মধ্যপ্রাচ্য গড়ে তোলার অগ্রদূত। যে মুহূর্তে ইরানে বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন হবে, আমি ওখানে চলে যাব। ব্যাগপত্তরও গুছিয়ে রেখেছি। এবং খুব শিগগিরি ভারতের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে দেশে ফিরে যাব। কারণ আমার পক্ষে এখানে থাকা খুবই কষ্ঠের হয়ে উঠেছে।" কেন? এপ্রসঙ্গে মন্দানা বলছেন, "ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে অনেকের বিরাগভাজন হয়েছি। বলিউডে বহু বন্ধু হারিয়েছি।" কীরকম?
মন্দানা করিমি
মডেল-অভিনেত্রীর সংযোজন, "গত দু' মাসে মুম্বইতে যতটা একাকীত্ব বোধ করেছি, আগে কখনও সেরকম মনে হয়নি। এখানে আমার অনেক বন্ধু আছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ইরান সম্পর্কে এত খোলামেলাভাবে বিক্ষোভ দেখিয়ে অনেক 'তথাকথিত' বন্ধু হারালাম। আমার মনে হয় ভারত আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। অবশ্য ভারত আমাকে অনেক কিছুই দিয়েছে। আমার পেশাগত পরিচিতি গড়ে দিয়েছে। এখন আমার এগিয়ে যাওয়ার সময়। এবং আশা করছি এবার আমি ইরানে ফিরতে পারব।" একসময়ে 'বিগ বস'-এর ঘরে প্রতিযোগী হিসেবে যোগ দিয়ে বিনোদুনিয়ায় পরিচিতি পেয়েছিলেন মন্দানা করিমি। ইরানি লাস্যময়ীর রূপে মোহিত অনুরাগীর সংখ্যাও নেহাত কম নয় ভারতে। সফল মডেল হওয়ার পাশাপাশি বলিউডেও বেশ কিছু কাজ করে ফেলেছেন তিনি। কিন্তু যেখানে কর্মক্ষেত্র গড়ে তুলেছেন, এবার সেই মাটির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরেই স্বদেশে ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মন্দানা করিমি।
