রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষযাত্রায় চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা! গত চব্বিশ ঘণ্টায় এহেন একাধিক ক্যামেরাবন্দি মুহূর্ত চর্চার শিরোনামে উঠে এসেছে। কেউ রাজনৈতিক দলের গান-স্লোগানে আপত্তি তুলেছেন তো কেউ বা আবার রাজনীতিকদের শ্রদ্ধা জানানোর 'ঢল' দেখে ভ্রু কুঁচকেছেন! এমন আবহেই সংশ্লিষ্ট বিতর্কযজ্ঞে ঘৃতাহূতি করল মীর আফসার আলির বিস্ফোরক পোস্ট।
"প্রথমত, গুণী ব্যক্তির মরদেহ ঘিরে রাজনৈতিক মাথা এবং তাঁদেরই পায়ে বিক্রি হয়ে যাওয়া কিছু মানুষের হ্যাংলামির সেই চেনা ছবি। দ্বিতীয়ত, শিল্পীর বাড়ীর সামনে মাঝারি মাপের সার্কাস। যেটা দেখার পরই ঘেন্নায় আর বেরোলাম না 'শেষ শ্রদ্ধা' জানাতে। কারণ 'অশেষ শ্রদ্ধা' জানিয়ে ফেলতে মরীয়া আজব কিছু জনগণ।..."
সোমবার বিকেল। ঘড়িতে তখন চারটে দশ। জনতার ভিড়ে থিক থিক করছে বিজয়গড় চত্বর। চোখের জলে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Rahul Arunoday Banerjee) শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাজির হয়েছিলেন ইন্ডাস্ট্রির তারকা, কলাকুশলী থেকে রাজনীতিকরাও। জনসুনামির মাঝে অভিনেতার নিথর দেহ যখন তাঁর বিজয়গড়ের বাসভবন থেকে বের করা হয় তখন প্রয়াত অভিনেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে প্রায় ধাক্কাধাক্কি, ঠেলাঠেলির জোগাড় হয়। যেসব ক্যামেরাবন্দি মুহূর্ত আপাতত নেটভুবনের আতশকাচে। শিল্পীর মরদেহ ঘিরে এহেন রেষারেষির ছবি নজর এড়ায়নি মীর আফসার আলিরও (Mir Afsar Ali)। সেই প্রেক্ষিতেই সোশাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তিনি। রাজনীতিক, টলিউড তারকা থেকে আমজনতাদের একযোগে আক্রমণ শানিয়েছেন মীর।
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষযাত্রা। নিজস্ব চিত্র
সঞ্চালক-অভিনেতার মন্তব্য, "রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের এভাবে চলে যাওয়া থেকে কয়েকটি ছোট 'প্রাপ্তি'। প্রথমত, গুণী ব্যক্তির মরদেহ ঘিরে রাজনৈতিক মাথা এবং তাঁদেরই পায়ে বিক্রি হয়ে যাওয়া কিছু মানুষের হ্যাংলামির সেই চেনা ছবি। দ্বিতীয়ত, শিল্পীর বাড়ীর সামনে মাঝারি মাপের সার্কাস। যেটা দেখার পরই ঘেন্নায় আর বেরোলাম না 'শেষ শ্রদ্ধা' জানাতে। কারণ 'অশেষ শ্রদ্ধা' জানিয়ে ফেলতে মরীয়া আজব কিছু জনগণ। আর তৃতীয়ত, কিছু 'ঝাপসা' কলাকুশলীর 'এক্সপার্ট কমেন্ট' রাহুলের অভিনয় দক্ষতা নিয়ে। আর কিছু কি মিস করে গেলাম?" মীর আফসার আলির এহেন পোস্টই আপাতত নেটভুবনের আতশকাচে! যদিও নেটপাড়ার একাংশ সঞ্চালকের মন্তব্যে সায় দিয়েছেন, তবে পালটা কটাক্ষের শিকারও কিন্তু হতে হয়েছে তাঁকে।
কারও মন্তব্য, 'রাহুলের রাজনৈতিক মতাদর্শ সুস্পষ্ট ছিল,আছে,থাকবে। একজন কমরেড তাঁর বিদায় বেলায় যা যা ডিজার্ভ করেন সেটাই হয়েছে। যাঁদের আদর্শ ঘোলা, তাঁরাই জলঘোলা করতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছে।' কেউ বা বললেন, আমাদের কমরেড মারা গেলে আমাদের চোয়াল শক্ত হয়, কন্ঠস্বর দৃপ্ত হয়। একবুক হাহাকার নিয়ে আমরা 'লাল সেলাম' বলে চিৎকার করি। আপনার মতো রাজনৈতিক পরিচয় গোপন রাখা ভদ্রলোক অন্তত রাহুল ছিলেন না!
একাংশের অনুমান, বামেদের তোপ দেগেই এহেন পোস্ট করেছেন মীর আফসার আলি। আর সেই প্রেক্ষিতেই বামসমর্থকরা পালটা আক্রমণ শানিয়েছেন সঞ্চালকের উদ্দেশে। কারও মন্তব্য, 'রাহুলের রাজনৈতিক মতাদর্শ সুস্পষ্ট ছিল,আছে,থাকবে। একজন কমরেড তাঁর বিদায় বেলায় যা যা ডিজার্ভ করেন সেটাই হয়েছে। যাঁদের আদর্শ ঘোলা, তাঁরাই জলঘোলা করতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছে।' কেউ বা বললেন, আমাদের কমরেড মারা গেলে আমাদের চোয়াল শক্ত হয়, কন্ঠস্বর দৃপ্ত হয়। একবুক হাহাকার নিয়ে আমরা 'লাল সেলাম' বলে চিৎকার করি। আপনার মতো রাজনৈতিক পরিচয় গোপন রাখা ভদ্রলোক অন্তত রাহুল ছিলেন না! কেউ লিখেছেন, 'আজীবন বামপন্থায় বিশ্বাসী রাহুল তাঁর শেষ যাত্রায় লাল পতাকা আর 'ইন্টারন্যাশনাল' সঙ্গীতের মাধ্যমে বিদায় সম্ভাষণ অর্জন করেছেন। এটাই তো সেরা প্রাপ্তি। আপনার তো সেই শিরদাঁড়াটাও মিসিং!' এহেন নানা কটাক্ষবাণে ছেয়ে গিয়েছে মীরের পোস্টে মন্তব্য বাক্স। কেউ বা আবার অতীতে ঋতুপর্ণ ঘোষের টক শোয়ের অংশ ভাগ করে নিয়ে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, একমাত্র তিনিই মীরকে উচিত শিক্ষা দিতে পেরেছিলেন। সবমিলিয়ে নেটভুবনের চর্চায় রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষযাত্রা নিয়ে মীরের শ্লেষাত্মক পোস্ট।
