shono
Advertisement
Nepal Flood

'বৃষ্টির মধ্যে ৫ ঘণ্টা জঙ্গলে বসে...', জলরোষে বিধ্বস্ত নেপাল থেকে কী জানালেন উদ্বিগ্ন খরাজ?

Kharaj Mukherjee: অবশেষে নেপাল থেকে ফোনে ধরা দিলেন খরাজ মুখোপাধ্যায়। কোন ঘুরপথে কলকাতা ফিরবেন? জানালেন অভিনেতা।
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 12:54 PM Aug 27, 2026Updated: 01:48 PM Aug 27, 2026

প্রকৃতির রুদ্ররোষে বিধ্বস্ত নেপাল (Nepal Flash Flood)। তিব্বত থেকে ধেয়ে আসা হড়পা বানে ভয়াবহ পরিস্থিতি সেখানে। দানবীয় জলের ঢেউয়ে মুহূর্তের মধ্যে নিশ্চিহ্ন গোটা জনপদ। প্রকৃতির ভয়াবহ এই প্রলয়লীলার টুকরো ছবি-ভিডিও রীতিমতো বুকে কাঁপন ধরার মতো। এমতাবস্থায় নেপালে শুটিং করতে গিয়ে বিপাকে অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায়। সস্ত্রীক আটকে পড়েছেন সেখানে। বুধবারই এপ্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলেছিলেন খরাজপুত্র বিহু মুখোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সকালে নেপাল থেকে ফোনে ধরা দিলেন খোদ অভিনেতা। কেমন পরিস্থিতি? কীভাবেই বা ফিরবেন? জানালেন খরাজ।

Advertisement

"গতকাল জঙ্গলে একটা সিকোয়েন্সের শুটিং করছিলাম। সেখানে বৃষ্টির মধ্যে প্রায় ৫ ঘণ্টা টানা জঙ্গলে বসে থাকতে হয়। খুব কঠিন..."

নেপাল থেকে অভিনেতা জানান, "কী প্রচণ্ড ভুগছি। গতকাল জঙ্গলে একটা সিকোয়েন্সের শুটিং করছিলাম। সেখানে বৃষ্টির মধ্যে প্রায় ৫ ঘণ্টা টানা জঙ্গলে বসে থাকতে হয়। খুব কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই ছিলাম। ওর মধ্যেই শুটের ব্যবস্থা করা হয় কিন্তু অনেকক্ষণ শুটিং ব্যাহত হয়। একবার নয় বহুবারই এমন হয়েছে। আজকে কাঠমান্ডু থেকে টিকিট করা ছিল। কিন্তু সেই টিকিকের টাকা আবার ফেরতযোগ্য নয়। সেইজন্য আমি টিমকে বলেছিলাম ২৬ তারিখ যেন তাড়াতাড়ি শুটিংটা সেরে ফেলা যায়। তো আমাদের শুটিং যখন শেষ হল, ফ্লাইটের টিকিট সব বুক হয়ে গিয়েছিল। এদিকে রাস্তাও বন্ধ। ফলত কাঠমান্ডু যাওয়ার কোনও উপায় হল না।" তাহলে কীভাবে ফিরবেন? এপ্রসঙ্গে খরাজ মুখোপাধ্যায় জানালেন, অনেক খোঁজখবর করে জানতে পারলাম এখান থেকে সোজাসুজি গোরক্ষপুর যাওয়া সম্ভব। ওই রাস্তাটা খোলা। তো ওই রাস্তা ধরেই আজ আমরা বেরিয়ে পড়ব। আগামিকাল বিমানে কলকাতা ফিরব, এখনও পর্যন্ত সেরকমই পরিকল্পনা।" বুধবার খরাজপুত্র বিহু জানিয়েছিলেন, "বাবা-মা দু'জনেই পোখরায় রয়েছেন। অন্যান্য কলাকুশলীরাও সেখানেই রয়েছেন। সকলেই ঠিক আছেন।"

ভয়ংকর হড়পা বানে একের পর এক গ্রাম সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন।

আকস্মিক বন্যার জেরে রীতিমতো ধ্বংসযজ্ঞ চলে রসুয়া জেলায়। নিখোঁজ ১০৫ ভারতীয়-সহ ৪০০ কৈলাসযাত্রী। গ্রামের পর গ্রাম চলে গিয়েছে জলের নিচে।

সূত্রের খবর, এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত চিনের তিব্বতে। সেখান থেকে বন্যার জল প্রবেশ করে নেপালের রসুয়া জেলায়। কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১২৫ কিমি দূরে অবস্থিত এই জেলার উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে ভোটেকোশী নদী। বুধবার সকাল থেকেই আচমকা নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরপরই চিন সীমান্তবর্তী জেলায় ওই হড়পা বান নামে। আকস্মিক বন্যার জেরে রীতিমতো ধ্বংসযজ্ঞ চলে রসুয়া জেলায়। ভোটেকোশী নদীর জলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চিন সীমান্তবর্তী তিমুর ও স্যাফ্রুবেসি এলাকা। সেখানে বহু ঘরবাড়ি, যানবাহন ভেসে গিয়েছে। জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে একটি সেতুও। নিখোঁজ ১০৫ ভারতীয়-সহ ৪০০ কৈলাসযাত্রী। গ্রামের পর গ্রাম চলে গিয়েছে জলের নিচে। বন্যার জল ক্রমশ নিচের দিকে নেমে আসায় নেপালের সীমান্তবর্তী রাজ্য বিহার এবং উত্তরপ্রদেশেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্য়া আরও বাড়ার আশঙ্কা। ইতিমধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement