দীর্ঘ দু'দশক বাদে টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক পালাবদল। এযাবৎকাল টালিগঞ্জ আর অরূপ বিশ্বাস যেন সমার্থক হয়ে উঠেছিলেন! কিন্তু ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে বাংলায় পদ্ম ফুটতেই সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের সবুজ দূর্গেও ধস নামে। অরূপের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীকে হারিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন পাপিয়া অধিকারী। জনাদেশের এহেন মার্কশিটে খুশি হয়ে ইতিমধ্যেই সিনেইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে 'অ্যাকশনে' নেমে পড়েছেন নিজেকে মোদির সেনাপতি' বলে পরিচ দেওয়া নেত্রী-অভিনেত্রী। এবার বুধসকালে আরও একধাপ এগিয়ে গঙ্গাজলে ফেডারশনের অফিস 'শুদ্ধ' করলেন টালিগঞ্জের তারকা বিধায়ক।
"রাহুলের কেস ওপেন করা হবে। কারণ ওঁর মৃত্যুর কোনওরকম অনুসন্ধান হল না। প্রযোজকরা কী করলেন? শিল্পীর সুরক্ষার পুরোপুরি দায়িত্ব নিতে হবে।"
বিগত এক দশকে 'ফেডারশন' আর স্বরূপ বিশ্বাস পরস্পরের সমার্থক ছিল। এইসময়ে একাধিকবার 'রাজনীতির নাগপাশ থেকে টলিউডকে মুক্ত' করার দাবি উঠেছে বাংলা সিনেপাড়ায়! কখনও বিরোধী শিবির সমর্থক হওয়ায় ইন্ডাস্ট্রিতে শিল্পীদের কোণঠাসা হওয়ার খবর মিলেছে, তো কখনও বা আবার ক্ষমতার আস্ফালনের অভিযোগে সরব হওয়ায় বিরাগভাজন হতে হয়েছে শিল্পীদের। গত একবছরে ফেডারেশনের আস্ফালনে বাংলা সিনেপাড়ার 'ব্যান কালচার' নিয়েও কম হইচই হয়নি। সিনেইন্ডাস্ট্রির একাধিক ব্যক্তিত্ব এযাবৎকাল অভিযোগ তুলেছেন যে, টলিউডে একচ্ছত্র প্রতিপত্তি বহাল রেখেছিল 'বিশ্বাস ব্রাদার্স'। তবে বুধসকালে ফেডারেশনের অফিসে গঙ্গাজল ছিটিয়ে পাপিয়া অধিকারী সদর্পে বললেন, "বিশ্বাস ব্রাদার্স-এর জমানা শেষ। অরূপ-স্বরূপের দাদাগিরি আর থাকবে না। কারও কোনও ভয় নেই। আপনারা এবার খোলা হাওয়ায় শ্বাস নিন।" তারকা বিধায়কের এহেন মন্তব্যে কলাকুশলীরাও রীতিমতো উচ্ছ্বসিত।
"আর্টিস্টদের আগের দিন রাতে কল টাইম দেওয়া যাবে না। তিন দিন আগে কল টাইম দিতে হবে। আগের দিন মাঝ রাতে ফোন করে 'আগামীকাল শুটিং আছে' এই সংস্কৃতি আর চলবে না।...."
কড়া বার্তা বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর।
এদিন টেকনিশিয়ান স্টুডিওয় ফেডারেশনের অফিসে পাপিয়াকে জমকালো সংবর্ধনা দেন কলাকুশলীরা। ভেন্ডার গিল্ডের সম্পাদক সৈকত দাস-সহ সমস্ত গিল্ডের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এরপরই ফেডারেশনের অফিসে গঙ্গাজল ছেটান তিনি। বিজেপির নেত্রী-অভিনেত্রীর মন্তব্য, "শুদ্ধিকরণ করব বলেই গঙ্গাজল এনেছিলাম। এবার শেষমেশ চারপাশটা শুদ্ধ হল।" শুধু তাই নয়, টলিউডে নারী নিরাপত্তা নিয়েও কড়া বার্তা দেন পাপিয়া অধিকারী। টালিগঞ্জের তারকা বিধায়কের মন্তব্য, "মহিলাদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার দিকটা দেখতে হবে। রাতে শুটিং হলে মহিলাদের যথাযথভাবে বাড়িতে পৌঁছে দিতে হবে। আর্টিস্টদের আগের দিন রাতে কল টাইম দেওয়া যাবে না। তিন দিন আগে কল টাইম দিতে হবে। আগের দিন মাঝ রাতে ফোন করে 'আগামীকাল শুটিং আছে' এই সংস্কৃতি আর চলবে না। রাহুলের কেস ওপেন করা হবে। কারণ ওঁর মৃত্যুর কোনওরকম অনুসন্ধান হল না। প্রযোজকরা কী করলেন? শিল্পীর সুরক্ষার পুরোপুরি দায়িত্ব নিতে হবে।" পাপিয়া অধিকারীর পাশে এদিন উপস্থিত ছিলেন মুমতাজ সরকার। মুমতাজ জানান, আগের সরকারের 'কাছের লোক' ছিলেন না বলে তিনি দীর্ঘদিন টলিউডে কাজ পাননি। সরকার বদলের পর এবার স্টুডিওতে পা রাখলেন।
