জন্মলগ্ন থেকেই বিতর্কে 'কেরালা স্টোরি ২'। ঝলক প্রকাশ্যে আসার পরই কামাখ্যা নারায়ণ সিং পরিচালিত এই সিনেমার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে আঘাত হানার অভিযোগ তুলেছিলেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। প্রথমভাগের মতো 'কেরালা স্টোরি'র সিক্যুয়েলকেও 'বিষাক্ত প্রোপাগান্ডা'র আখ্যা দিয়ে সমালোচনায় সরব হয়েছেন তিনি। সিনেমার বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি তুলেছেন সর্বভারতীয় জামাত সভাপতি মওলানা শাহাবুদ্দিন রাজভিও। এমন আবহেই দর্শকমহলের চর্চায় ছবির এক দৃশ্য। যেখানে সিনেমার এক চরিত্রকে বলপূর্বক গোমাংস খাওয়ানোর দৃশ্য দেখানো হয়েছে। এবার সেই প্রেক্ষিতেই 'কেরালা স্টোরি ২' নির্মাতাদের বিদ্রুপাত্মক খোঁচা প্রকাশ রাজের।
প্রকাশ বরাবরই ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। খানিক খোলসা করে বললে, একাধিকবার একাধিক সাক্ষাৎকারে দক্ষিণী অভিনেতা নিজস্ব মতামতেই স্পষ্ট করেছেন যে তিনি গেরুয়া শিবির বিরোধী। যার জন্য প্রশংসার পাশাপাশি প্রকাশের সঙ্গী হয়েছে বিতর্কও। তবে কটাক্ষ-সমালোচনাকে পাত্তা না দিয়ে অভিনেতা বরাবর নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং ধারণায় অনড় থেকেছেন। এবার 'কেরালা স্টোরি ২' ছবির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কেরলে রাজ্যজুড়ে যখন এই সিনেমা নিয়ে হইচই, বয়কটের ডাক উঠেছে, তখন সেই বিতর্কযজ্ঞে ঘৃতাহূতি করল প্রকাশ রাজ একটি পোস্ট। যেখানে একটেবিলে পর্ক (শুয়োরের মাংস), গোমাংস এবং মাছের রকমারি পদ দেখা যাচ্ছে।
'কেরালা স্টোরি ২' ছবির বিতর্কিত দৃশ্য। ছবি- সংগৃহীত
একপাতে ভিনধর্মী, ভিন খাবারের সহাবস্থান দর্শিয়েই প্রকাশ রাজের খোঁচা, "এটাই হচ্ছে আসল কেরালা স্টোরি। নিরামিষ পদ সাদিয়ার সঙ্গে কীভাবে শুয়োরের মাংস, গরুর মাংস এবং মাছ মিলেমিশে একপাতে রয়েছে। এটাই তো এখানকার সম্প্রীতি।" সম্প্রতি 'কেরালা স্টোরি ২'-এর কড়া নিন্দা করেছেন পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপও। তবে যাবতীয় বিতর্ক সত্ত্বেও সেন্সর বোর্ডের তরফে U/A ছাড়পত্র পেয়ে আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি বড়পর্দায় মুক্তির আলো দেখতে চলেছে এই ছবি।
প্রকাশ রাজের পোস্ট ঘিরে হইচই!
ঠিক কী রয়েছে ‘কেরালা স্টোরি ২’-এর ঝলকে, যার জন্যে বিতর্কের শিরোনামে নাম লেখাল এই সিনেমা? একাধিক ভয়ার্ত নারীর মুখের আড়ালে তুলে ধরা হয়েছে জোর করে ধর্মান্তরিতকরণের এক ভয়ঙ্কর কাহিনি। তাঁরা কেউ সুরেখা নাইয়ার, নেহা সন্ত। নেপথ্য কণ্ঠে উল্লেখ, “আমাদের মেয়েরা প্রেমে পড়ে না, ফাঁদে পড়ে। এবার থেকে আর সহ্য করবে না তারা। ঘুরে দাঁড়াবে।” সেই মেয়েগুলির কেউ চেয়েছিল আইএএস অফিসার হতে তো কেউ চেয়েছিল নামী নৃত্যশিল্পী হয়ে সমাজে নিজের পরিচয় গড়ে তুলতে। কেউ আবার বলছেন, হিন্দু থেকে ইসলাম ধর্মাবলম্বী হয়েছিলেন শুধু ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সুখে ঘরকন্না করবেন বলে। কিন্তু সেই সুখ আসলে ফানুস! তাদের সিংহভাগই বলপূর্বক ধর্মান্তরিতকরণের শিকার। এমনকী টিজারেও উল্লেখ করা হয়েছিল যে, এ দেশকে মুসলিম অধ্যুষিত দেশ বানানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আর সেই সূত্রেই ‘কেরালা স্টোরি ২’ ছবির বিরুদ্ধে প্রথমার্ধের মতোই সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপনের অভিযোগ উঠেছে।
