সমুদ্রের অতল গ্রাসে রাহুলের মৃত্যুর পর কেটে গিয়েছে সপ্তাহখানেক। এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি, ঠিক কীভাবে প্রাণ গেল অভিনেতার। চলছে তীব্র চাপানউতোর। এই আবহে জোড়া এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তালসারি মেরিন থানাতেও এফআইআর দায়ের করেছেন প্রিয়াঙ্কা। মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তিনি।
ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার প্রাইভেট লিমিটেডের প্রধান লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়, 'ভোলে বাবা পার করেগা' ধারাবাহিকের পরিচালক শুভাশিস মণ্ডল, ফ্লোর এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার শান্তনু নন্দী, প্রোডাকশন ম্যানেজার চন্দ্রশেখর চক্রবর্তী-সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার প্রাইভেট লিমিটেডের প্রধান লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়, 'ভোলে বাবা পার করেগা' ধারাবাহিকের পরিচালক শুভাশিস মণ্ডল, ফ্লোর এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার শান্তনু নন্দী, প্রোডাকশন ম্যানেজার চন্দ্রশেখর চক্রবর্তী-সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে প্রিয়াঙ্কা জানিয়েছেন, ধারাবাহিকের শুটিংয়ের সময় কলাকুশলীদের সামনেই রাহুলের মৃত্যু হয়েছে। দুঃসংবাদ প্রকাশ্যে আসার পর তিনি জানতে পারেন শুটিংয়ের সময় কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাবিধিও মানা হয়নি। যে জায়গাটিতে শুটিং চলছিল সেখানে চোরাবালি এবং জোয়ারের ফলে বিপদের আশঙ্কা ছিল। তা প্রোডাকশন হাউসের সঙ্গে যুক্ত সকলে জানা সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ প্রিয়াঙ্কার। অভিনেতা ঘরনির দাবি, প্রোডাকশন হাউস এই ঘটনায় নিজেদের দায় ঝাড়তে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বিবরণ দিয়েছে। প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন শোকস্তব্ধ প্রিয়াঙ্কা।
এদিকে, রাহুলের মৃত্য়ুতে নড়েচড়ে বসেছে আর্টিস্ট ফোরাম। শুটিংয়ে যথাযথ নিরাপত্তার দাবিতে সরব সদস্যরা। রবিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ বৈঠক হয়। টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে আর্টিস্ট ফোরাম। ফোরামের জেনারেল সেক্রেটারি শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় সাফ জানান, “যাদের হাতে সুরক্ষা ব্যবস্থা আছে তাঁরা যতক্ষণ না নিশ্চিত করছেন ততক্ষণ কর্মবিরতি চলবে। আর্টিস্ট ফোরামের চার হাজার সদস্য, ফেডারেশনের সাত হাজার টেকনিশিয়ান এবং সকল কলাকুশলী মিলে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। আমরা যাঁরা শিল্পী তাঁদের নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে। শুটিংয়ে বেরিয়ে ফিরতে পারব কি না সেটা বুঝতে পারি না। রাহুল আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেল নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভাবা উচিত।”
