ফেব্রুয়ারি মাসেই দিল্লি উচ্চ আদালতে বড় স্বস্তি পেয়েছেন রাজপাল যাদব। ৯ কোটির চেক বাউন্স মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে এগারো দিন বাদে তিহাড় জেল থেকে মুক্তি পান অভিনেতা। জেলমুক্তির পরই শাহজাহানপুরে নিজের পৈতৃক ভিটেতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠান পর্ব মিটিয়ে লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশনের দুনিয়াতেও ফিরেছেন রাজপাল যাদব। অভিনেতাকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিল দিল্লি হাইকোর্ট। বুধবার ফের সংশ্লিষ্ট মামলার শুনানি হয়। সেখানেই বিস্ফোরক অভিনেতা!
রাজপাল যাদব, ছবি- সোশাল মিডিয়া
বুধবার মামলার শুনানির সময়েই আদালতের তরফে জানানো হয় যে, চেক বাউন্স সংক্রান্ত মামলায় দিল্লি নিবাসী অভিযোগকারীকে রাজপাল যাদব ইতিমধ্যেই অর্ধেক টাকা শোধ করেছেন। সেই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেই এদিন আদালত রাজপালকে ফের জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেয়নি এবং অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ বহাল রেখেছে। শুনানি শেষে রাজপাল যাদবের আইনজীবী এস কে শর্মা সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, "আদালত রাজপালজিকে জিজ্ঞেস করে, 'আপনি তো বিভিন্ন সময়ে বলেছেন যে, আপনি টাকা শোধ করে দিতে চান, তাহলে কি আপনি এখন সেটেলমেন্টের পথে হাঁটবেন নাকি না?' জবাবে রাজপালজি জানান, তিনি এখন আর কোনও আপসে যেতে চান না। বরং আইনি পথে আদালতে সওয়াল করতে চান। এরপরই অভিনেতা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোর্টে আবেদন করেন। আগামী পয়লা এপ্রিল সেই মামলার শুনানি হবে।"
২০১০ সালে ‘আতা পাতা লাপাতা’ সিনেমার জন্য মুরালি প্রজেক্ট নামে দিল্লির এক সংস্থার থেকে ৫ কোটি টাকা ধার করেছিলেন অভিনেতা। সেই ছবির বক্স অফিসে ভরাডুবি হওয়ায় টাকা ফেরত দিতে পারেননি তিনি। ফলত, মামলা গড়ায় আদালত অবধি। এদিকে কয়েকবার সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও বকেয়া না মেটাতে পারায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লি উচ্চ আদালতের নির্দেশে আত্মসমর্পণ করেন রাজপাল যাদব। জেলযাত্রার প্রাক্কালে করুণ সুরে বলেছিলেন, “আমার কোনও বন্ধু নেই যে বকেয়া টাকা মেটাবে।” এরপরই বলিউড তারকারা একে-একে অনেকে অর্থসাহায্যের হাত বাড়িয়েছিলেন বলে জানা যায়।
