প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও জানুয়ারি মাসে দ্বিতীয় বিয়ে সেরে তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন খড়গপুরের বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায় (Hiran Chatterjee)। যার জেরে প্রথম পক্ষের স্ত্রী-সন্তানের দায়ের করা অভিযোগে আইনি জটিলতাতেও পড়তে হয় তাঁকে। ফলত, দ্বিতীয় বিবাহ অভিযান বিতর্কের পর ছাব্বিশে তিনি টিকিট পাবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা ছিলই। তবে, গত সোমবার বিজেপির প্রথম প্রার্থীতালিকা প্রকাশ্যে আসতেই দেখা যায়, নিজের জেতা আসন খড়গপুর কেন্দ্র হাতছাড়া হয়েছে হিরণের। এরপরই প্রশ্ন ওঠে, দ্বিতীয় বিয়ে বিতর্কের জেরেই কি টিকিট পেলেন না খড়্গপুরের 'মাচো' বিধায়ক? এহেন জল্পনাযজ্ঞের মাঝেই শেষবেলায় 'খেলা দেখালেন' হিরণ চট্টোপাধ্যায়।
"এক বছর আগেই দল জানিয়ে দিয়েছিল যে খড়গপুরে টিকিট দেবে না। তবে কোথায় প্রার্থী করবে? সেকথা বলেনি তখনও। চব্বিশের লোকসভা ভোটের পরই জানতাম আমাকে এখান থেকে ছেড়ে চলে যেতে হবে। কিন্তু আমি তো খড়্গপুরের মাটি ছেড়ে যাইনি, কাজ করে গিয়েছি। খড়্গপুরের ইতিহাসে ১৯৫১ সালের পর পর এখানে যদি কোনও উন্নয়ন হয়ে থাকে, তাহলে সেটা গত ৫ বছরে আমার সময়ে হয়েছে।"
বৃহস্পতিবার গেরুয়া শিবিরের তরফে দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতেই দেখা যায়, শত বিতর্ক সত্ত্বেও হিরণের উপর ভরসা হারায়নি দল। হাওড়ার শ্যামপুর কেন্দ্র থেকে টিকিট পেলেন বিতর্কিত বিধায়ক। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী নদেবাসী জানার বিরুদ্ধে ভোটে লড়বেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। বিয়ে বিতর্কের পর টিকিট হাতছাড়া হওয়ার জল্পনা শুরু হয়েছিল, কিন্তু শেষবেলায় দলের আস্থা দেখে কেমন অনুভূতি নেতা-অভিনেতার? হিরণ জানালেন, শুভেচ্ছা আমি সেদিন নেব, যেদিন পশ্চিমবঙ্গে নরেন্দ্র মোদির সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, যেদিন বাংলায় ভারতীয় জনতা পার্টি সরকার গড়বে। চেনা পিচ খড়্গপুরের বদলে শ্যামপুর কেন্দ্র থেকে টিকিট পাওয়ায় কি কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে? এপ্রসঙ্গে বিদায়ী বিধায়কের মন্তব্য, "আমি তো পশ্চিমবঙ্গ থেকেই ভোট লড়ছি। অসম কিংবা বিহার থেকে লড়ছি না। পশ্চিমবঙ্গের যে কোনও কেন্দ্র থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির হাত ধরে পরিবর্তনের দিন আসুক, সেটাই চাই।"
মাসখানেক আগেই দ্বিতীয় বিয়ে করে বিতর্কে জড়ান হিরণ চট্টোপাধ্যায়। ছবি- সংগৃহীত
উল্লেখ্য, ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে (West Bengal Assembly Election) গেরুয়া শিবিরের তরফে একাধিক তারকামুখ রাখা হয়েছে প্রার্থী তালিকায়। অগ্নিমিত্রা পাল, রুদ্রনীল ঘোষদের পাশাপাশি টিকিট পেলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, হিরণ চট্টোপাধ্যায়, শর্বরী মুখোপাধ্যায়দের মতো একাধিক তারকা। প্রথম তালিকায় নাম না থাকায় এর আগে হিরণ জানিয়েছিলেন, "এক বছর আগেই দল জানিয়ে দিয়েছিল যে খড়গপুরে টিকিট দেবে না। তবে কোথায় প্রার্থী করবে? সেকথা বলেনি তখনও। চব্বিশের লোকসভা ভোটের পরই জানতাম আমাকে এখান থেকে ছেড়ে চলে যেতে হবে। কিন্তু আমি তো খড়্গপুরের মাটি ছেড়ে যাইনি, কাজ করে গিয়েছি। খড়্গপুরের ইতিহাসে ১৯৫১ সালের পর পর এখানে যদি কোনও উন্নয়ন হয়ে থাকে, তাহলে সেটা গত ৫ বছরে আমার সময়ে হয়েছে। সাড়ে ৪ হাজার কোটির হাইওয়ে। খড়্গপুর থেকে শিলিগুড়ি, বেনারস ২৯০৫ কোটি ফোর্থ লাইন। এছাড়া খড়্গপুরে স্টেশনে ১১৩ কোটি টাকা, জল নিয়ে এসেছি ১৩৫ কোটি দিয়ে। মাটির তলা দিয়ে ইলেকট্রনিকের লাইন নিয়ে গিয়েছি ২৫০ কোটি টাকায়। আগামীর প্ল্যান বলতে, শ্যামপুর এখনও পিছিয়ে। একটা হাসপাতাল, কলেজ, ব্রিজ নেই। সেকাজগুলো করব আগামী দিনে। আমার মা বা মামাবাড়ির সদস্যরা যে সুবিধেগুলো পাননি, শ্যামপুরের মানুষেরা যেভাবে বঞ্চিত, অবহেলিত সেই জায়গাটা তৈরি করে দেব।" এবার টিকিট পেয়ে যেন আরও আত্মবিশ্বাসী হিরণ চট্টোপাধ্যায়।
