যে দেশে পূজিতা নারীশক্তি, সেই মাটিতেই নারীর অবমাননা? কেরিয়ারের তিন দশক পূর্তিতে এহেন প্রশ্ন তুলেই সম্প্রতি 'মর্দানি ৩' ছবির ঝলক প্রকাশ্যে এনেছিলেন রানি মুখোপাধ্যায়। যেখানে নারীপাচার রুখতে দোর্দণ্ডপ্রতাপ পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় কাঁপন ধরিয়েছেন বলিউডের প্রকৃত 'ক্যুইন'। ট্রেলার দেখে বলিউড তারকারাও 'মর্দানি'কে তিন দশক পূর্তির শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছেন। এবার সেই সিনেমার প্রচারে এসেই লিঙ্গসমতার বার্তা দিতে গিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে বসলেন রানি। অভিনেত্রীর কথায়, "সংসারে স্বামীর চেয়ে স্ত্রীর গলার জোর বেশি হওয়া উচিত!" এর এহেন মন্তব্য ঘিরেই বর্তমানে বিতর্কের ঝড়।
তিন দশকের অভিনয় কেরিয়ারে এযাবৎকাল সেভাবে বিতর্কে জড়াননি রানি মুখোপাধ্যায়! বরাবরই নারী ক্ষমতায়নের জন্য আওয়াজ তুলে প্রশংসা কুড়িয়েছেন অভিনেত্রী। তবে এবার নতুন সিনেমার প্রচারে এসে যা বললেন, তাতে সমালোচনার মুখে পড়তে হল তাঁকে। এক সাক্ষাৎকারে রানি জানান, "বাড়িতে নারীদেরই গলা উঁচিয়ে কথা বলা উচিত।" কিন্তু আচমকাই কেন এহেন মন্তব্য করে বসেন রানি? নিজেই অবশ্য তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। রানির কথায়, "সন্তানের শিক্ষার প্রথম ধাপ শুরু হয় বাড়ি থেকেই। মেয়েদের সঙ্গে আচরণের সহবৎ ছেলেরা বাড়িতেই শেখে। এখন কেউ যদি বাড়িতে দেখতে পায় রোজ তার মা বাবার দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন, তাহলে ছেলেরা ভাবতে শুরু করে, আমার মায়ের সঙ্গে যদি এমন ব্যবহার করা যায় তবে অন্য যে কোনও মেয়ের সঙ্গেও এরকম আচরণ করা যেতে পারে। তাই স্ত্রীদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে একজন স্বামীর দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। কারণ পুত্রসন্তানরা বাবাকে দেখেই শেখে কীভাবে একজন নারীকে সম্মান দিতে হয়।" এখানেই অবশ্য থামেননি তিনি।
রানি মুখোপাধ্যায়, ছবি- ইনস্টাগ্রাম
রানির সংযোজন, "কোনও পুরুষের কখনোই স্ত্রীর সঙ্গে চিৎকার করে কথা বলা উচিত নয়। বরং একজন স্ত্রী'রই উচিত উঁচু স্বরে কথা বলা।" স্কুলে পড়াকালীন এক ছেলে বন্ধুকে চড় মারার ঘটনাও রসিকতাচ্ছলে সে'তারকা হিসেবে নিজেদের কথাবার্তা, চিন্তাভাবনার ক্ষেত্রেও লাগাম টানা উচিত।' কারও বা কটাক্ষ, 'মজাচ্ছলে কথাগুলো বললেও এই বিষয়গুলি কিন্তু মোটেই মজার নয়।' কেউ বললেন, 'এটা কেমন আচরণ? কেউ প্রতিবাদ কেন করছেন না? শুধু সিনিয়র অভিনেত্রী বলে কি যা খুশি তাই বলতে পারেন?' এহেন নানা কটাক্ষবাণে ছেয়ে গিয়েছে সোশাল পাড়া।
