বুধবার সকালে রাজনীতির দুনিয়ায় আচমকাই আছড়ে পড়ল দুঃসংবাদ! মুম্বই থেকে বারামতি যাওয়ার পথে বিমান দুর্ঘটনায় প্রয়াত মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার। অবতরণের সময়ে আচমকাই ভেঙে পড়ে পওয়ারের ব্যক্তিগত বিমান। সূত্রের খবর, ওই অভিশপ্ত বিমানে থাকা উপমুখ্যমন্ত্রীর বাকি সফরসঙ্গীদেরও মৃত্যু হয়েছে। খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোকের ছায়া দেশের রাজনৈতিকমহলে। পওয়ারের স্মৃতিচারণায় এবার অন্য 'অজিত দাদা'কে চেনালেন রীতেশ দেশমুখ।
বাবা বিলাসরাও দেশমুখের সৌজন্যে শৈশব থেকেই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে পরিচয় রীতেশ দেশমুখের। সেই সূত্রেই মহারাষ্ট্রের দাপুটে নেতা অজিত পওয়ারকে অনেকটা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন বলিউড অভিনেতা। সম্বোধন করতেন 'দাদা' বলে। বুধবার পওয়ারের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পরই স্মৃতির সরণিতে হেঁটে রীতেশ ফিরে গেলেন ফেলে আসা দিনগুলিতে। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে ঠিক কেমন ছিলেন অজিত পওয়ার? রীতেশের স্মৃতিচারণায় উঠে এল সেকথাই। পওয়ারের আকস্মিক প্রয়াণ যেন তাঁর কাছে আত্মীয় বিয়োগসমই। বুকে শোকযন্ত্রণা চেপে অভিনেতার মন্তব্য, "মহারাষ্ট্রের অন্যতম প্রগতিশীল নেতা হিসেবে অজিত পওয়ারের নাম বরাবর জ্বলজ্বল করবে। দলীয় কর্মীদের কাজে ফাঁকি দেওয়া একদম পছন্দ করতেন না দাদা। বলতে গেলে অকর্মণ্যতার প্রতি একেবারে 'জিরো টলারেন্স' ছিল। আশেপাশের মানুষদের সবসময়ে উৎসাহ দিতেন, অনুপ্রেরণা জোগাতেন। আর সেই জন্যেই দলের কর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ পরামর্শদাতা। পাশাপাশি মানুষ হিসেবেও ছিলেন চমৎকার। বিশেষ করে তাঁর রসবোধের জুড়ি মেলা ছিল ভার! দ্বিধাহীনভাবেই সকলের সঙ্গে মিশতে পারতেন। আর এমন ব্যক্তিত্বের জোরেই মহারাষ্ট্রে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন অজিত দাদা।" রীতেশের সংযোজন, "ওঁর অকাল মৃত্যু এক অপূরণীয় ক্ষতি। এই শূন্যতা কোনওদিন পূরণ হবে না। ওর সঙ্গে বহুবার কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। ওঁর স্নেহধন্য হিসেবে বরাবর আমাদের কাটানো সোনালি সময়গুলো মনে রাখব। পওয়ার পরিবার, তাঁদের প্রিয়জন এবং লক্ষ লক্ষ সমর্থকের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা।"
অন্যদিকে সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে সংবাদিকদের মুখেই প্রথম পওয়ারের মৃত্যুসংবাদ শোনেন কঙ্গনা রানাউত। মাণ্ডির তারকা সাংসদ প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। কোনওমতে চোখের জল, আবেগ নিয়ন্ত্রণে রেখে জানালেন, "হে ঈশ্বর, কী ভয়ংকর একটা খবর! এই মুহূর্তে প্রতিক্রিয়া দেওয়ার মতো কোনও শব্দ নেই আমার কাছে। পরে বিবৃতি দেব।" এক্স হ্যান্ডেলে শোকপ্রকাশ করে অজয় দেবগনের মন্তব্য, "মাননীয় উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারজির মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমি যতটা স্তম্ভিত, ততটাই শোকাহত। এই অপূরণীয় ক্ষতিতে ওঁর পরিবার-পরিজনদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা।"
অনুপম খের জানালেন, "যখনই অজিত পওয়ারের সাথে দেখা হয়েছে, প্রতিবার ওঁর আচরণে মুগ্ধ হয়েছি। অত্যন্ত ভদ্র এবং দয়ালু মানুষ ছিলেন।" মহারাষ্ট্রের অন্যতম 'প্রগতিশীল নেতা'র প্রয়াণে মর্মাহত সঞ্জয় দত্তও। শোকজ্ঞাপন করে অভিনেতা জানালেন, "এটা অপূরণীয় ক্ষতি। ঈশ্বর এই কঠিন সময়ে ওঁর পরিবারকে শক্তি দিন।"
