shono
Advertisement
Saba Azad

'ঋতুস্রাব না হলে সন্তানধারণও অসম্ভব', শিক্ষার অভাব নিয়ে সরব হৃত্বিকের প্রেমিকা সাবা আজাদ

ঋতুস্রাব নিয়ে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি এবং সমাজের নারীবৈষম্য নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন হৃত্বিক রোশনের প্রেমিকা। তঁর মতে, ঋতুস্রাব লজ্জার বিষয় নয়, বরং জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
Published By: Kasturi KunduPosted: 09:25 AM May 22, 2026Updated: 09:44 AM May 22, 2026

যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলাটাই সমাজের চোখে স্মার্টনেস। সময়ের সঙ্গে মানুষের ভাবনাতেও বদল ঘটেছে। কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আজকের নারী সমাজ অনেকটাই মুক্তমনা! এ কথা বললে অত্যুক্তি হবে না। দশভূজার মতোই ঘরে-বাইরে সামলাতে মহিলারা একেবারে সিদ্ধহস্ত। শহর বা শহরতলির নারীজাতি পরিণত হলেও গ্রাম ও ছোট শহরের চিত্রটা কিন্তু, একেবারে আলাদা। কংক্রিটের শহুরে মেয়েদের ঋতুস্রাব নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে, কিন্তু ছোট শহরের মহিলারা আজও এক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে। শিক্ষার আলো সেভাবে পৌঁছায়নি। ফলে মানসিকতার বিকাশ ঘটেনি বললেই চলে।

Advertisement

ঋতুস্রাব তাঁদের কাছে অত্যন্ত লজ্জার বিষয়! পিরিয়ডসে সামান্য সমস্যা হলে আজও দোষের ভাগীদার সেই মেয়েরাই! চিকিৎসা ব্যবস্থার ঊর্ধ্বে তাঁদের মানসিক ব্যাধি! সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সমাজের এই অন্ধকারাচ্ছন্ন দিকটি নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী তথা সঙ্গীতশিল্পী সাবা আজাদ। প্রসঙ্গত, 'হু ইজ ইয়োর গাইনোকোলজিস্ট'-এর দ্বিতীয় সিজনে অভিনেতা কুণাল ঠাকুরের সঙ্গে দেখা যাবে সাবাকে। তার আগে ঋতুস্রাব নিয়ে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি এবং সমাজের নারীবৈষম্য নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন হৃত্বিক রোশনের প্রেমিকা।

সাবার সংযোজন, "এখনও এমন অনেক কুসংস্কার রয়েছে। যেমন পিরিয়ডসের সময় রান্নাঘরে যাওয়া যাবে না, অনেক কাজে বিধিনিষেধ থাকে। এমনকী এটা নোংরা অস্বাস্থ্যকর বলেও মনে করা হয়। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়েও আমাদের এইরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। বিজ্ঞান অনেক এগিয়েছে, তাই আমাদেরও একটু শেখা উচিত।"

ঋতুস্রাব নিয়ে কুসংস্কার দূরীকরণের বার্তা সাবা আজাদের

তঁর মতে, ঋতুস্রাব লজ্জার বিষয় নয়, বরং জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সম্মান করা উচিত। ছোট শহরগুলিতে ঋতুস্রাব নিয়ে রক্ষণশীল মনোভাব, স্কুলে সঠিক শিক্ষার অভাব এবং নারীদের প্রতি বৈষম্য নিয়েও সরব সাবা। তাঁর কথায়, যদি কোনও মেয়ের পিরিয়ডস দেরিতে হয় তাহলে সেটা নিয়ে পরিবারের মহিলামহলে চর্চা শুরু হয়ে যায়। অনেকসময় সেই মেয়েটির শারীরিক সমস্যা বা অসুস্থ বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়। যেটা কোনও সুস্থ সমাজে মোটেই কাম্য নয়।

চারপাশের পরিস্থিতি দেখে সাবার ধারণা, "ছোট শহরগুলিতে মেয়েদের পিরিয়ডস সংক্রান্ত কোনও সমস্যা দেখা দিলে তাঁকে অসুস্থ বলে মনে করা হয়। মানুষ এটা একবারও ভাবে না যদি ঋতুস্রাব না হয় তাহলে সন্তানধারনও সম্ভব নয়। আর সন্তান না হলে একটা সময় এই পৃথিবী থেকে মানুষ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তাই নারীর শরীরের প্রতি সম্মান জানিয়ে এটাকে উদযাপন করা উচিত। কারণ একজন নারীই পারে নতুন জীবনের জন্ম দিতে। ঋতুস্রাব হল জীবনের এক চক্র যা নতুন প্রাণকে এই পৃথিবীর আলো দেখায়।"

পিরিয়ডস কোনও লজ্জা বা কুসংস্কারের বিষয় নয়, এই বিষয়টিকে সামনে রেখে সাবার সংযোজন, "এখনও এমন অনেক কুসংস্কার রয়েছে। যেমন পিরিয়ডসের সময় রান্নাঘরে যাওয়া যাবে না, অনেক কাজে বিধিনিষেধ থাকে। এমনকী এটা নোংরা অস্বাস্থ্যকর বলেও মনে করা হয়। এগুলো ভীষণ রক্ষণশীল মানসিকতার পরিচয়। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়েও আমাদের এইরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। বিজ্ঞান অনেক এগিয়েছে, তাই আমাদেরও একটু শেখা উচিত।"

নারীরা যে বৈষম্যের মুখোমুখি হন সেই প্রসঙ্গে সাবার বক্তব্য, "শিশুদের শেখার ক্ষমতা অনেক বেশি। ওরা স্পঞ্জের মতো সবকিছু শুষে নেয়। কিন্তু বড়রা জানিই না কীভাবে তাদের শেখাতে হয়। শিশুরা সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে না। প্রকৃত শিক্ষা প্রদানের বদলে কুসংস্কার, লজ্জা এসব নিয়ে মগজধোলাই করা হয়।" 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement
toolbarHome ই পেপার toolbarup মহানগর toolbarvideo শোনো toolbarshorts রোববার