গোমাংস কাণ্ডের পর ফের নতুন বিতর্কে সায়ক চক্রবর্তী। দিন কয়েক আগেই লীনাপুত্র অর্ক গঙ্গোপাধ্যায় অভিনেতা-ইনফ্লুয়েন্সারের বিরুদ্ধে শিশু শিল্পীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ প্রকাশ্যে এনেছিলেন। এবার 'বন্ধু' সায়কের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা ফাঁস করলেন স্যান্ডি সাহা। 'এমটিভি রোডিস' খ্যাত ইনফ্লুয়েন্সারের কন্টেন্টে দেখে এযাবৎকাল নেটবাসিন্দাদের পেটে খিল ধরলেও এবার তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগের বর্ণনা শুনে অনেকেই হতবাক! ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন?
এক সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছেন স্যান্ডি সাহা। তাঁর কথায়, বছর তিন-চার আগের ঘটনা হলেও আজও সেটা তাকে তাড়া করে বেড়ায়। স্যান্ডির মন্তব্য, "তিন-চার বছর আগে একটা ভিডিওর শুটিং করতে আমি ওর বাড়িতে গিয়েছিলাম। সেই শুটের পরই ও আমাকে যৌনহেনস্তা করে। সেই ঘটনার পর আমি ওকে ব্লক করে দিয়েছিলাম। আমি হয়তো লাইভে এসেও জানাতে পারতাম কিন্তু কোনওদিন সেই ঘটনা প্রকাশ্যে আনিনি। কারণ আমি ভেবেছিলাম, ও হয়তো নেশার ঘোরে ভুল করে ফেলেছে। পরে ক্ষমাও চেয়েছিল। তবে সেদিনের ঘটনা আজও আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। যখন শুনলাম ও নাকি এক শিশুশিল্পীকেও যৌন হেনস্থা করেছে, তখন মনে হল আর চুপ থাকা যায় না। নইলে আরও অনেক অসহায় মানুষ এই অত্যাচারের শিকার হতে পারে।" এরপরই আরও বিস্ফোরক দাবি স্যান্ডির! বলছেন, "সায়কের বাড়িতে একটা সেক্স টয় রয়েছে। সেটা দিয়েও আমাকে হেনস্তা করেছে। লোকে এখনও বলবে আমি ফুটেজ কিংবা কন্টেন্টের জন্য এটা করছি।"
সায়ক এবং স্যান্ডি, ছবি- সোশাল মিডিয়া
ঠিক কী ঘটে সেদিন? স্যান্ডির মন্তব্য, "আমরা খুব ভালো বন্ধু ছিলাম। আমাদের কোল্যাব করার কথা ছিল। তখন ও সবে ভ্লগ করা শুরু করেছে। ২০২২ সাল। সেখানে বাকি টিম মেম্বার আর ইনফ্লুয়েন্সাররাও ছিল। শুট শেষ হওয়ার পরে ও পার্টি করার কথা বলে। তবে পার্টি শেষে আমার প্রাইভেট পার্ট স্পর্শ করা শুরু করে সায়ক। তখন সকলে চলে গিয়েছিল। প্রথমে আমি সেটাকে মজা হিসেবেই নিই। যদিও সেটা উচিত হয়নি। তবে নেশার ঘোরে আমি ওকে একাধিকবার বারণও করেছিলাম। কিন্তু শোনেনি। আমার চলার মতো অবস্থাও ছিল না তখন। আর ও সেটারই সুযোগ নিয়ে সেদিন যৌনহেনস্তা করে। ওইদিনই আমি সায়কের পৈশাচিক রূপ দেখেছি। বন্ধু হয়েও যে এরকম করা যায়, আমি ভাবিনি। রীতিমতো আধ ঘণ্টা, ৪০ মিনিট ধরে সেটা চলে। সেক্স টয় দিয়েও আমাকে নানাভাবে অত্যাচার করেছিল। আমার গায়ে কামড়ের দাগও ছিল... কী বলব! তারপর আমি ব্ল্যাক আউট হয়ে যাই। এরপর আমার এক বন্ধু সেখান থেকে আমাকে উদ্ধার করে। ওরাই আমাকে টিটেনাশ এবং প্রাথমিক চিকিৎসা করাতে নিয়ে যায়।" ওই সাক্ষাৎকারে স্যান্ডির পাশে বসে মুখ খোলেন সেদিনের উদ্ধারকর্তা বন্ধুও। তার দাবি, "আধ ঘণ্টা ধরে ৮-৯ বার কল করেও পাইনি ওকে। পরে ও দরজা দিয়ে বেরতেই দেখি, শার্টের বোতাম ছেঁড়া এবং ঘাড়ে-গলায় বিভিন্ন জায়গায় কামড়ের দাগ।" ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই ফের চর্চার শিরোনামে সায়ক চক্রবর্তী।
