shono
Advertisement
Manoj Bajpayee Yogi Adityanath

'ঘুষখোর পণ্ডিত' বলায় যোগীর রোষানলে! ড্যামেজ কন্ট্রোলে কী সাফাই মনোজ বাজপেয়ীর?

ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে অপমানের অভিযোগ। কী বলছেন বলিউড অভিনেতা?
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 04:42 PM Feb 06, 2026Updated: 04:42 PM Feb 06, 2026

শেক্সপিয়র উবাচ, 'নামে কি আসে যায়?' কিন্তু এই নামের জেরেই যোগী আদিত্যনাথের রোষানলে পড়লেন মনোজ বাজপেয়ী! অভিনেতার আসন্ন সিনেমার নাম 'ঘুষখোর পণ্ডিত' নিয়ে জোড় আইনি বিতর্ক। বুধবারই নেটফ্লিক্সের তরফে সিনেমার ঘোষণা করা হয়। আর তার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই জোড়া মামলার ফলায় বিদ্ধ সিনেনির্মাতারা। অভিযোগ, 'ঘুষখোর পণ্ডিত' নামে সমূহ ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে অপমান করা হয়েছে। আর সেই মর্মেই কড়া আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দেন খোদ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এরপরই লখনউতে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। যার ভিত্তিতে উত্তরপ্রদেশের হজরতগঞ্জ থানার পুলিশ আধিকারিক মামলা রুজু করেন। বিতর্কের আবহে এবার মুখ খুললেন খোদ মনোজ বাজপেয়ী।

Advertisement

জানা গিয়েছে, 'ঘুষখোর পণ্ডিত' ছবিতে অজয় ​​দীক্ষিত যাকে 'পণ্ডিত' বলে পরিচয় করানো হয়েছে, সেই ব্যক্তি আদতে এক দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ আধিকারিক। টেবিলের তলা দিয়ে ঘুষ নিয়ে কাজ খালাস করতে যার জুড়ি মেলা ভার। আর পরিচালক নীরজ পাণ্ডের ফ্রেমে এহেন চরিত্রে অভিনয় করেই বিপাকে পড়েছেন মনোজ বাজপেয়ী! যে সিনেমার নাম, এমনকী বিষয়বস্তু নিয়ে বর্তমানে তুমুল আইনি বিতর্ক। যোগীরাজ্যের পুলিশের তরফে জানানো হয়, 'ঘুষখোর পণ্ডিত'-এর ট্রেলার নিয়ে ব্যাপক আপত্তি ওঠার পরই হজরতগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, 'ঘুষখোর পণ্ডিত'-এর ট্রেলার দেখে অনলাইনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক বিক্রম সিং আইনি পদক্ষেপ করেন। স্পর্শকাতর বিষয়ের কথা মাথায় রেখেই পরিচালক, প্রযোজক-সহ ছবির অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। যোগীরাজ্যের জনৈক পুলিশ আধিকারিকের কথায়, এহেন পদক্ষেপের একটাই উদ্দেশ্য- সামাজিক সম্প্রীতি এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা। এরপরই ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে মাঠে নামেন মনোজ বাজপেয়ী।

মনোজ বাজপেয়ী, ছবি- সোশাল মিডিয়া

অভিনেতার মন্তব্য, "এই সিনেমার নাম নিয়ে মানুষের আবেগ এবং উদ্বেগকে আমি সম্মান করি। এবং সেগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করি। আপনি যে সিনেমার অংশ, সেটা যদি কারও ভাবাবেগে আঘাত করে তাহলে একদণ্ড থেমে সেটা শোনা উচিত। একজন অভিনেতা হিসেবে গল্প এবং চরিত্র সিনেমার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা আমার দায়িত্ব। তবে এই ছবির মাধ্যমে কোনও সম্প্রদায় সম্পর্কে কোনও বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্য আমাদের ছিল না। নীরজ পান্ডের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বুঝেছি, ওর সিনেমায় যত্নের সঙ্গে গুরুগম্ভীর বিষয় ফুটিয়ে তোলা হয়।" এরপরই মনোজ বাজপেয়ী জানান, "জনসাধারণের ভাবাবেগের কথা মাথায় রেখে নির্মাতারা 'ঘুষখোর পণ্ডিত' সম্পর্কিত যাবতীয় প্রচারমূলক ছবি-ভিডিও সোশাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে নিয়েছেন। আর এহেন পদক্ষেপই বলে দেয় স্পর্শকাতর বিষয়ে আমরা কতটা উদ্বিগ্ন।"

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারই পরিচালক নীরজ পাণ্ডের ছবির মুক্তি আটকাতে দিল্লির উচ্চ আদালতে পিটিশন দাখিল করেন মহেন্দ্র চতুর্বেদী নামে জনৈক ব্যক্তি। যার জেরে বলিউডের ফিল্ম সংগঠনের তরফেও ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে 'ঘুষখোর পণ্ডিত' নির্মাতাদের। এপ্রসঙ্গে নীরজ পাণ্ডের মত, "আমাদের সিনেমাটা কাল্পনিক পুলিশি ড্রামা। এবং 'পণ্ডিত' শব্দটিকেও এক কাল্পনিক চরিত্রের নাম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এই গল্প একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে। কোনও জাতি, ধর্ম বা সম্প্রদায়ের কথা বলে না আমাদের সিনেমা।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement