তিনি জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী। বাংলার গণ্ডি পেরিয়ে বলিউডেও কাজ করেছেন। পর্দায় অনন্যা চট্টোপাধ্যায় মানেই তাঁর ব্যক্তিত্ব, অভিব্যক্তি থেকে পরিমিত, অতিনাটকীয়তা বর্জিত সংলাপ বলার ধরণে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। দর্শকও নিষ্পলকে উপভোগ করেন। তবুও কেন পর্দায় তুলনামূলক কম উপস্থিতি? এহেন কৌতূহলের প্রেক্ষিতে অনন্যা একবার বলেছিলেন, তিনি কাজ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বরাবর সচেতন। যে চরিত্রের নিজস্বতা নেই, তেমন চরিত্র নাপসন্দ অভিনেত্রীর। অনন্যার মত, "তেমন কাজ করার থেকে কেরিয়ারে খানিক খরা ভালো।" তবে এবার নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ফ্রেমে মনের মতো চরিত্রে চমক দেবেন অনন্যা চট্টোপাধ্যায়। 'ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড' ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় তিনি। সেই সিনেমার শুটিংয়েই অভিনেত্রীর অধ্যাবসায় দেখে মুগ্ধ হন পরিচালকদ্বয়।
"শুটিংয়ের দিন পনেরো আগে, আমার কাছে ফোন এল বন্ধু ডাক্তার বিকাশ কাপুরের। বলল- 'অনন্যার হাঁটুর যা অবস্থা, আমি চাইনা ও এখন এই কাজটা করুক, কিন্তু অনন্যা ঠিক করেছে যে ও পেনকিলার ইনজেকশন নিয়েই শুটিং করবে। আমি জানি না ও কী করে পারবে...।"
'ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড' সিনেমায় 'পুতুল বাঈ'য়ের ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে। অনন্যার চরিত্রে যে বড় টুইস্ট রয়েছে, সেটা আগাম আভাস লুকেই মিলেছিল। এবার অভিনেত্রী অনন্যা চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে 'ফুল পিসি'র নেপথ্য কাহিনি শোনালেন শিবপ্রসাদ। হাঁটুতে তীব্র যন্ত্রণা নিয়েই 'ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড' ছবির শুটিং করেছিলেন অনন্যা। কাজের প্রতি কতটা নিষ্ঠা এবং দর্শকের প্রতি কতটা দায়বোধ থাকলে একজন শিল্পী নিজের শারীরিক যন্ত্রণাকে উপেক্ষা করেই 'পিকচার পারফেক্ট' শট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকেন, সেটা প্রমাণ করলেন অনন্যা। ক্যামেরার নেপথ্যে অনন্যার এহেন কসরতের কথা ভাগ করে নিয়েই প্রশংসায় পঞ্চমুখ শিবপ্রসাদ। পরিচালক জানালেন, "শুটিংয়ের দিন পনেরো আগে, আমার কাছে ফোন এল বন্ধু ডাক্তার বিকাশ কাপুরের। বলল- 'অনন্যার হাঁটুর যা অবস্থা, আমি চাইনা ও এখন এই কাজটা করুক, কিন্তু অনন্যা ঠিক করেছে যে ও পেনকিলার ইনজেকশন নিয়েই শুটিং করবে। আমি জানি না ও কী করে পারবে।' এরপর নির্দিষ্ট দিনে শুটিং হয়েছে। সহশিল্পী হিসেবে, পরিচালক হিসেবে ওর অধ্যাবসায় দেখে মুগ্ধ হলাম শুধু। বাকিটা দর্শক বড়পর্দায় দেখে বলবেন।"
'ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড' ছবিতে পুতুল বাঈয়ের চরিত্রে অনন্যা চট্টোপাধ্যায়।
ফের অনন্যার সঙ্গে কাজ করা যেন নন্দিতা-শিবপ্রসাদের কাছে পুর্নিমিলনের থেকে কোনও অংশে কম নয়। পরিচালক বলছেন, "'ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড' ছবিতে রিউইনিয়ন পর্ব চলছে। অনন্যা চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রথমবার সিনেমার পর্দায় একসাথে কাজ করলেও এর আগে টেলিভিশনে অভিনেতা হিসেবে কাজ করেছি একসঙ্গে। ডান্স রিয়েলিটি শো'তেও কাজ করেছি। যে শোতে অনন্যা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। পরবর্তীকালে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে ঋতুপর্ণ ঘোষের 'আবহমান' ছবিতে অভিনয় করে। এবার 'ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড' ছবিতে পুতুল বাঈয়ের চরিত্রে ওঁর একটি একক ডান্স পারফর্মেন্সের দৃশ্য ছিল। কত্থক জানে কিন্তু তারপরেও সিনেমার জন্য তালিম নিয়েছে।" যাকে নিয়ে পরিচালকজুটির এহেন প্রশংসা, তিনি কী বলছেন?
অতীতে শুটিং সেটে শিবপ্রসাদ-অনন্যা।
"প্রচণ্ড ব্যথা বাড়ায় আমি চিকিৎসক বিকাশ কাপুরের কাছে যাই। উনি একটা বড়় অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন আমাকে। পাশাপাশি অপারেশনের পর ৬ মাস পুরোপুরি বিশ্রামেও থাকার নিদান দিয়েছিলেন। একথা শুনে অস্ত্রোপচারের দিনক্ষণ কবে ঠিক করব? সেটা যখন ভাবছি, ঠিক সেসময়েই আমার কাছে শিবুর ফোন..."
অনন্যা জানালেন, "আমার আগে একটা পারফরম্যান্স করতে গিয়ে হাঁটুর দিকের লিগামেন্ট ছিড়ে গিয়েছিল। তবে সেটাকে পাত্তা না দিয়ে ওষুধ, পেনকিলার খেয়ে আমি শুটিং করে গিয়েছি। তারপর প্রচণ্ড ব্যথা বাড়ায় আমি চিকিৎসক বিকাশ কাপুরের কাছে যাই। উনি একটা বড়় অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন আমাকে। পাশাপাশি অপারেশনের পর ৬ মাস পুরোপুরি বিশ্রামেও থাকার নিদান দিয়েছিলেন। একথা শুনে অস্ত্রোপচারের দিনক্ষণ কবে ঠিক করব? সেটা যখন ভাবছি, ঠিক সেসময়েই আমার কাছে শিবুর ফোন আসে। যেহেতু এখানে নাচের বিষয়টাও রয়েছে, আর নাচ আমার বরাবরের দুর্বলতা, সেজন্য ডাক্তারের পরামর্শ না নিয়ে এদিক-ওদিক না ভেবেই আমি তৎক্ষণাৎ হ্যাঁ বলে দিই। শিবুকে সবুজ সংকেত দেওয়ার পর আমি ডাক্তারকে জানাই, যেভাবেই হোক না কেন আমি যেন কাজটা ঠিক করে করতে পারি। বিকাশ কাপুরের যদিও খুব একটা ইচ্ছে ছিল না, কিন্তু আমার পীড়াপিড়িতেই শেষমেশ আমার হাঁটুতে উনি ইনজেকশন দেন। সেদিন হাসপাতাল থেকে বেরিয়েই আমি সোজা 'ফুল পিসি'র কস্টিউম ট্রায়ালের জন্য যাই। এসব নিয়েই সারারাত শুট করি। তারপর বাড়ি ফিরে ব্যথায় কাতর... এই যা! ঈশ্বরের কৃপায় সব ভালো ভালোয় হয়ে গিয়েছে।"
