shono
Advertisement

Breaking News

Pankaj Tripathi

কলকাতায় এলে লেকের ধারে হাঁটতে ভালো লাগে, পাতে আলুঝিঙে পোস্ত, পাতুরি মাস্ট!: পঙ্কজ ত্রিপাঠী

Pankaj Tripathi: নিজেদের প্রোডাকশনের প্রথম নাটক নিয়ে কলকাতায় আসছেন পঙ্কজ ত্রিপাঠী। তার প্রাক্কালে কী বললেন 'কালিন ভাইয়া'?
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 08:44 PM Apr 17, 2026Updated: 08:54 PM Apr 17, 2026

প্রথম থিয়েটার প্রোডাকশন ‘লা-ইলাজ’ নিয়ে শহরে আসছেন। কলকাতার সঙ্গে আপনার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। কেমন লাগছে?
- রীতিমতো উত্তেজিত। আমাদের নতুন নাটক কলকাতার সমৃদ্ধ দর্শকের কাছে নিয়ে আসার জন্য মুখিয়ে আছি। কারণ, ওখানকার দর্শক দারুণ সমঝদার। আমার স্ত্রী মৃদুলা শ্রীশিক্ষায়তনে পড়ত, কলামন্দিরে আগে পারফর্ম করেছে। কলকাতার দর্শককে আমাদের নাটকটা দেখাতে চাই।

Advertisement

এই নাটকটা আপনি এবং আপনার স্ত্রী মৃদুলার যৌথ প্রযোজনায় (রূপকথা রঙ্গমঞ্চ)। থিয়েটার প্রোডাকশনের ভাবনাটা কেমন ভাবে?
- আমরা অনেকদিন ধরে ভেবেছি এই বিষয়টা নিয়ে। বিশেষ করে মৃদুলার ভাবনায় ছিল। থিয়েটার আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে জীবনে। এবার আমাদের থিয়েটারকে দেওয়ার সময় এসেছে মনে হয়েছিল। থিয়েটারের জন্য এটা আমাদের ‘রিটার্ন গিফট’। যে থিয়েটার আমাদের তৈরি করেছে, সেই বাগানের চারাগাছগুলোতে এবারে আমরা কিছু জল দিই মনে হয়েছিল। একটা গ্রুপ তৈরি করি যেখানে নতুনরা সুযোগ পাবে। ‘এনএফডিসি’র অনেক জুনিয়র অভিনেতা আছেন যাঁরা মুম্বই ইন্ডাস্ট্রিতে ফিল্মে সুযোগ পাওয়ার জন্য লড়াই করছেন। তাঁদের এই নাটকে জুড়ে নিলে তাঁদের লড়াইয়ে হয়তো কিছুটা সুবিধা হবে, এরকম উদ্দেশ্যই ছিল। তারা একটা প্ল্যাটফর্ম পাক এবং আমাদের মনের মতো কাজও হোক, এই ভাবনা থেকে থিয়েটার প্রোডাকশন আনা। ইন্ডাস্ট্রির লোকজন এক্ষেত্রে তাঁদের কাজ দেখতে পাবেন।

"আমি স্লো হয়ে গিয়েছি। কারণ কাজে সেই উত্তেজনাটা দরকার। স্ক্রিপ্টের ক্ষেত্রে এক্সাইটমেন্ট লাগে।" 

প্রায় ১৫ বছর বাদে আপনি থিয়েটারে ফিরছেন। ঠিক কেমন অনুভূতি? ১৯ এপ্রিল কলামন্দিরে ‘লা-ইলাজ’ নাটকের শো।
- এটাকে আমার পুরোপুরি থিয়েটারে ফেরা বলা যায় না। ক্যামিও চরিত্রে রয়েছি। এর পরে হয়তো নাটকে আমি ফুলফ্লেজেড চরিত্রে করব। এই নাটকে আমার চরিত্র যে সময়ে এন্ট্রি নিচ্ছে খুব ইন্টারেস্টিং সিচুয়েশন। ভালো লাগছে কাজটা করতে। মঞ্চে কাজ করার আত্মবিশ্বাস আবার ফেরত আসছে এই নাটক করতে গিয়ে মনে হল। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে ইচ্ছে বাড়ছে।

পঙ্কজ ত্রিপাঠী।

এই নাটকে আপনার মেয়ে আশি মঞ্চে প্রথমবার আসছে। আপনি কি ওকে ট্রেন করেছেন? বাবা হিসেবে কোনও বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন?
- না, না। আমি কিছুই করিনি। গ্রুপে যিনি পরিচালক আছেন ফৈয়জ মহম্মদ খান, উনি শিখিয়ে নিয়েছেন।

এই নাটকটার একটা বার্তা রয়েছে যে সত্যিকারের ভালোবাসা মানে জোর করা নয় বরং পারস্পরিক সম্মান আর বিশ্বাসের মাধ্যমেই সম্ভব। ভালোবাসার সংজ্ঞা আপনার কাছে কেমন?
- এই নাটকের লগলাইন যেমন তার সঙ্গে আমি একেবারে সহমত। আর নাটকটা মিউজিক‌্যাল। মূলত রোমান্টিক কমেডিও বলা যায়। সাবটেক্সটে এই বিষয়টা আছে। মানে নারী স্বাধীনতার বিষয়টা সেখানে উঠে এসেছে।

এখন সকলে কথা বলছে ‘মির্জাপুর সিজন ফোর’ অর্থাৎ মুভিটা নিয়ে। এবারে নতুন কী আছে?
- নতুন এটাই, এবারে ওটিটিতে নয় প্রেক্ষাগৃহে আসবে। বাকি প্রেক্ষাপট একই। বড় গল্প, ক্যানভাস খুব বড়। কনফ্লিক্ট-এর দুটো পার্ট আছে। যা এখনও দর্শক সিরিজে দেখেনি।

‘কালিন ভাইয়া’ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আইকনিক চরিত্র পরিণত হয়েছে। আপনার মনের মধ্যে তার ইমোশনাল গ্রোথটা কেমন?
- একই চরিত্র বারবার করতে থাকলে মনের মধ্যে তার একটা ইমোশনাল গ্রোথ হয়, সেরকমই হয়েছে। এটাকে অর্গানিক গ্রোথই বলব। বাড়তি কিছু নয়।

সাম্প্রতিককালে এক সাক্ষাৎকারে আপনি বলেছেন, একঘেয়েমি এসে যাচ্ছে। বিরতি দরকার। তাই কি একটু ধীরে চলছেন বা কাজের ক্ষেত্রে সিলেক্টিভ হয়ে গিয়েছেন?
- ঠিকই বলেছেন। আমি স্লো হয়ে গিয়েছি। কারণ কাজে সেই উত্তেজনাটা দরকার। স্ক্রিপ্টের ক্ষেত্রে এক্সাইটমেন্ট লাগে।

স্ত্রী মৃদুলা, কন্যা আশির সঙ্গে পঙ্কজ ত্রিপাঠী।

কোনও বাঙালি পরিচালকের সঙ্গে কাজ বা বাংলা প্রোজেক্ট করছেন? বা অফার এসেছে?
- অফার তো আসতেই থাকে। তবে এখন বাংলা কিছু করছি না। প্রথমত, আমাকে গল্পটা যদি উত্তেজিত করে তবেই আমি সেই কাজটা করি। সেই এক্সাইটিং গল্প এখনও পাইনি বলে আর কাজ হচ্ছে না।

"খাব আর ঘুরব (হাসি)। কলকাতার লোকজন, সংস্কৃতি আমার খুব পছন্দের। ওখানে বিকেলগুলো কাটাতে খুব ভালো লাগে। কলকাতায় গেলে রাসবিহারীর কাছে রবীন্দ্র সরোবর লেক বোধহয়, ওখানে হাঁটতে ভালো লাগে। সকালে টুপি আর মাস্ক পরে চলে যেতাম।..." 

কলকাতায় আসার পর পরিকল্পনা কী?
- কিছুই না। খাব আর ঘুরব (হাসি)। কলকাতার লোকজন, সংস্কৃতি আমার খুব পছন্দের। ওখানে বিকেলগুলো কাটাতে খুব ভালো লাগে। কলকাতায় গেলে রাসবিহারীর কাছে রবীন্দ্র সরোবর লেক বোধহয়, ওখানে হাঁটতে ভালো লাগে। সকালে টুপি আর মাস্ক পরে চলে যেতাম। খুব পুরনো লম্বা লম্বা গাছ আছে ওখানে। সকালবেলায় আর বিকেলের দিকে যেতে ভালো লাগে। বিকেলবেলা ওখানে চুপচাপ হাঁটতে দারুণ লাগে। মাঠে আমি বাচ্চাদের তিরন্দাজি প্র্যাকটিস করতেও দেখেছি। জালের বাইরে দাঁড়িয়ে চুপচাপ তাদের অনুশীলন দেখেছি। কেউ আমাকে চিনতেও পারে না। (হাসি)

কলকাতা এলে আপনার পছন্দের খাবার কী কী? আপনার স্ত্রী তো বাঙালি।
- নিরামিষের মধ্যে পাঁচমিশালি তরকারি, আলু পোস্ত ভালো লাগে। আসলে পুরো বাঙালি রান্নাই পছন্দ। ভাতের সঙ্গে ঝিঙেপোস্ত, পাতুরি খেতে খুব ভালোবাসি। আর বাংলা বুঝি, কিন্তু বলতে পারি না।

রাজনীতিতে আগ্রহী? কখনও প্রস্তাব এসেছে আপনার কাছে?
- আমি রাজনীতিতে আগ্রহী নই, আমার কাছে প্রস্তাবও আসেনি কখনও।

শেষ প্রশ্ন ‘ধুরন্ধর’-এর মতো ছবি বিষয়ে আপনার কী মতামত? হিংসা-ই বিক্রি হয়?
- আমি এখনও ছবিটা দেখিনি। তাই বলতে পারব না। নিশ্চয়ই অনেক লোকজন দেখছেন। এত বড় হিট যখন লোকজনের পছন্দ হয়েছে বলেই দেখছেন।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement