shono
Advertisement
Sudipa Chatterjee

'সজলের পুজোয় ঢাক বাজানো-ধুনুচি নাচের নিয়ম জানুন', সুদীপার নিশানায় 'মুখোশধারী' টলিউড

একটা সময় যাঁরা তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন তাঁরাই বদলের বঙ্গে 'ডিগবাজি' খাচ্ছেন! একাংশ যখন ‘বিষোদগার’ উগরে দিতে ব্যস্ত তখন টলিপাড়ার সেসব সেলবদের একেবারে বেনজির তোপ সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের।
Published By: Kasturi KunduPosted: 12:21 PM Jun 07, 2026Updated: 12:40 PM Jun 07, 2026

তৃণমূল জমানায় 'বিশ্বাস ব্রাদার্স' টলিপাড়ায় 'তুঘলকি শাসন' চালাতেন! স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেপ্তারির পর ইন্ডাস্ট্রির অলিন্দে দীর্ঘদিন ঘটে চলা অরজাকতার অজানা কাহিনিগুলো যেন ছাইচাপা আগুনে বুঝে থাকা লাভার মতো ফুঁড়ে বেরচ্ছে। একটা সময় যাঁরা তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মঞ্চ আলোকিত করতেন, ভাইফোঁটায় যাঁরা অরূপ বিশ্বাসের কপালে ফোঁটা দিতেন তাঁরাই বদলের বঙ্গে 'ডিগবাজি' খাচ্ছেন! একাংশ যখন ‘বিষোদগার’ উগরে দিতে ব্যস্ত তখন টলিপাড়ার সেসব সেলবদের একেবারে বেনজির তোপ সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের।

Advertisement

সমাজমাধ্যমে বিস্ফোরক পোস্টে একের পর এক বাক্যবাণ ছুঁড়েছেন একাধারে অভিনেত্রী ও সঞ্চালিকা। প্রথম প্রশ্ন, 'রোজ রোজ মুখে মুখোশ পরতে পরতে অভিনেতা- অভিনেত্রীরা কি মাঝেমাঝে দুটোর ফারাকটাও বুঝতে পারেন না?' আজ যাঁদের কণ্ঠে উলটো সুর তাঁদের উদ্দেশে সুদীপার বক্তব্য, 'যাঁরা স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে হেঁটেছেন বা বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীকে নেমন্তন্ন করে কিংবা পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার সময় কারও মনে হয়েছে কেউ মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে এসব করতে বাধ্য করেছেন?' আরও একধাপ এগিয়ে সুদীপার পরামর্শ, 'সবসময় লাইমলাইট পেতেই হবে এমন বাধ্যবাধকতা তো নেই। কাজ করুন,মন দিয়ে।'

তৃণমূলের অনুষ্ঠানে টলি সেলেবরা

নেতা-মন্ত্রীদের ডাকে সাড়া না দিলে সমস্যায় পড়ার যুক্তিও খাঁড়া করেছেন অনেকে। তাঁদের উদ্দেশে সুদীপার বক্তব্য, 'সুরুচি সংঘের পুজোয় আমাকেও ডাকা হয়েছে। শেষ দশ বছর চেতলা অগ্রনীতেও নেমন্তন্ন পেয়েছি। বাড়িতে পুজো বলে,যেতে পারিনি। আমার মাথার ওপর তো কোনও খাঁড়া নেমে আসেনি।' প্রচারের আলোয় থাকলে তবেই কাজ পাওয়া সম্ভব। সরকারের বিমুখ হলেই কাজ হাতছাড়া। এমন অভিযোগ মানতে নারাজ সুদীপা।

তৃণমূলের জমানায়

পালটা দাবি, 'কাজ চলে যাওয়ার পর কখনও অভিযোগ করিনি যে আমি দলের প্রচারে না যাওয়ায় আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এরকম কিছু হয় না। এটা একমাত্র এমন একটা ইন্ডাস্ট্রি যেখানে কাউকে কোনও কিছুর জন্য বাধ্য করা হয় না। ক্ষমতার অলিন্দে ঘুরঘুড় করতে ভালোবাসেন।' প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আজও শ্রদ্ধাশীল সুদীপা। অকপটে বলেছেন সুব্রত মুখোপাধ্যায় অভিভাবকের মতো ছিলেন। দলের প্রচারে কিংবা কোনও মিছিলে তাঁরা কোনওদিন ডাকেননি বলেই পোস্টে করেছেন সুদীপা।

টলিউডকে বেনজির তোপ সুদীপার

নেপথ্য কারণ জানিয়ে লিখেছেন, 'বাড়িতে পুজোর ভোগ খেতে আমি যেতে পারি, কিন্তু প্রচারে যাব না। তাই দয়া করে কদিন একটু চুপ করে থাকুন। আমরা যাঁরা দূরে থেকেছি তাঁরা মুখ খুললে পাবলিক ইমেজটাও দুয়ে যাবে। বরং জমানো টাকায় কোথাও ঘুরে আসুন।'

পোস্টের একদম শেষভাগে হেঁয়ালি করে সুদীপার সংযোজন, 'আগে থেকে খোঁজ নিন সজল ঘোষের পুজোয় ঢাক বাজাতে কিংবা ধুনুচি নাচে কীভাবে ডাক পাওয়া যাবে। এবার কিন্তু ওখানেই বেশি মাইলেজ। ওঁরা খেলায় না নিলে নস্ট্যালজিয়ায় ভর করে ম্যাডক্স স্কোয়ারে চলে যান। একটা বছর না হয় নিজের পাড়ায় সিঁদুর খেলবেন। আসছে বছর আবার হবে। জয় মা।'

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement