সোমবার দ্রাবিড়ভূমের আকাশ-বাতাসজুড়ে একটাই রব- 'বিজয় ধান ভারুভারু...', বাংলায় যার তর্জমা করলে দাঁড়ায়- 'বিজয়ের জয় অবশ্যম্ভাবী।' তামিলভূমের বুথফেরত সমীক্ষা বলেছিল, সরকার গড়তে না পারলেও ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম অন্তত বড় শক্তি হিসেবে উঠে আসবে। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের হিসেব-নিকেশ উলটে দিয়ে ফলপ্রকাশের দিন একেবারে 'জন নায়াগন' অর্থাৎ 'জননায়ক' হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর ওরফে থলপতি বিজয় (Thalapathy Vijay)। নির্বাচনের প্রাক্কালে সেন্সরের গেরোয় তাঁর সিনেমা নিষিদ্ধ হওয়া থেকে ব্যক্তিগতজীবনের 'বিয়ে-পরকীয়া' কেচ্ছার পালে হাওয়া তুলে দ্রাবিড়ভূমের সুপারস্টারকে দমানোর কম চেষ্টা হয়নি! তবুও শাসকদল ডিএমকে'র মুখে ঝামা ঘঁষে পয়লা রাজনৈতিক ইনিংসেই সেঞ্চুরি হাঁকালেন থলপতি।
অতীতে যা শিবাজি গণেশন, কমল হাসান কিংবা রজনীকান্তের মতো মেগাস্টাররা পারেননি, একাই সেই ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ইতিহাস গড়লেন থলপতি বিজয়। প্রথমবার ভোটযুদ্ধে 'অভিষেক' করা কোনও দল ওপেনিং ইনিংসেই সরকার গড়তে পেরেছে, এমন উদাহরণ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে শুধু বিরল নয়, নেই বললেই চলে।
থলপতি বিজয়। ছবি: সংগৃহীত
ছাব্বিশের বিধানসভার হাত ধরেই ভোটের ময়দানে ডেবিউ। আর অভিষেকেই 'রিল-রিয়েল' মিশিয়ে একাকার করে দিলেন থলপতি। পর্দায় শত্রু নিধনের মতো ব্যালটযুদ্ধেও বিরোধীদের পরাস্ত করে দ্রাবিড়ভূম জুড়ে বিজয়রথ ছুটিয়েছেন বিজয়। ব্যাটেলগ্রাউন্ডেই থলপতি হুঙ্কার ছুড়েছিলেন- সরকার গড়ে তবেই দম নেবেন! রাজনীতির ময়দানে পা রেখেই ভারতের ইতিহাসে আর কোনও তারকা ওপেনিং ইনিংসে এহেন গগনচুম্বী সাফল্যের পথে বাড়িয়েছেন বলে মনে পড়ছে না। অতীতে যা শিবাজি গণেশন, কমল হাসান কিংবা রজনীকান্তের মতো মেগাস্টাররা পারেননি, একাই সেই ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ইতিহাস গড়লেন থলপতি বিজয়। চব্বিশের লোকসভা ভোটের সময়েই নিজস্ব দল 'তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম'-এর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে তামিলভূমের অন্যান্য দলগুলিকে ছাব্বিশের নির্বাচনী ময়দানে দেখে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বিজয়। 'জন নায়াগন'-এর সেই ভবিষ্যদ্বাণীই যেন অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেল ৪মে। গোড়া থেকেই ডিএমকে, এডিএমকে এবং অন্যান্য দলগুলিকে কড়া প্রতিযোগিতার মুখে ফেলেছিলেন টিভিকে সুপ্রিমো। প্রথমবার ভোটযুদ্ধে 'অভিষেক' করা কোনও দল ওপেনিং ইনিংসেই সরকার গড়তে পেরেছে, এমন উদাহরণ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে শুধু বিরল নয়, নেই বললেই চলে।
২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে 'মাক্কাল নিধি মাইয়াম' দল নিয়ে রাজনীতির মাঠে নামেন কমল হাসান। তবে বিজয়ের মতো ভোটযুদ্ধে শিকে ছিঁড়তে পারেননি। অন্যদিকে ২০১৭ সালেই নিজস্ব দল 'রজনী মাক্কাল মন্দ্রম' তৈরি করে দাক্ষিণাত্যভূমের রাজনীতিতে 'ডেবিউ'য়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন রজনী আন্না। কিন্তু ঘোষণাই সার! একাধিকবার গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেও এযাবৎকাল রাজনীতির রানওয়েতে 'ল্যান্ড' করতে পারেননি।
থলপতি বিজয়। ফাইল ছবি।
অতীতে বহু দক্ষিণী তারকাই রাজনীতির ময়দানে ভাগ্য নির্ধারণ করতে নেমেছেন। তবে পয়লাবারে সাফল্য কিন্তু সবার হাতে ধরা দেয়নি। বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে একা জয়ললিতাই লক্ষ্যভেদ করতে পেরেছিলেন। সাম্প্রতিক অতীতে ফিরে তাকালে সেই তালিকায় নবতম সংযোজন হতে পারতেন কমল হাসান কিংবা রজনীকান্ত। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে 'মাক্কাল নিধি মাইয়াম' দল নিয়ে রাজনীতির মাঠে নামেন কমল হাসান। তবে বিজয়ের মতো ভোটযুদ্ধে শিকে ছিঁড়তে পারেননি। অন্যদিকে ২০১৭ সালেই নিজস্ব দল 'রজনী মাক্কাল মন্দ্রম' তৈরি করে দাক্ষিণাত্যভূমের রাজনীতিতে 'ডেবিউ'য়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন রজনী আন্না। কিন্তু ঘোষণাই সার! একাধিকবার গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেও এযাবৎকাল রাজনীতির রানওয়েতে 'ল্যান্ড' করতে পারেননি দাক্ষিণাত্যভূমের মেগাস্টার। তবে জনতার 'থালাইভা' না পারলেও সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন থলপতি বিজয়। একাই এলেন, দেখলেন আর তামিলভূমে ওড়ালেন বিজয় নিশান।
ভোটের মাঠে নবাগত বিজয় আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, বিজেপির দয়া-দাক্ষিণ্যে তিনি নির্বাচনে লড়বেন না। বরং একাই সাজিয়েছিলেন ভোটমহারণের স্ট্র্যাটেজি। যার জেরে তিন দশক ধরে রাজত্ব করা তামিল সিনেইন্ডাস্ট্রি থেকেও দূরত্ব বাড়ান নেতা-অভিনেতা। প্রতিশ্রুতিমাফিক বিগত দু'বছর ধরে রাজনীতির ময়দানে বেশ সক্রিয়ই ছিলেন দক্ষিণী তারকা। আমজনতার নাড়িস্পন্দন বুঝে সিনেপর্দায় যে তারকা একাধিকবার জনসাধারণের প্রতিনিধি হয়ে উঠেছেন, এবার সেই অভিনেতাই তামিলনাড়ুর মসনদে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বসতে চলেছেন।
