অভিনেতা হিসাবে কেরিয়ারের শেষ ছবি। কিন্তু থলপতি বিজয়ের সেই ছবি 'জন নায়াগন'-এর মুক্তি অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ছবি নিয়ে আপত্তি তুলেছিল সেন্সর বোর্ড। অনির্দিষ্টকালের জন্য জারি করা হয়েছিল স্থগিতাদেশ। তবে বাস্তবের 'জন নায়ক' হয়ে উঠতেই জট কেটেছিল 'জন নায়াগন'-এর। ২৩ জুলাই প্রেক্ষাগৃহের আলো দেখেছিল এই ছবি। মুক্তির এক সপ্তাহ পেরতেই ফের বিপাকে বিজয়ের 'জন নায়াগন। কর্নাটকের একাধিক প্রেক্ষাগৃহে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সিনেমার প্রদর্শনী।
অভিযোগ, কাবেরী জল-বণ্টন বিরোধকে কেন্দ্র করে কর্নাটকে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতেই কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাবেরী ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি। সংস্থার নির্দেশেই আপাতত কর্ণাটকের কোনও প্রেক্ষাগৃহে দেখানো হবে না বিজয়ের (Thalapathy Vijay) শেষ ছবি। বাতিল করা হয়েছে সব শো। একইসঙ্গে বেশ কিছু কন্নড় সংগঠনও এই ঘটনার তীব্র বিরোধীতা করেছে। সমস্যা যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না বিজয়ের!
রোষের আগুনে প্রচারমূলক ব্যানার খুলে ফেলা হয়েছে। বেঙ্গালুরুর একটি প্রেক্ষাগৃহেও নিরাপত্তাজনিত কারণে জন নায়াগন'-এর শো বাতিল করা হয়েছে। অশান্তির আশঙ্কায় থিয়েটার কর্তৃপক্ষ বিজয়ের পোস্টার খুলে ফেলেছে। বেশ কিছু পোস্টারের উপর অন্য সিনেমার পোস্টার লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সমস্যায় বিজয়ের সিনেমা
উদ্দেশ্য একটাই, যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। সম্ভাব্য অশান্তি রুখতে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে যেখানে তামিল সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস বেশি সেখানে পুলিশ অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় যখন কাবেরী ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি ও কাবেরী ওয়াটার রেগুলেশন কমিটির সুপারিশ বহাল রেখে কর্ণাটককে আগামী ১৫ দিন প্রতিদিন তিন হাজার পাঁচশো কিউসেক জল তামিলনাড়ুকে ছাড়ার নির্দেশ দেয়।
কর্ণাটকের একাধিক প্রেক্ষাগৃহে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সিনেমার প্রদর্শনী
কৃষক সংগঠন ও কন্নড়পন্থী সংগঠনগুলির দাবি, কর্ণাটক নিজেই জলসংকটে ভুগছে। তাই এই পরিস্থিতিতে জল ছাড়া হলে রাজ্যের কৃষকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার কাবেরী ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির এই নির্দেশের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
অন্যদিকে, তামিলনাড়ুর আইনমন্ত্রী শুক্রবার জানান কাবেরীর ন্যায্য অংশের জল নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবে। এই ঘটনায় সিনেমার প্রদর্শনী বাতিলের ফলে চলচ্চিত্র শিল্পে কী প্রভাব পড়ছে তা নিয়ে আলোচনা করতে কর্নাটক ফিল্ম চেম্বার একটি বৈঠক ডেকেছে। মুক্তি পেয়েও যেন বিজয়ের মাথায় ঝুলছে অদৃশ্য শাস্তির খাঁড়া! শেষ হয়েও যেন সমস্যা হইল না শেষ।
