সোশাল মিডিয়ার হাত ধরে নিজের পায়ে দাঁড়াতে কী প্রয়োজন? জবাবে কেউ বলবে দামি ক্যামেরা, কেউ বলবে চকমকে আলো। কারও ধারণা সুন্দর প্রেসেন্টেশন। কিন্তু স্যাঁতস্যাঁতে ঘরে, অল্প আলোয় ভিডিও করেও যে মেটার মঞ্চে পৌঁছে যাওয়া যায়, তা দেখিয়ে দিলেন গ্রামের বউ পূজারিণী প্রধান (Pujarini Pradhan)। সেখানেও কিন্তু হাজার হাজার টাকার শাড়ি-গয়না পরেননি তিনি। ৫০ টাকার কানের দুল, ১০০ টাকার হারেই 'অনন্যা' পূজারিণী।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর পূজারিণী প্রধান। ছবি- ফেসবুক।
পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা পূজারিণী প্রধান নামে ওই বধূ। বরাবরই পড়াশোনার প্রতি আকর্ষণ ছিল তাঁর। কিন্তু স্নাতক পাশ করার পরই বিয়ে হয়ে যায় তাঁর। ফলে মাস্টার্সে ভর্তি হলেও সেই সময় তা শেষ করা হয়নি পূজারিণীর। এরপর হঠাৎই সোশাল মিডিয়ার জন্য ভিডিও করা শুরু করেন তিনি। তবে তাঁর কনটেন্ট আর পাঁচজনের থেকে আলাদা। কারণ, লাইফস্টাইল ভ্লগ করলেও পূজারিণী গোটা ভিডিওতে কথা বলেন ইংরাজিতে। তাঁর যে ইংরেজি ভাষায় ভীষণ দখল তা কিন্তু নয়, তবে নিজের মতো করে শুরু করেন তিনি। প্রথম দিকে ভাঙা ভাঙা ইংরাজিতে কথা বলতেন তিনি। দিনে দিনে আপডেট করেছেন নিজেকে। ফের ভর্তি হয়েছেন মাস্টার্সে। বিষয় ইংরাজি। কোনও দিন ভিডিও সদ্য দেখা সিনেমার গল্প করেন পূজারিণী, কোনওদিন আবার বইয়ের রিভিউ দেন। ঘরকন্নার কাজও দেখান পূজারিণী।
গ্রামের স্যাঁতস্যাঁতে ঘর, ভাঙাচোরা রান্না ঘর, গ্রামের পরিবেশ, সেই সঙ্গে পূজারিণীর ইংরেজিতে কথা-এটাই আকর্ষণ করে নেটদুনিয়াকে। ফলে দ্রুতই বেড়েছে ফলোয়ার। ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবে তাঁদের লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার। স্বাভাবিকভাবেই আয়ও বেড়েছে। তবে তাতে জীবনযাত্রা একবিন্দুও বদলায়নি তাঁর। সম্প্রতি মেটার ইভেন্টে ডাক পেয়েছিলেন পূজারিণী। সেখান থেকেই একটি ভিডিও পোস্ট করেন তিনি। সেখানে জানান তাঁর প্রসাধনী সামগ্রীর দাম। কানে ৫০ টাকার দুল, পায়ে ৫০০ টাকার জুতো, গলায় মাত্র ১০০ টাকার হার। আর শাড়ি? তা যে খুব দামি নয়, দেখলেই বোঝা যায়। পূজারিণীই প্রমাণ করে দিলেন ঝাঁ চকচকে জীবন, সাজানো ঘর, ব্র্যান্ডেড জামাকাপড় লাগে না, মেধা আর অধ্যাবসায়ের জোরে শীর্ষে ওঠা যায়।
