'ধুরন্ধর' ফ্র্যাঞ্চাইজির হাত ধরেই রণবীর সিংয়ের মন্দা কেরিয়ারের গাঙে জোয়ার এসেছে। বছর পাঁচেক বক্স অফিসে ব্লকবাস্টার নম্বর তো দূর অস্ত, হিট-সুপারহিটও ছিল অধরা। তবে লাগাতার ফ্লপের ফাঁড়া কাটিয়ে সুপারস্টার সিং এখন বলিউডের 'কিং'। আট থেকে আশি যে তাঁর 'ধুরন্ধর' ম্যাজিকে বুঁদ, সেটা আসমুদ্রহিমাচলের উন্মাদনাই বলে দেয়। এবার রণবীরের (Ranveer Singh) এক খুদে 'জাবরা ফ্যানে'র কীর্তিতে হইচই! স্কুলের হোমওয়ার্কের খাতায় কিনা রণবীর সিং হওয়ার ইচ্ছেপ্রকাশ করল এক পড়ুয়া। আর সেই খাতার পাতাই এখন নেটভুবনে চর্চার শিরোনামে।
উত্তরের পাশেই আঁকা রণবীর সিংয়ের 'হামজা' লুক। সিলেবাসের বাইরে এহেন উত্তর দেখে সাধারণত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চক্ষু চড়ুকগাছ হওয়ার কথা! কিন্তু ওই খুদের মজার উত্তরে সন্তুষ্ট হয়ে সেখানে 'গুড' লিখেছেন ক্লাস টিচার।
ভাইরাল ওই স্কুলের হোমওয়ার্কের খাতায় প্রশ্ন ছিল, 'বড় হয়ে কী হতে চাও?' শৈশবে কম-বেশি সকলকেই এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। প্রচলিত ধারা অনুযায়ী, ছোট থেকেই পেশা হিসেবে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার কিংবা নিদেনপক্ষে উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শেখানো হয় শিশুদের। কিন্তু এই বিস্ময় বালক সকলকে হতবাক করে দিয়ে প্রশ্নের উত্তরে কাঁচা হাতে লিখেছে, "ভবিষ্যতে আমি রণবীর সিংয়ের মতো অভিনেতা হতে চাই। উনি যেমন দক্ষ অভিনেতা, তেমনই ভীষণ পরিশ্রমী মানুষ। আমি যে কোনও চরিত্রে অভিনয় করতে পারি। কারণ আমি গান-নাচও ভীষণ পছন্দ করি।" উত্তরের পাশেই আঁকা রণবীর সিংয়ের 'হামজা' লুক। সিলেবাসের বাইরে এহেন উত্তর দেখে সাধারণত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চক্ষু চড়ুকগাছ হওয়ার কথা! কিন্তু ওই খুদের মজার উত্তরে সন্তুষ্ট হয়ে সেখানে 'গুড' লিখে দিয়েছেন ক্লাস টিচার। আর সেই ছবিই এখন নেটভুবনবে দাবানল গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। নেটবাসিন্দারাও এমন সহজ-সরল শিশুসুলভ উত্তর দেখে কেউ হেসে গড়িয়েছেন, আবার কেউ বা প্রশংসা করেছেন। একাংশ আবার খুদের শিক্ষকের মনস্তত্ত্বেরও প্রশংসা করলেন।
'ধুরন্ধর' ছবিতে রণবীর সিং। ছবি- ইনস্টাগ্রাম
প্রচারের পালে হাওয়া তুলে হোক কিংবা না হোক, একটা সিনেমা দর্শকমহলের মনে কতটা জায়গা করে নিতে পারলে শিশুদের মনেও প্রভাব ফেলতে পারে, তার অন্যতম উদাহরণ 'ধুরন্ধর'। যা বিশ্বজুড়ে ৩০০০ কোটির ব্যবসা করে ভারতীয় সিনেদুনিয়ায় এক নতুন মাইলস্টোন গড়তে পেরেছে। আসলে কোভিডকাল থেকেই রণবীর সিংয়ের ফিল্মি কেরিয়ারে খানিক ভাঁটা পড়েছিল, বললে অত্যুক্তি হয় না! ‘৮৩’, ‘সার্কাস’, ‘জয়েশভাই জোয়ারদার’ কোনও ছবিই দর্শকদের মনে দাগ কাটতে পারেনি। তেইশে ‘রকি অউর রানি’ ভালো আয় করলেও ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’, ‘গদর ২’ কিংবা ‘অ্যানিম্যাল’-এর ব্যবসার ধারকাছেও ছিল না। চব্বিশ সালে রোহিত শেট্টির ‘সিংহম এগেইন’-এর ডাকসাইটে কাস্টিংয়ে রণবীর সিং থাকলেও, মুখ্য চরিত্রে থাকা অজয় দেবগণ, করিনা কাপুরই সমস্ত লাইমলাইট কেড়ে নিয়েছিলেন। এদিকে ‘ডন ৩’, ভারতীয় সুপারহিরো ‘শক্তিমান’-এর পরিকল্পনাও বিশ বাঁও জলে। এমন আবহে রণবীর সিংয়ের ফিল্মি কেরিয়ারের গ্রাফ দেখে আবার অনেকে সন্দিহান ছিলেন যে, আদৌ এই সিনেমা ২০০ কোটির গণ্ডি পেরতে পারবে কিনা! তবে এবার বক্স অফিসের হিসেব দেখিয়ে নিন্দুকদের যোগ্য জবাব দিলেন অভিনেতা।
