ওপেনিং ইনিংয়েই ২০০ কোটির গণ্ডি পেরিয়ে ছক্কা হাঁকিয়েছে 'ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ'। গত ডিসেম্বর মাসে মুক্তিপ্রাপ্ত 'ধুরন্ধর'-এর পারফরম্যান্স পরখ করে সিনেবাণিজ্য বিশ্লেষকরা আগেই 'ঝকঝকে মার্কশিটে'র আভাস দিয়ে বলেছিলেন, সিক্যুয়েলেও বক্স অফিস বিস্ফোরণ ঘটবে। সেই ভবিষ্যাদ্বাণীই যেন অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেল। মাত্র দু'দিনে বিশ্বজুড়ে ৩৩৩ কোটির ব্যবসা করে ভারতের সিনেইতিহাসে নতুন মাইলস্টোন গড়ল 'ধুরন্ধর ২'। আর সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজির হাত ধরেই যে রণবীর সিংয়ের মন্দা কেরিয়ারের শাপমোচন ঘটল, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু স্বামীর এমন সাফল্যের দিনে কিনা টুঁ শব্দটি করলেন না দীপিকা পাড়ুকোন!
আদিত্য ধর পরিচালিত এই সিনেমা বলিউডের 'গেম চেঞ্জার' তকমা পাওয়ার পাশাপাশি দক্ষিণী সিনেইন্ডাস্ট্রির তরফেও প্রশংসা অর্জন করেছে। আল্লু অর্জুন, রামচরণ থেকে রাজামৌলীর মতো তাবড় তারকা 'ধুরন্ধর ২'-এর সাফল্যে সোশাল মিডিয়ায় কলম ধরেছেন। সেখানে দীপিকার তরফে কোনও বাক্যব্যয় না দেখে প্রশ্ন তুলেছে ভক্তমহল।
'ধুরন্ধর ২: দ্য রিভেঞ্জ'-এর প্রিমিয়ারে অনুপস্থিত থাকলেও অনুরাগীদের আশা ছিল, মস্তানি অন্তত পয়লা দিনের মারকাটারি বক্স অফিস গ্রাফ দেখে নেটভুবনে শুভেচ্ছা জানাবেন। কারণ আদিত্য ধর পরিচালিত এই সিনেমা বলিউডের 'গেম চেঞ্জার' তকমা পাওয়ার পাশাপাশি দক্ষিণী সিনেইন্ডাস্ট্রির তরফেও প্রশংসা অর্জন করেছে। আল্লু অর্জুন, রামচরণ থেকে রাজামৌলীর মতো তাবড় তারকা 'ধুরন্ধর ২'-এর সাফল্যে সোশাল মিডিয়ায় কলম ধরেছেন। সেখানে দীপিকার তরফে কোনও বাক্যব্যয় না দেখে প্রশ্ন তুলেছে ভক্তমহল। বরং রিলিজের পরের দিনই মুম্বইয়ে রিষভ রিখিরাম-এর কনসার্ট উপভোগ করতে দেখা যায় মস্তানিকে। আর সেসব ক্যামেরাবন্দি মুহূর্ত নেটভুবনে ছড়িয়ে পড়তেই সমালোচনার শিকার দীপিকা পাড়ুকোন। বেধড়ক কটাক্ষের শিকারও হতে হচ্ছে তাঁকে।
'ধুরন্ধর ২: দ্য রিভেঞ্জ'-এর সাফল্যে শুভেচ্ছা না জানিয়ে কটাক্ষের শিকার দীপিকা পাড়ুকোন। ছবি- সংগৃহীত
প্রশ্ন উঠেছে, 'মুম্বইতে কনসার্ট উপভোগ করছেন দীপিকা, অথচ 'ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ'-এর প্রিমিয়ারে গেলেন না। এমনকী স্বামীর হয়ে সোশাল মিডিয়ায় দুটো শব্দ পর্যন্ত লিখলেন না! বিষয়টা রহস্যজনক নয়?' কেউ বা মনে করিয়ে দিলেন, 'ইনস্টাগ্রামে গাজা এবং জেএনইউ নিয়ে দীর্ঘ পোস্ট করেন, কিন্তু ধুরন্ধর টিমকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটা কথাও লেখেননি।' এহেন নানা মন্তব্যে ছেয়ে গিয়েছে নেটভুবন। দীপিকা যদিও পালটা প্রত্যুত্তর করেননি, তবে উল্লেখ্য প্রথমপর্ব রিলিজের প্রাক্কালে স্বামী রণবীর সিংয়ের ছবি শেয়ার করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন অভিনেত্রী। কিন্তু এবার কেন চুপ? প্রশ্ন তুলেছেন রণবীর ভক্তরা।
প্রসঙ্গত, কোভিডকাল থেকেই রণবীর সিংয়ের ফিল্মি কেরিয়ারে খানিক ভাঁটা চলছিল! ‘৮৩’, ‘সার্কাস’, ‘জয়েশভাই জোয়ারদার’ কোনও ছবিই দর্শকদের মনে দাগ কাটতে পারেনি। তেইশে ‘রকি অউর রানি’ ভালো আয় করলেও ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’, ‘গদর ২’ কিংবা ‘অ্যানিম্যাল’-এর ব্যবসার ধারকাছেও ছিল না। চব্বিশ সালে রোহিত শেট্টির ‘সিংহম এগেইন’-এর ডাকসাইটে কাস্টিংয়ে রণবীর সিং থাকলেও, মুখ্য চরিত্রে থাকা অজয় দেবগণ, করিনা কাপুরই সমস্ত লাইমলাইট কেড়ে নিয়েছিলেন। ফলত, 'ধুরন্ধর'-এর হাত ধরেই যে রণবীরের দাপুটে প্রত্যাবর্তন ঘটল, তা বলাই বাহুল্য। অন্যদিকে হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিরও মান রেখেছেন তিনি। কারণ এযাবৎকাল দক্ষিণী ছবির গুঁতোয় সিনেবাজারে পিছু হঠতে হত বলিউডকে। তবে রণবীর সিংয়ের সুবাদে কলার উঁচু করার সুযোগ পেল হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। কারণ ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ ভারতের সিনেইতিহাসে প্রথম দিনে সর্বোচ্চ আয়কারী হিসেবে শীর্ষস্থানে থাকা দক্ষিণী সিনেমাগুলিকে বড় অঙ্কের ব্যবধানে টেক্কা দিয়েছে ‘ধুরন্ধর’ সিক্যুয়েল। সেই তালিকায় ‘পুষ্পা ২: দ্য রুল’ (১৬৪.২৫ কোটি টাকা), ‘আরআরআর’ (১৩৩ কোটি টাকা), ‘বাহুবলী ২: দ্য কনক্লুশন’ (১২১ কোটি টাকা) এবং ‘কেজিএফ ২’ (১১৬ কোটি টাকা)-এর মতো তাবড় সিনেমাগুলি রয়েছে। অতঃপর ‘ধুরন্ধর’-এর হাত ধরেই যে রণবীর সিংয়ের মন্দা কেরিয়ারের ‘শাপমোচন’ ঘটল, তা বলাই বাহুল্য। এহেন সাফল্যেও দীপিকা পাড়ুকোনের 'নিস্তব্ধতা' ভাবিয়ে তুলেছেন অনুরাগীদের।
