রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়: শূন্যের গেরো কাটাতে মরিয়া সিপিএম। গ্রামের মেহনতী মানুষের মন পেতে দলের তরুণ ব্রিগেডকে নিয়ে মাঠে নেমে ‘প্র্যাকটিকাল’ ক্লাস করানোর সিদ্ধান্ত নিল আলিমুদ্দিন। এতদিন পার্টি ক্লাসের রেওয়াজ তো ছিলই। এবার তরুণদের জন্য হাতে-কলমে ক্লাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেই ক্লাস করতে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, সৃজন ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে কলতান দাশগুপ্ত, দীপ্সিতাদেরও মাঠে নামতে হবে। যেতে হবে প্রান্তিক মানুষের দরবারে। শিক্ষক হিসেবে থাকবেন মহম্মদ সেলিম থেকে শুরু করে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী ও কেন্দ্রীয় কমিটির তাবড় নেতারা।

একুশের বিধানসভা ভোটে শূন্য হতে হয়েছে সিপিএমকে। চব্বিশের লোকসভা ভোটেও শূন্যের গেরো কাটেনি। একের পর এক উপনির্বাচনেও পার্টির রক্তক্ষরণ হয়ে চলেছে। শুধু তাই নয়, গত লোকসভা নির্বাচনে দুটি আসন ছাড়া বাকি ৪০টি আসনেই জামানত জব্দ হয়েছে সিপিএম-সহ বাম প্রার্থীদের। সদ্য ছয় বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনেও একই হাল। তরুণ মুখ সামনে এনেও পার্টির কোনও লাভ হয়নি। তাই এবার গ্রামের মানুষের মন পেতে নয়া পন্থা আলিমুদ্দিনের। তাই পুঁথিগত স্টাডি সার্কেল থেকে বেরিয়ে এবার হাতে-কলমে শিক্ষা।
জানুয়ারি মাস থেকে শুরু হতে চলা এই প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের কর্মসূচি সিপিএমে নজিরবিহীন। আগে কখনও হয়নি। ছাব্বিশের ভোটের আগে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া চেষ্টা আলিমুদ্দিনের। সূত্রের খবর, মূলত গণসংগঠনগুলিকে দিয়ে ছাত্র-যুবদের টিম তৈরি করে রাজ্যের সব জায়গায় সংগঠনের কাজ করানো হবে। আর শহর থেকে নেতারা যাবেন। গ্রামের মানুষের মন বোঝার পাঠ শহরের নেতাদের দেওয়া হবে। এই কর্মসূচিকে সামনে রেখে তৈরি হচ্ছে প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের সিলেবাসও। এ প্রসঙ্গে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সংবাদ মাধ্যমে বলেন, ‘‘সিপিএম একমাস দল যাদের একটা স্থায়ী পার্টি স্কুল আছে। এবার ওয়ার্কশপে হাতে-কলমে কাজ শেখানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’’