ক্রিকেটে নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকলেও শুটিংয়ে নেই। তাই ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup) খেলতে না এলেও এশিয়ান শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ। পদ্মাপারের ক্রীড়াকর্তাদের এহেন দ্বিচারিতা ফের উস্কে দিয়েছে বিতর্ক। ব্যক্তিগত ইগো থেকেই যে বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিতে বিসিবি-কে বাধ্য করা হয়েছে, সেই তত্ত্বই যেন প্রতিষ্ঠা পেল শুটিংয়ে ভিন্ন পথে চলায়।
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর হঠাৎ করে ভারতে 'নিরাপত্তা ঝুঁকি' খুঁজে পেয়েছে বাংলাদেশ। এরপরই আইসিসি-কে তারা জানিয়ে দেয়, বিশ্বকাপ খেলতে এদেশে দল পাঠানো হবে না। পরিবর্তে তাদের ম্যাচ দেওয়া হোক শ্রীলঙ্কায়। দফায় দফায় বৈঠক, আশ্বাস-আলোচনা-হুশিয়ারির পরও অবস্থান বদল করেনি বিসিবি। ফলে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পরিবর্তে বিশ্বকাপে ডাক পায় স্কটল্যান্ড। এই পরিস্থিতিতে ক্রীড়াক্ষেত্রে দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠে যায়। কিন্তু সেই 'নিরাপত্ত ঝুঁকি'-র আবহেই এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতিনিধি পাঠানোর জন্য দেশের শুটিং ফেডারেশনকে অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
সেইমতো ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ইভেন্টে শুটার রবিউল ইসলামের নাম প্রতিযোগিতার জন্য পাঠানো হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শুরুতে দিল্লিতে হবে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ। সেখানে কোচ শারমিন আক্তারকে সঙ্গী করে যোগ দেবেন রবিউল। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কর্মী হওয়ায় বিশেষ পাসপোর্ট আছে এই শুটারের। ফলে আলাদাভাবে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে না তাঁকে। কোচ আক্তার ইতিমধ্যেই ভিসার জন্য আবেদন করেছেন বলে বাংলাদেশ সূত্রে খবর।
তবে বাংলাদেশের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কেন ক্রিকেটে অরাজি হলেও শুটিংয়ে অনুমতি দেওয়া হল? বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনের সচিব আলেয়া ফিরদৌসী বল পাঠিয়েছেন সেদেশের সরকারের কোর্টে। এদিন হোয়াটসঅ্যাপ কলে বাংলাদেশ থেকে তিনি বলেন, "ক্রিকেট নিয়ে কী হয়েছে, তা জানি। তবে শুটিংয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। এটা ইন্ডিভিজুয়াল স্পোর্টস। তার উপর খেলা হবে ইন্ডোর স্টেডিয়ামে। সেসব বিবেচনা করে আমরা সরকারী ছাড়পত্রের জন্য আবেদন জানাই। সরকার থেকে অনুমতি পাওয়ার পর আমরা রবিউলের নাম প্রতিযোগিতার জন্য পাঠিয়েছি।" ক্রিকেটের 'নিরাপত্ত ঝুঁকি' নিয়ে বড় বড় ভাষণ দিলেও, রবিউলের ক্ষেত্রে সেসব 'চিন্তা' নেই বাংলাদেশের। ফলে তাঁর জন্য আলাদা ব্যবস্থা করার জন্যও ভারতকে কিছু বলা হয়নি বলে জানান আলেয়া।
তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তৎপর হয়েছে ভারতীয় শুটিং অ্যাসোসিয়েশন। এনআরএআই সচিব পবন সিংয়ের কথায়, "আমরা এমনিই বিদেশি প্রতিনিধিদের নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক রাখি না। কারণ কিছু হয়ে গেলে সেটা আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পরিণত হবে। আর ক্রিকেট বিশ্বকাপ নিয়ে যা হয়েছে, তারপর আমরা বাংলাদেশের প্রতিনিধির ক্ষেত্রে আরও মনোযোগী হব।"
