আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ বাতিল বাংলাদেশের। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল লিটন দাসদের। সেপ্টেম্বরেই ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজের (Bangladesh Vs India) কথা রয়েছে। সেটাকে মাথায় রেখে আয়ারল্যান্ড সিরিজ বাতিলের অর্থ হতে পারে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক 'ভালো' করার কথা ভাবছে বাংলাদেশ সরকার। ক্রিকেটও সেখানে একটা হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। আগের সরকারের আমলে যেভাবে ভারতকে 'বয়কটের' নীতি নিয়েছিল, সেখান থেকে সরে আসছে তারেক রহমান সরকার।
সূচি অনুযায়ী, আয়ারল্যান্ড সফরে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু আয়ারল্যান্ড চলতি বছরের যে সূচি ঘোষণা করেছে, তাতে বাংলাদেশের বিপক্ষে কোনো সিরিজ রাখা হয়নি। মনে করা হচ্ছে, যাতায়াতের সমস্যার জন্য এই সিরিজ বাতিল করা হয়েছে।
যার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্তা বলছেন, "গত বছরের ভারত সিরিজটি এবছরের সেপ্টেম্বরে হওয়ার কথা রয়েছে। তাই আমরা আয়ারল্যান্ডকে জিজ্ঞাসা করি যে তারা অন্য কোনও সময়ে খেলতে পারবে কি না। তারা জানায় সেটা সম্ভব নয়। তাই সিরিজ স্থগিত করা হয়েছে। তারা কিছু অন্যান্য সমস্যার মুখেও পড়েছিল। আমরা চেষ্টা করব আগামী বছরে সিরিজটি আয়োজন করার।"
আসলে ২০২৫-র জুলাই মাসে বাংলাদেশ সফরে যাওয়ার কথা ছিল ভারতের। কিন্তু সেই সফরে আর যায়নি টিম ইন্ডিয়া। বাংলাদেশের অশান্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন শাসকদের তীব্র ভারত-বিরোধিতা যার নেপথ্যে একটা বড়সড় ভূমিকা রেখেছিল বলে মনে করা হয়। এবছরের সেপ্টেম্বরে টিম তিনটে ওয়ানডে এবং তিনটে টি-টোয়েন্টি ভারতের বিরুদ্ধে হওয়ার কথা। তবে ভারত সরকার বাংলাদেশে যাওয়ার ছাড়পত্র দেয় কি না, সেটা দেখার।
গত বছরের ভারত সিরিজটি এবছরের সেপ্টেম্বরে হওয়ার কথা রয়েছে। তাই আমরা আয়ারল্যান্ডকে জিজ্ঞাসা করি যে তারা অন্য কোনও সময়ে খেলতে পারবে কি না। তারা জানায় সেটা সম্ভব নয়।
এর আগে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে রাজি হয়নি বাংলাদেশ। তখন ছিল মহম্মদ ইউনুসের সরকার। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পর পড়শি দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তারেক রহমান। তারপর থেকে ক্রিকেটীয় বিষয়েও সুর নরম করেছে বিসিবি। ভারত সফরের জন্য সময় 'ফাঁকা' রাখা সেই মৈত্রীর সুর বলেও মনে করছেন অনেকে। তাছাড়া আরেকটা সমস্যা হল, ২০২৭-র ওয়ানডে বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করার জন্য বাংলাদেশকে প্রথম আটটি দলের মধ্যে থাকতে হবে। বাংলাদেশ আছে নবম স্থানে। এই পরিস্থিতিতে যত বেশি ম্যাচ খেলবে, তত সুবিধা পাবে বাংলাদেশ।
