মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হঠাৎ হলটা কী? আইপিএল ইতিহাসের অন্যতম সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি তারা। চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে যৌথভাবে পাঁচখানা ট্রফির মালিক মুম্বই। প্রায় অর্ধেক ভারতীয় টিম খেলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স জার্সিতে। হার্দিক পাণ্ডিয়া, রোহিত শর্মা, সূর্যকুমার যাদব, জশপ্রীত বুমরাহ, তিলক বর্মা-কে নেই টিমে? কিন্তু তা সত্ত্বেও গত কয়েক বছর ধরে যেন ‘গ্রহণ’ লেগেছে মুম্বইয়ে। শিরোপা দূরস্থান। সম্মানজনক ক্রিকেটটাই তারা খেলতে পারছে না!
আইপিএল উনিশেই যেমন। টুর্নামেন্টের সাতটা ম্যাচ খেলে তারা জিতেছে মাত্র দু’টোয়। মাঝে গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে তিলক বর্মা একার হাতে মুম্বইকে জিতিয়ে দেওয়ার পর মন হয়েছিল, বরাবরের ‘লেট স্টার্টার’ মুম্বই এবার হয়তো ফর্মে ফিরবে। কিন্তু কোথায় কী? উলটে ঘরের মাঠে তার পরের ম্যাচে শতাধিক রানে হেরে বসেছে মুম্বই! চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সিএসকের বিরুদ্ধে টিমের পারফরম্যান্স দেখে এতটাই হতাশবিদ্ধ হয়ে পড়েন মালিক আকাশ আম্বানি যে, মুম্বই সমর্থকদের মাঠ ছেড়ে বাড়ি ফিরে যেতে বলেন! যেন বলতে চাইছিলেন, বাড়ি ফিরে যান আপনারা। এ খেলা দেখে লাভ নেই।
কেউ কেউ বলছেন, ক্লান্তি। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স স্কোয়াডের প্রচুর ক্রিকেটার গত মাসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলে উঠেছেন। বলাবলি চলছে, তার ক্লান্তি নির্ঘাৎ তাড়া করছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে। কিন্তু টিমের কোচ মাহেলা জয়বর্ধনে সেই ক্লান্তির তত্ত্ব পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছেন। সিএসকের কাছে হেরে জয়বর্ধনে বলে দেন, ‘‘আধুনিক যুগে সবাই পেশাদার ক্রিকেটার। এখানে ক্লান্তির অজুহাত দিয়ে কোনও লাভ নেই। যারা কি না বিশ্বকাপ খেলেছে, তারা টুর্নামেন্ট শেষে বিশ্রাম নিয়েই আইপিএল খেলতে এসেছে। আমার মনে হয় না, প্লেয়াররা নিজেরাও ক্লান্তির কথা বলবে বলে। আমরা পিছিয়ে পড়ছি ধারাবাহিকতায়। আত্মবিশ্বাসে। শৃঙ্খলায়। ফোকাসে। সেই সবকে ফেরাতে হবে। ক্লান্তি কোনও ফ্যাক্টরই নয়।’’
হার্দিক পাণ্ডিয়া। ফাইল ছবি।
মুম্বইয়ের পরের পর হারে হার্দিক পাণ্ডিয়ার নেতৃত্বও অনুবীক্ষণ যন্ত্রের তলায় পড়ছে। রোহিত শর্মাকে সরিয়ে হার্দিককে অধিনায়ক করেছিল মুম্বই। সেই সময় দেশজুড়ে ক্রিকেট-জনতার রোষে পড়তে হয় অলরাউন্ডারকে। কালের নিয়মে সেই উষ্মা ঝিমিয়ে গিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, মুম্বইয়ের মতো সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি বিচারে হার্দিক যোগ্য অধিনায়ক তো? ভারতের তিরাশির বিশ্বজয়ী দলের সদস্য কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত যেমন সিএসকে-র বিরুদ্ধে হারের পর হার্দিকের অধিনায়কত্বকে কাঠগড়ায় তুলে দিয়েছেন। শ্রীকান্ত সমালোচনা করেছেন, সিএসকে ইনিংসের শেষ ওভার হার্দিকের নিজে না করে কৃষ ভগতের মতো আনকোরা বোলারকে দিয়ে করানোয়। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে রীতিমতো চাঁচাছোলা ভাষায় বলেছেন, ‘‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যে কি না ডেথ ওভারে বোলিং করেছে, সে আইপিএলে একই পরিস্থিতিতে ভয় পাচ্ছে! মুম্বইয়ের সমস্যার শুরু এখানেই। এই জন্যই টস জিতলে ব্যাট করে নেওয়া উচিত। তা হলে অন্তত কারও একজনের নায়ক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকে। মুম্বইয়ের আগের ম্যাচে যেমন তিলক বর্মা নায়ক হয়ে গেল। বৃহস্পতিবার সিএসকের সঞ্জু স্যামসন হয়ে গেল। হার্দিক পাণ্ডিয়া এক্ষেত্রেও ভুল করেছে।’’
না, এখানেই ভারতীয় অলরাউন্ডারকে রেহাই দেননি শ্রীকান্ত। হার্দিক নিয়ে তাঁর অভিযোগ আরও রয়েছে। যেমন, কঠিন সময়ে বল বা ব্যাট হাতে দায়িত্ব নিতে না চাওয়া। যেমন, ট্যাকটিক্সে ডাহা ফেল করা। শ্রীকান্ত বলছেন, ‘‘জঘন্য অধিনায়কত্ব। হার্দিকের উচিত ছিল টস জিতে ব্যাট করা। একমাত্র কেকেআর ম্যাচ বাদ দিলে, প্রত্যেক ক্ষেত্রে বিপক্ষের চেয়ে পিছিয়ে ছিল মুম্বই। তার উপর তুমি টিমের প্রধান বোলারদের একজন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ডেথ ওভারে বোলিং করেছ। অথচ তুমি কি না সেটা আইপিএলে করছ না! কৃষ ভগতকে শেষ দু’ওভার করতে পাঠাচ্ছ। বল হাতে, ব্যাট হাতেও খুব খারাপ করছে হার্দিক। আমার তো মনে হচ্ছে, বোলার হার্দিক, ব্যাটার হার্দিক, অধিনায়ক হার্দিক, তিনজনেরই আত্মবিশ্বাস শেষ হয়ে গিয়েছে!’’ পরের ম্যাচে পালটা জবাব দেবেন হার্দিক? ব্যাটে-বলে-অধিনায়কত্বে?
