শুভেন্দু অধিকারীর আত্মসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠল রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনি-সহ একাধিক এলাকায় বিক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে পথে নামে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। বৃহস্পতিবার ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রের ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। এর জেরে দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে যান চলাচল। অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতেও টায়ার জ্বালিয়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিজেপির কর্মী সমর্থকরা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক খুনের ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সরব হন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, ঘটনার পর বহু সময় কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। ডায়মন্ড হারবারে ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়। এর জেরে জাতীয় সড়কের দুই দিকেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বহু অফিসযাত্রী, স্কুল পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষকে সমস্যায় পড়তে হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশের আশ্বাসের পর বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেন।
অন্যদিকে, প্রতিবাদের আঁচে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির ভাদুতলায়। ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কে আগুন জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। জাতীয় সড়কের উপর টায়ার ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। ফলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
শুভেন্দুর আপ্তসহায়ককে খুনের ঘটনায় রাজ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক হিংসায় রাজ্যে চারজনের মৃত্যুর খবর সামনে আসে। বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণের মাত্র ২ দিন আগে শুভেন্দুর আপ্তসহায়ককে খুনের ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বিজেপির নেতৃত্বরা প্রথম থেকেই কর্মীদের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার আর্জি জানিয়ে আসছেন। ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে পুলিশ প্রশাসনকে পদক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্যরা। কিন্তু ভোট পরবর্তী হিংসা থামানো সম্ভব হচ্ছে না।
