দলে তাঁর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কম প্রশ্ন ওঠেনি। বরোদায় নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে'র আগে প্রাক্তন ক্রিকেটার রবিচন্দ্রন অশ্বিন এবং প্রিয়াঙ্ক পাঞ্চালরা প্রশ্ন তুলেছিলেন। বিরাট কোহলির তৈরি করে দেওয়া মঞ্চে সেই হর্ষিত রানাই শেষবেলায় ক্যামিও দেখিয়ে ভারতের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। জয়ের পর নিজের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি।
বিরাট কোহলি ৯৩ রানে ফিরতেই যেন ভেঙে পড়ে ভারতীয় ব্যাটিং। তাঁর পরেই আউট রবীন্দ্র জাদেজা ও শ্রেয়স আইয়ার। সেই সময় ম্যাচ হারের আতঙ্ক চেপে বসে। কাইল জেমিসনের গতি ও বাউন্সের সঙ্গে ভারতকে সমস্যায় ফেলে জাকারি ফোকসের মিডিয়াম পেস। কেএল রাহুলকে বসিয়ে কোচ গৌতম গম্ভীর কেন জাদেজাকে আগে পাঠালেন, সেটাও একটা প্রশ্ন। তবে অন্য একটা ‘ফাটকা’ খেটে গেল। ওয়াশিংটন সুন্দর আহত হওয়ায় হর্ষিত রানা ব্যাট করতে নামলেন সাতে। সেখানে ২৩ বলে ২৯ রানের মহামূল্যবান ইনিংস খেলে গেলেন হর্ষিত।
হর্ষিত বলছেন, "টিম ম্যানেজমেন্ট আমাকে একজন অলরাউন্ডার হিসাবে গড়ে তুলতে চায়। আমার কাজ হল এটা নিয়ে আরও পরিশ্রম করা। কতটা ভালো ব্যাটিং করছি, তা মূলত আত্মবিশ্বাসের উপর নির্ভর করে। সতীর্থরা আমার উপর আত্মবিশ্বাসী ছিল। যখন ব্যাট করতে নামি, সেটা আমাকে সাহায্য করেছে। রান করার ব্যাপারে মনোযোগ দিয়েছি। অবশেষে সাফল্য পেয়েছি।"
তাঁর সংযোজন, "দল চায় আমি একজন অলরাউন্ডার হিসাবে আট নম্বরে ব্যাট করি। তাই নেটে বোলিংয়ের পাশাপাশি যতটা সম্ভব ব্যাটিংয়েও নজর দিই। ৭ নম্বরে নেমে ৩০-৪০টা রান করতে পারব, এই বিশ্বাসটুকু নিজের উপর রয়েছে। দলও বিশ্বাস করে, আমি তা করতে পারব। এই বিশ্বাসটাই দলের পরিবেশকে ভালো করে তোলার চাবিকাঠি। সিনিয়র থেকে তরুণরা সবাই যখন ইতিবাচক চিন্তা করে, তখন মাঠেও ভালো কিছু ঘটে।"
উল্লেখ্য, এমন অনবদ্য পারফরম্যান্সের পর হর্ষিতে মুগ্ধ প্রাক্তন ক্রিকেটার মহম্মদ কাইফ। সোশাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, 'আত্মবিশ্বাস একজন পেসারের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা ও দেখিয়ে দিয়েছে। জোরে বল করার সঙ্গে সঙ্গে স্লোয়ার বলও করতে পারে হর্ষিত। একই সঙ্গে সুইং করানোরও ক্ষমতা রয়েছে। বাউন্সার দিতেও ভয় পায় না। এটা ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য ভালো লক্ষণ।" হর্ষিতের প্রশংসা করেছেন ইরফান পাঠানও।
