তিনি বলেছিলেন, গীতা পাঠ অপেক্ষা ফুটবল খেলা ভালো। সেই স্বামী বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকীতে (Swami Vivekananda Birth Anniversary) বিশেষ শ্রদ্ধা জানাল কেকেআর (KKR)। সোমবার তাঁর ১৬৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নাইটদের তরফ পোস্ট করা হয় স্বামীজিকে নিয়ে বিশেষ ভিডিও। উত্তর কলকাতার সিমলায় যে বাড়িতে জন্ম নিয়েছিলেন স্বামীজি, সেই বাড়ির দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে ওই ভিডিওতে। স্বামীজির অনুপ্রেরণায় এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে নাইটরা।
মানবজীবনে খেলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ঠিক কী বলেছিলেন স্বামীজি? সেটা ১৮৯৭ সাল। দিয়েছিলেন ‘ভারতীয় জীবনে বেদান্তর প্রয়োগ’ শীর্ষক বক্তৃতা। আর সেখানেই উঠে আসে ফুটবল খেলা ও গীতাপাঠ প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, ”আমরা দুর্বল, অতি দুর্বল। প্রথমত আমাদের শারীরিক দৌর্বল্য- এই শারীরিক দৌর্বল্য আমাদের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ দুঃখের কারণ।” পরে সেকথা বিশদে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিবেকানন্দ জানিয়েছিলেন, ”আমাদের যুবকগণকে প্রথমত সবল হইতে হইবে, ধর্ম পরে আসিবে। হে আমার যুবক বন্ধুগণ, তোমরা সবল হও-তোমাদের নিকট ইহাই আমার বক্তব্য। গীতাপাঠ অপেক্ষা ফুটবল খেলিলে তোমরা স্বর্গের আরও নিকটবর্তী হইবে।
এই বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, শরীরকে মজবুত করতে না পারলে কোনও কিছুই করে ওঠা সম্ভব নয়, যুব সম্প্রদায়কে সেটাই বোঝাতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর এই বক্তব্যের খণ্ডিত অংশকে আলাদা করে তুলে ধরে এর অপব্যাখ্যা অনেক সময়ই হয়। কিন্তু ‘উপনিষদ ও আত্মার মহিমা ভালো’ করে বুঝতেই যে শক্ত শরীরের কথা বলেছিলেন, তা বলা হয় না। তবে বর্তমানে স্বামীজির আদর্শকে মনে রেখে তাঁর জন্মদিবসেই পালিত হয় জাতীয় যুব দিবস।
খেলাধুলা নিয়ে বরাবরের আগ্রহী স্বামীজির জন্মদিবসে কেকেআর তুলে ধরেছে, তাঁর জন্মভিটে নিয়ে কীভাবে শুরু হয়েছিল আইনি জটিলতা। ১৮৮৪ সালে স্বামীজির বাবার মৃত্যুর পর আচমকাই সিমলার বাড়ির মালিকানা দাবি করেন স্বামীজির এক আত্মীয়া। বছরের পর বছর ধরে আইনি যুদ্ধ চলে এই বাড়ি নিয়ে। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কিছু আগে মামলায় জিতে বাড়ির মালিকানা যায় বিবেকানন্দের মায়ের হাতে। স্বামীজির মৃত্যুর পরে তাঁর আদর্শ বাঁচিয়ে রাখতে ওই বাড়ি গ্রহণ করে রামকৃষ্ণ মিশন। তৈরি হয় বিবেকানন্দের নামে মিউজিয়াম। আজও সেখানে ভিড় জমান আমজনতা। সেই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে কেকেআরের বার্তা, 'শক্ত মন আর নির্ভীক হৃদয়। এটাই স্বামীজির অনুপ্রেরণা।' জাতীয় যুব দিবসের শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে নাইটদের তরফে।
