বিফলে গেল বিরাট কোহলির ১২৪ রানের ইনিংস। কাজে এল না হর্ষিত রানার লড়াকু ইনিংসও। ইন্দোরে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩৩৮ রান তাড়া করতে নেমে ভারতের ইনিংস থেমে গেল ২৯৬ রানে। ৪১ রানে ম্যাচ হেরে সিরিজও হারল ভারত। ওয়ানডেতে অধিনায়ক শুভমান গিল এখনও সিরিজ জিততে পারেননি। এই প্রথমবার ভারতের মাটিতে সিরিজ জিতল নিউজিল্যান্ড। কোহলির ফর্ম ছাড়া অনেক কিছু নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটের বছর শুরু হল।
বোলিং বিভ্রাট: প্রথম প্রশ্ন অবশ্যই বোলিং নিয়ে। জশপ্রীত বুমরাহ না থাকলে এই দলটার বোলিংয়ে কোনও আত্মবিশ্বাস আছে কি? অর্শদীপ সিং, হর্ষিত রানারা ৩ উইকেট নিলেন ঠিকই। কিন্তু রান বিলোলেন। তুলনায় কম রান দিলেন মহম্মদ সিরাজ। আরও একটি ম্যাচ উইকেটশূন্য থাকলেন রবীন্দ্র জাদেজা। এই সিরিজের পর কিন্তু জাদেজার ওয়ানডে ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা উঠতে বাধ্য। পিছনে অক্ষর প্যাটেলের মতো ক্রিকেটার সুযোগের অপেক্ষা করছেন।
গৌতম আরও গম্ভীর: ঠিক কী করতে চান গৌতম গম্ভীর? কাকে খেলাবেন, কোথায় খেলাবেন, সেটা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অর্শদীপ সিংকে প্রথম দু'টি ম্যাচে বসিয়ে রাখা হল। মরণবাঁচন ম্যাচে নামানো হল। একসময় রোহিত-কোহলিকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। অথচ রবীন্দ্র জাদেজা খেলছেন। বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও দুর্দশা অব্যাহত জাদেজার। এদিন কোহলি তবু লজ্জা ঢাকার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ক্রিকেট তো একার খেলা নয়। কোচ গৌতম গম্ভীর আশা করি সেটা বুঝতে পারছেন। আর না বুঝলে ২০২৭ বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখাটাই বিলাসিতা হয়ে যেতে পারে দেশের ক্রিকেটভক্তদের।
অধিনায়ক গিল: প্রশ্ন উঠবেই, আদৌ কি ওয়ানডেতে ভারতের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তৈরি তিনি? কারণ, এর আগে রোহিত-কোহলি-ধোনিরা সামনে থাকে নেতৃত্ব দিতেন। ফিল্ডিংয়ের সময় উদ্ধুদ্ধ করতেন। সঙ্গে রান করতেন। গিল দুটোর কোনওটাই করছেন না। একটা সময়ে দেখা যায়, বোলারদের সঙ্গে কথা বলে রণকৌশল সাজাচ্ছেন কেএল রাহুল। সেই দেখেই ধারাভাষ্যকার ইয়ান স্মিথ স্পষ্ট বলে বসেন, গিল কার্যত মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছে। আসলে লং অফে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অধিনায়ক যদি দূরে দূরে ঘুরে বেড়ান, দলের ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস কি থাকবে?
কোহলি নির্ভরতা: আজও ভারতীয় ক্রিকেটের একক যোদ্ধা। কে বা কারা যেন মাঝে চেষ্টা করেছিল, বিরাট কোহলিকে বাদ দিতে। বাদ? বিরাটের একটাই মতবাদ- রান করে যাও, সমালোচকরা নিজে থেকেই চুপ করে যাবে। এদিনের ১০৮ বলে ১২৪ রানের ইনিংসটা থেকে তরুণ ক্রিকেটাররা শিখতে পারেন, কীভাবে চাপ সামলাতে হয়। কীভাবে প্রতিপক্ষকে পালটা চাপে ফেলতে হয়। দ্রুত গতিতে স্ট্রাইক রোটেট করতে ৩৭ বছরের কোহলির জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু কারও সঙ্গ পেলেন না। ভারত ম্যাচও হারল।
মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা: সেখান থেকে আরেকটা প্রশ্ন ওঠে। ভারতীয় মিডল অর্ডার কিন্তু ফের ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপ, এমনকী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও যা চোখে পড়েনি। চোট-আঘাতের সমস্যা আছে। তাছাড়া গম্ভীরের পরীক্ষানিরীক্ষা তো লেগেই আছে। সব মিলিয়ে একটা অনিশ্চয়তা রয়েছেই। শ্রেয়স আইয়ারও কেমন খেই হারিয়েছেন। বড় চোট থেকে ফেরার পর প্রথম ওয়ানডেতে রান পেয়েছিলেন। বাকি দুটো ওয়ানডেতে ব্যাট কথা বলল না। কেএল রাহুল এদিন মাত্র ১ রানে আউট।
